রাখ রাখ রাঙা পায় হে শ্যামরায়

বাণী

রাখ রাখ রাঙা পায়, হে শ্যামরায়!
ভুলে গৃহ স্বজন সবই সঁপেছি তোমায়॥
সংসার মরু ঘোর, নাহি তরু-ছায়া,
নব নীরদ শ্যাম, আনো মেঘ-মায়া;
আনন্দ-নীপবনে নন্দ-দুলাল এসো,
বাহও উজান, হরি, অশ্রুর যমুনায়॥
একা জীবন মোর গহন ঘন ঘোর,
এসো এ বনে বনমালী, গোপ কিশোর,
কুঞ্জ রচেছি দুখ-শোক তমাল-ছায় -  
প্রেম-প্রীতির গোপী চন্দন শুকায়ে যায়॥
দারা সুত প্রিয়জন, হরি হে, নাহি চাই,
পদ্মা-পলাশ-আঁখি যদি দেখিতে পাই;
রাখাল-রাজা এসো, এসো হে ঋষিকেশ,
গোকুলে লহ ডাকি’, অকূলে ভাসি হায়॥

ওগো তারি তরে মন কাঁদে হায়

বাণী

ওগো	তারি তরে মন কাঁদে হায়, যায় না যারে পাওয়া
	ফুল ফোটে না যে কাননে, কাদেঁ দখিন হাওয়া।।
যে	মায়া-মৃগ পালিয়ে বেড়ায়   
	কেন এ মন তার পিছে ধায়
যে	দ'লে গেল পায়ে আমায় কেন তাহারি পথ চাওয়া।।
যে	আমারে ভুলে হলো সুখি যায় না তারে ভোলা,
যে	ফিরিবে না আর, তারি তরে রাখি দুয়ার খোলা।
	মৌন পাষাণ যে দেবতা
	হেরার ছলে কয় না কথা
	তারি দেউল দ্বারে কেন বন্দনা গান গাওয়া।।

আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়

বাণী

আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়।।
পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
			বিষাদিত নিরালায়।।
তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
তোমার হাতে ঢালা —
দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
			ভুলাইয়া বেদনায়।।

বাজিয়ে বাঁশি মনের বনে

বাণী

বাজিয়ে বাঁশি মনের বনে এসো কিশোর বংশীধারী।
চূড়ায় আঁধার ময়ূর-পাখা বামে লয়ে রাধাপ্যারী।।
	আমার আঁধার প্রাণের মাঝে
	এসো অভিসারের সাজে,
নয়ন-জলের যমুনাতে উজান বেয়ে ছুটুক বারি।।
এমনি চোখে তোমায় আমি দেখতে যদি না পাই হরি,
দেখাও পদ্মপলাশ আঁখি, তোমার প্রেমে অন্ধ করি’।
হরি হে, ঘুচাও এবার মায়ার বেড়ী,
	পরাও তিলক কলঙ্কেরি,
শ্যাম রাখি কি কুল রাখি’ ভাব শ্যাম হে আর সইতে নারি।।

নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা

বাণী

নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা।
নাচে দীপ্তিমতী নাচে উমা তপতী নাচে রে চির-আনন্দিতা।।
তার কিরণ-আচল দোলে ঝলমল
গিরি-পাষাণ অটল করে টলমল
গলিয়া তুষার ঝরে নির্ঝর জল
তার চরণ-ছন্দ-চকিতা।।
তার নাচের মায়ায় প্রাণ পায় জড় জীব
ভুলি’ বিরহ সতীর জাগে যোগীন্দ্র শিব,
জাগে কুসুম-কলি গাহে বিহগ-অলি,
তার রূপে ত্রিদিব হ’ল দীপন্বিতা।।

মাধবী-তলে চল মাধবিকা-দল

বাণী

মাধবী-তলে চল মাধবিকা-দল
		আইল সুখ-মধুমাস।
বহিছে খরতর থরথর মরমর
		উদাস চৈতী-বাতাস।।
পিককুল কলকর অবিরল ভাষে,
মদালস মধুপ পুষ্পল বাসে।
		বেণু-বনে উঠিছে নিশাস।।
তরুণ নয়ন সম আকাশ আনীল,
তট-তরু-ছায়া ধরে নীর নিরাবিল
		বুকে বুকে স্বপন-বিলাস।।