বল্ সখি বল্ ওরে স'রে যেতে বল্

বাণী

বল্ সখি বল্ ওরে স'রে যেতে বল্।
মোর মুখে কেন চায় আঁখি-ছলছল,
	ওরে স'রে যেতে বল।।
পথে যেতে কাঁপে গা শরমে জড়ায় পা,
মনে হয় সারা পথ হয়েছে পিছল
	ওরে স'রে যেতে বল।।
জল নিতে গিয়ে সই ওর চোখে চেয়ে রই
সান-বাঁধা ঘাট যেন কাঁপে টলমল
	ওরে স'রে যেতে বল।।
প্রথম বিরহ মোর
চায় কি ও চিত-চোর;
চাঁদিনী চৈতী রাতে আনে সে বাদল
	স'রে যেতে বল
	ওরে স'রে যেতে বল।।

আঁধার মনের মিনারে মোর

বাণী

আঁধার মনের মিনারে মোর হে মুয়াজ্জিন, দাও আজান
গাফেলতির ঘুম ভেঙে দাও হউক নিশি অবসান।।
	আল্লাহ নামের যে তক্‌বীরে
	ঝর্না বহে পাষাণ চিরে
শুনি’ সে তক্‌বিরের আওয়াজ জাগুক আমার পাষাণ প্রাণ।।
জামাত ভারি জমবে এবার এই দুনিয়ার ঈদগাহে,
মেহেদী হবেন ইমাম সেথায় রাহ্ দেখাবেন গুমরাহে।
	আমি যেন সেই জামাতে
	সামিল হতে পারি প্রাতে
ডাকে আমায় শহীদ হতে সেথায় যতো নওজোয়ান।।

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

বাণী

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।

তুষার-মৌলি জাগো জাগো গিরি-রাজ

বাণী

তুষার-মৌলি জাগো জাগো গিরি-রাজ।
পঙ্গু তোমারে আজি হানিতেছে লাজ।।
রুদ্র ও রুদ্রাণী অঙ্কে যাহার,
দৈত্য হরিছে আজ সম্মান তার।
হে মহা-মৌনী, জাগো, পর নব সাজ।।
স্বর্গ তোমার শিরে, পদতলে হায়,
আর্যাবর্ত কাঁদে চির অসহায়
মেঘ-লোক হ’তে হান দৈত্যেরি বাজ।।

আমরা পানের নেশার পাগল

বাণী

আমরা পানের নেশার পাগল, লাল শারাবে ভর গেলাস
পান-বেহুশে আয় রেখে ঐ সাকির বিলোল্ আঁখির পাশ।।
চাঁদ পিয়ালায় রবির কিরণ ঢালার মতো শারাব ঢাল,
ছায় না যেন দিনের আনন কস্তূরী-কেশ খোঁপার ফাঁস।।
শারাবখানার সদর-ঘরে বসো খানিক ধর্মাধিপ,
এই আনন্দ-ধারায় নেয়ে নাও ধুয়ে সব পাপের রাশ।।
মোমের বাতির মতো, সুফী কেঁদে গলাও আপনাকে!
এই বিষাদ এই ব্যথার পারে দাও আনন্দ ভর্‌-আকাশ।।
নূতন দিনের বধূ যদি আসে তোমার, খোশ-নসিব!
যৌতুক তায় দিও লিখে হাফিজের এই প্রেম-বিলাস।।

ও কালো শশী রে বাজায়ো না

বাণী

		ও কালো শশী রে, বাজায়ো না আর বাঁশী রে।
		বাঁশী শুনিতে আসি না আমি, জল নিতে আসি হে।।
		আঁচল দিয়ে মুছি বন্ধু কাজলেরই কালি,
		যায় না মোছা তোমার কালি লাগলে বনমালী;
তোমার	বাঁশী শুনে ভেসে গেল কত রাধার মুখের হাসি রে।।
		কাল নাগিনীর ফণায় নাচো, বুঝবে তুমি কিসে,
		কত কুল-বধূ মরে ঐ বাঁশরীর বিষে (বন্ধু)
		ঘরে ফেরার পথ হারায়ে ফিরি তোমার পায়ে পায়ে,
		জলের কল্‌সি জলে ডোবে, আমি আঁখি জলে ভাসি রে।।