ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়

বাণী

ক্ষ্যাপা হাওয়াতে মোর আঁচল উড়ে যায়।
খুলে পড়ে গো বাজুবন্দ ধরিতে আঁচল
কোন ঘূর্ণি বাতাস এলো ছন্দ-পাগল
লাগে নাচের ছোঁয়া দেহের কাঁচ মহলায়
হয়ে পায়েলা উতলা সাধে ধরিয়া পায়।।
খুলিয়া পড়ে খোঁপায়, কবরীর ফুলহার
হাওয়ার এই রূপে গো এলো কি বঁধু আমার
এমনি দুরন্ত আদর সোহাগ তার
একি পুলক-শিহরেণে পরান মূরছায়।।

শুকসারী সম তনু মন মম

বাণী

শুকসারী সম তনু মন মম নিশিদিন গাহে তব নাম।
শুকতারা সম ছলছল আঁখি পথ চেয়ে থাকি ঘনশ্যাম।।
	হে চির সুন্দর আধো রাতে আসি’
	বল বল কে বাজায় আশার বাঁশি,
কেন মোর জীবন-মরণ শ্রীহরি তব শ্রীচরণে সঁপিলাম।
কেন গোপন রোদনের যমুনায় জোয়ার আসে?
কেন নব নীরদ মায়া ঘনায় হৃদি-আকাশে।
	দেখা যদি নাহি দেবে কেন মোরে ডাকিলে
	কেন, অনুরাগ-তিলক ললাটে আঁকিলে
কেন কুহু কেকা সম বিরহ অভিমান অন্তরে কাঁদে অবিরাম।।

রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে

বাণী

রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে পায়েলা বাজে
নওল কিশোরী ধায় অভিসারে ভবন তেয়াগি' বন-মাঝে।।
	বারণ করে তায়
	লতিকা ধরি' পায়
ভাব-বিলাসিনী না মানে গুরুজন-ভয় লাজে।।
আবেশ বিহ্বল এলোমেলো কুন্তল ছায়া-নটিনী চলে
মধুকর গুঞ্জে মাধবী কুঞ্জে কুসুম দীপালি জ্বলে।
	সে রূপ হেরি' হায়
	মুরলী থামিয়া যায়
পথ-ভোলা শশী কাননে এলো যেন রাধা-সাজে।।

বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা

বাণী

বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।।
	মুখেতে কল্‌মা হাতে তলোয়ার
	বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার,
	হৃদয়ে লইয়া এশ্‌ক্‌ আল্লার —
	চল্ আগে চল বাজে বিষাণ।
ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
	নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের
	শাহাদত ছিল কাম্য মোদের,
	ভিখারির সাজে খলিফা যাদের —
				শাসন করিল আধা জাহান।
তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
	ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর
	তখনো জাগিনি যখন জোহর,
	হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর —
				মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।।
	শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে
	যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে,
	ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে —
				সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।

শুক বলে মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী

বাণী

শুক বলে, ‘মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী’
সারী বলে, ‘গোঁফের বড়াই আছে বলে দাড়ি
		(ও) আমার গোঁফ পিয়ারি।।’
শুক বলে, ‘মোর বাঁকা গোঁফে দেখে ভুবন ভোলে’
সারী বলে, ‘ঝুলন রাসের দোলনা যে দোলে
		(ও) আমার দাড়ির আশে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ ওষ্ঠে থাকেন গোষ্ঠে যেন কালা’
সারী বলে, ‘আমার দাড়ি কুলের কুলবালা
		(ও) চলেন হেলে দুলে।’
শুক বলে, ‘বীর শিকারিরা এই গোঁফে দেয় চাড়া’
সারী বলে, ‘মুনি ঋষির দেখবে দাড়ি ন্যাড়া
		(ও) কিবা বাহার তোলে।’
শুক বলে, ‘মোর ত্রিভঙ্গিম ঠোঁট বিহারী গোঁফ’
সারী বলে, ‘তমাল কানন আমার দাঁড়ির ঝোপ
		(আ, ও) দখিন হাওয়ায় দোলে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ খুরির দধি চুরি করে খায়’
সারী বলে, ‘দাড়ি মেদীর রং লেগেছে গায়
		(ও, আচ্ছাচ্ছা) যেন হোরির আবির।’
সারী বলে, ‘দাড়ি বড় গোঁফের গরব মিছে’
শুক বলে, ‘দাড়ি যতই বাড়ুক তবু গোঁফের নীচে
		(ও) সারী টিকবে বল’।।

স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর

বাণী

স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর
তুমি আমি দু’জন প্রিয় তুমি আমি দু’জন।
বাহিরে বকুল-বনে কুহু পাপিয়া করে কুজন।।
		আবেশে ঢুলে’ ফুল-শয্যায় শুই
		মুখ টিপে হাসে মল্লিকা যুঁই
কানে কানে গানে গানে কহে ‘চিনেছি উতল সমীরণ’।।
পূর্ণিমা চাঁদ কয়, গান আর সুর, চঞ্চল ওরা দু’জন
প্রেম-জ্যোতি আনন্দ-আঁখিজল, ছল ছল ওরা দু’জন।
মৌমাছি কয়, গুন্‌ গুন্‌ গান গাই
মুখোমুখি দু’জনে সেইখানে যাই
শারদীয়া শেফালি গায়ে পড়ে কয় —
‘ব্রজের মধুবন — এই তো ব্রজের মধুবন’।।