জল ছল ছল এসো মন্দাকিনী

বাণী

জল ছল ছল এসো মন্দাকিনী।
রস-ঢলঢল বারি-সঞ্চারিণী।।
হৃদয়-গগন আজি তৃষ্ণা-ভরে
উতল হইল প্রেম-গঙ্গা-তরে,
মুদিত নয়ন খোলো বৈরাগিনী।।
বিরস ভুবন রাখ সঞ্জীবিতা
সজল সলিল আনো হিল্লোলিতা,
ঝর ঝর ঝর স্রোত-উন্মাদিনী।।

তুমি ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে

বাণী

তুমি	ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে।
তুমি	কান্না পাওয়াও কাননকে গো ফুল-ঝরা প্রভাতে॥
তুমি	ভৈরবী সুর উদাস বিধুর
	অতীত দিনের স্মৃতি সুদূর,
তুমি	ফোটার আগে ঝরা মুকুল বৈশাখী হাওয়াতে॥
তুমি	কাশের ফুলের করুণ হাসি মরা নদীর চরে
তুমি	শ্বেত-বসনা অশ্রুমতী উৎসব-বাসরে।
তুমি	মরুর বুকে পথ-হারা
	গোপন ব্যথার ফল্গুধারা,
তুমি	নীরব বীণা বাণীহীনা সঙ্গীত-সভাতে॥

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায়

বাণী

আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি।
খুলে দাও রং মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি।।
গোপনে চৈতী হাওয়ায় গুল্‌-বাগিচায় পাঠালে লিপি,
দেখে তাই ডাক্‌ছে ডালে কু কু ব’লে কোয়েলা ননদী।।
পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখে সখি
বরষায় সেই ভরসায় মোর পানে চায় জল-ভরা নদী।।
তোমারি অশ্রু ঝলে শিউলি তলে সিক্ত শরতে,
হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।।
পউষের শূন্য মাঠে একলা বাটে চাও বিরহিণী,
দুঁহু হায় চাই বিষাদে, মধ্যে কাঁদে তৃষ্ণা-জলধি।।
ভিড়ে যা ভোর-বাতাসে ফুল-সুবাসে রে ভোমর কবি
ঊষসীর শিশ্‌-মহলে আস্‌তে যদি চাস্‌ নিরবধি।।

মা এসেছে মা এসেছে মা এসেছে রে

বাণী

মা এসেছে, মা এসেছে, মা এসেছে রে
মা এসেছে, মা এসেছে উঠ্‌ল কলরোল।
(ওরে) দিকে দিকে বেজে ওঠে সানাই কাঁসর ঢোল॥
ভরা নদীর কূলে কূলে, শিউলি শালুক পদ্মফুলে।
মায়ের আসার আভাস দুলে আনন্দ-হিল্লোল,
সেই খুশিতে পড়ল নিটোল নীল আকাশে টোল্॥
বিনা কাজের মাতন রে আজ কাজে দে ভাই ক্ষমা,
বে-হিসাবী করব খরচ সাধ যা আছে জমা।
এক বছরের অতৃপ্তি ভাই, এই ক’দিনে কিসে মিটাই,
কে জানে ভাই ফিরব কিনা আবার মায়ের কোল্ ।
আনন্দে আজ আনন্দকে পাগল ক’রে তোল্॥

আমার উমা কই গিরিরাজ

বাণী

আমার উমা কই গিরিরাজ, কোথায় আমার নন্দিনী।
এ যে দেবী দশভুজা এ কোন্ রণ-রঙ্গিণী॥
	মোর লীলাময়ী চঞ্চলারে ফেলে
	এ কোন দেবীমূর্তি নিয়ে এলে,
এ যে মহীয়সী মহামায়া বামা মহিষ-মর্দিনী॥
মোর মধুর স্নেহে জ্বালতে আগুন আন্‌লে কারে ভুল ক’রে,
এরে কোলে নিতে হয় না সাহস ডাকতে নারি নাম ধ’রে।
	কে এলি মা দনুজ-দলন বেশে
	কন্যারূপে মা ব’লে ডাক হেসে হেসে,
তুই চিরকাল যে দুলালী মোর মাতৃস্নেহে বন্দিনী॥

মাগো আমি মন্দমতি

বাণী

	মাগো আমি মন্দমতি তবু যে সন্তান তোরই
(হায়)	পুত্র বেড়ায় কাঙাল বেশে মা যার ভূবনেশ্বরী।।
		তুই যে এত হানিস হেলা
	(তবু)	তোকেই ডাকি সারা বেলা
	মার খেলে মা’র শিশুর মত মাগো তোকেই জড়িয়ে ধরি।।
	মা হয়ে তুই কেমন করে কোল থেকে তোর দিলি ফেলে
	(মাগো)	কেন দিলি ধুলায় ফেলে?
	(আমি)	মন্দ এত হতাম না মা মায়ের স্নেহ-সুধা পেলে।
	(মা)	তোর উপরে অভিমানে দু’চোখ যায় যেদিক পানে
	সেই দিকে তাই ধাই মা এখন মরণ-বাঁচন ভয় না করি।।