বাদলা রাতে চাঁদ উঠেছে

বাণী

বাদলা রাতে চাঁদ উঠেছে কৃষ্ণ মেঘের কোলে রে।
ব্রজ পুরে তমাল-ডালের ঝুলনাতে দোলে রে।।
	নীল চাঁদ আর সোনার চাঁদে
	বাঁধা বন-মালার ফাঁদে রে
এই চাঁদ হেসে আরেক চাঁদের অঙ্গে পড়ে ঢ’লে রে।।
যুগল শশী হেরি গোপী কহে, বাদলা রাতই ভালো রে,
গোকুল এলো ব্রজে নেমে ধরা হল আলো রে।
	দেব-দেবীরা চরণ-তলে
	বৃষ্টি হয়ে পড়ে গ’লে রে,
বেদ-গাথা সব নূপুর হয়ে রুনুঝুনু বোলে রে।।

ঘর ছাড়াকে বাঁধতে এলি

বাণী

ঘর ছাড়াকে বাঁধতে এলি কে মা অশ্রুমতী!
লীলাময়ী মহামায়া দাক্ষায়ণী সতী।।
	কে মাগো তুই কার দুলালী
	যোগীন্দ্রেরও যোগ ভুলালি,
তোর ছোঁওয়াতে স্নিগ্ধ হ’ল শিবের তপের জ্যোতি।।
সৃষ্টিরে তোর বাঁচাতে মা করিস্ কতই রঙ্গ,
তোর মায়াতে শঙ্করেরও ধ্যান হ’ল তাই ভঙ্গ।
	শুদ্ধ শিবে মুগ্ধ ক’রে
	চঞ্চলা তুই গেলি স’রে,
হরের যদি জ্ঞান হরিস্ মা মোদের কোথায় গতি।
আমরা যে তোর মায়ায় অন্ধ জীবন দুর্বল মতি —
		ওমা কোথায় মোদের গতি।।

‘সতী’

মালা গাঁথা শেষ না হ’তে

বাণী

		মালা গাঁথা শেষ না হ’তে তুমি এলে ঘরে।
		শূন্য হাতে তোমায় বরণ করব কেমন ক’রে।।
			লজ্জা পাবার অবসর মোর
			দিলে না হে চঞ্চল, চোর
		সজ্জা-বিহীন মলিন তনু দেখলে নয়ন ভ’রে।।
		বিফল মালার ফুলগুলি হায় কোথায় এখন রাখি,
		ক্ষণিক দাঁড়াও, ঐ কুসুমে (তোমার) চরণ দু’টি ঢাকি।
			আকুল কেশে পা মুছিয়ে
			করব বাতাস আঁচল দিয়ে,
(মোর) 	নয়ন হবে আরতি-দীপ তোমার পূজার তরে।।

জাগত সোওত আঁঠু জাম

বাণী

জাগত সোওত আঁঠু জাম রাহত প্রভু মনমে তুমহারে ধ্যান।
রাত আধেঁরি মে চাঁদ সমান প্রভু উজ্জ্বল কর মেরা প্রাণ।।
এক সুর বোলে ঝিওর সারি রাত
এ্যায়সে হি জপত হুঁ তেরা নাম হে নাথ,
রুম রুম মে রম রহো মেরে এক তুমহারা গান।।
গয়ি বন্ধু কুটুম স্বজন
ত্যজ দিনু ম্যায় তুমহারে কারণ,
তুমহো মেরে প্রাণ-আধারণ, দাসী তুমহারী আন।।

তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও

বাণী

তোমার বীণার মূর্ছনাতে বাজাও আমার বাণী।
তোমার সুরে শোনাও আমার গানের আধেকখানি।।
	শুনব শুধু তোমার কথা
	এবার আমার নীরবতা,
আমার সুরের ছবি আঁকুক তোমার পদ্মপাণি।।

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

বাণী

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে।।
কূল মখ্‌লুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এলো ঐ
কলেমা শাহাদাতের্‌ বাণী ঠোঁটে, কে এলা ঐ
খোদার জ্যোতি পেশানিতে ফোটে, কে এলো ঐ
আকাশ-গ্রহ-তারা পড়ে লুটে, কে এলা ঐ
পড়ে দরুদ ফেরেশ্‌তা, বেহেশ্‌তে সব দুয়ার খোলে।।
মানুষে মানুষের অধিকার দিল যে-জন
‘এক আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রভু নাই’ কহিল যে-জন,
মানুষের লাগি’ চির-দীন্‌ বেশ ধরিল যে-জন
বাদশা ফকিরে এক শামিল করিল যে-জন
এলো ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী
ব্যথিত-মানবের ধ্যানের ছবি
আজি মাতিল বিশ্ব-নিখিল্‌ মুক্তি-কলোরোলে।।