বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর

বাণী

বেণুকার বনে কাঁদে বাতাস বিধুর —
সে আমারি গান, প্রিয় সে আমারি সুর॥
হলুদ চাঁপার ডালে সহসা নিশীথ কালে
ডেকে ওঠে সাথি হারা পাখি ব্যথাতুর॥
নদীর ভাটির স্রোতে শ্রান্ত সাঁঝে
অশ্রু জড়িত মোর সুর যে বাজে।
সে সুরের আভাসে আঁখিপুরে জল আসে,
মনে পড়ে চলে-যাওয়া প্রিয়রে সুদূর॥

আজি মিলন বাসর প্রিয়া হের মধুমাধবী নিশা

বাণী

পুরুষ	:	আজি মিলন বাসর প্রিয়া হের মধুমাধবী নিশা।
স্ত্রী	:	কত জনম অভিসারে শেষে প্রিয় পেয়েছি তব দিশা।।
পুরুষ	:	সহকার-তরু হের দোলে মালতী লতায় লয়ে বুকে,
স্ত্রী	:	মাধবী কাঁকন পরি' দেওদার তরু দোলে সুখে।
পুরুষ	:	হায় প্রাণ কানায় কানায় আজি পুরে
স্ত্রী	:	প্রাণ কানায় কানায় আজি পুরে
পুরুষ	:	হিয়া আবেশে পুলক মিশা
স্ত্রী	:	হিয়া আবেশ পুলক মিশা।।
পুরুষ	:	শরাব রঙের শাড়ি পরেছে চাঁদনি রাতি
স্ত্রী	:	চাঁদে ও তারাতে আজি মিলনের মাতামাতি
পুরুষ	:	হের জোয়া উতলা সিন্ধু পূর্ণিমা চাঁদের পেয়ে'
স্ত্রী	:	কোন দূর অতীত স্মৃতি মম প্রাণে-মনে ওঠে ছেয়ে।
পুরুষ	:	আজি মিলন-ঘন মেঘলোকে
স্ত্রী	:	আজি মিলন-ঘন মেঘলোকে
পুরুষ	:	প্রিয়া মিটিবে মরু-তৃষা
স্ত্রী	:	প্রিয় মিটিবে মরু-তৃষা।।
দ্বৈত	:	প্রিয় মিটিবে মরু-তৃষা।।

তুই কে ছিলি তাই বল

বাণী

তুই কে ছিলি তাই বল?
কোন কাননের পুষ্পরানী কোন সরসীর জল।।
তুই কি ছিলি কবিতা আর আমি চরণ তা'রি
তুই কি ছিলি পিয়াসি শুক আমি আতুর সারী
তুই কি দুঃখী দুয়োরানী আমি চোখের জল।।
	কোন বরষার সিক্ত প্রাতে
	কোন শরতের জোছনা রাতে
কোন জগতের অরুণ ঊষার প্রথম দেখা বল।।
নতুন মোদের নতুন ক'রে পরিচয়ের পালা
কন্ঠে মোদের মিলন-বাণী হাতে মিলন-মালা
মোরা এক বিরহীর দু'টি চোখের ঝরা দু'টি মুক্তাফল।।

প্রিয় তব গলে দোলে যে হার কুড়িয়ে পাওয়া

বাণী

প্রিয়	তব গলে দোলে যে হার কুড়িয়ে পাওয়া
সে যে	হার নহে, হৃদয় মোর হারিয়ে যাওয়া।।
	তোমারি মতন যেন কাহার সনে
	সেদিন পথে চোখাচোখি হল গোপনে
মন	চকিতে হরিল যে সেই চকিত চাওয়া।।
ছিল	চৈতালি সাঁঝ, তাহে পথ নিরালা
ছিনু	একেলা আমি, চলে একেলা বালা
বহে	ঝিরিঝিরি ধীরি-ধীরি চিতী হাওয়া
	চাহিল সে মুখে মোর ঘোমটা তুলে
তার	নয়নে ও ঘটে জল উঠিল দুলে
	চেয়ে দেখি মোর আঁখি সলিল ছাওয়া।।

আল্লা নামের শিরনি তোরা কে নিবি কে আয়

বাণী

		আল্লা নামের শিরনি তোরা কে নিবি কে আয়।
মোরা 	শিরনি নিয়ে পথে হাঁকি (নিতে) কেহ নাহি চায়।।
			এই শিরনির গুণে ওরে শোন
			শিরিণ্ হবে তোর তিক্ত মন রে
		রাঙা হবে ভাঙা হৃদয় এই শিরনির মহিমায়।।
		ধররে প্রাণের তশ্‌তরি তোর আরশ পানে মেলে,
		খোদার খিদে মিটবে রে ভাই এই শিরনি খেলে।
			তোদের পেট পুরিলি ধূলামাটি খেয়ে
			করলি হেলা আল্লার নাম পেয়ে
তোরা 	কাবা পাবার দরজা পাবি আয় আল্লা নামের দরজায়।।

শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা

বাণী

শ্যামা-তন্বী আমি মেঘ-বরণা।
দৃষ্টিতে বৃষ্টির ঝরে ঝরনা।।
অম্বরে জলদ মৃদঙ্গ বাজাই 
কদম-কেয়ায় বন-ডালা সাজই, 
হাসে শস্যে পুষ্পে ধরা নিরাভরণা।।
পুবালি হাওয়ায় ওড়ে কালো কুম্ভল
বিজলি ও মেঘ — মুখে হাসি চোখে জল,
রিমিঝিমি নেচে যাই চল-চরণা।।

১. মোর দৃষ্টিতে