সজনে তলায় ও-সজনি যাসনে

বাণী

‍
সজনে তলায় ও-সজনি! যাসনে ভুলে আজ।
অবাক হয়ে রইলি চেয়ে ভুললি সকল কাজ।।
	হাত ধ’রে তোর বল্‌ছি সোনা
	ফুলের বাসে আর ভুলো না,
প্রজাপতি বসলে গালে হঠাৎ পাবি লাজ।।
দখিনা আজ দামাল ছেলে দ’ল্‌ছে শাখে ফুল,
ভুল করে তুই যাসনে ওরে খুলবে খোঁপার চুল।
	লাগলো কাঁপন অধর-পুটে
	মনের বচন তাও না ফোটে,
ওড়না ধ’রে টানলে বালা খোয়াবি সব লাজ।।

তুমি আরেকটি দিন থাকো

বাণী

তুমি		আরেকটি দিন থাকো।
		হে চঞ্চল, যাবার আগে মোর মিনতি রাখো।।
আমি		ভালো ছিলাম ভুলে’ একা
		কেন নিঠুর দিলে দেখা,
তুমি		ঝরা-ফুলে গাঁথ্‌লে মালা গলায় দিলে না কো।।
তোমার	কাজের মাঝে আমায় ভোলা সহজ হবে, স্বামী!
		কেমন ক’রে এক্‌লা ঘরে থাক্‌বো ভুলে আমি।
		নিবু নিবু প্রদীপ আশার
তুমি		জ্বালিয়ে দিলে যদি আবার —
প্রিয়		নিভ্‌তে তারে দিও না আর আদর দিয়ে রাখো।।

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই

বাণী

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই
খিড়কি দুয়ার খুলে পথ-পানে চেয়ে' রই।।
	কালো জামের ডালের ফাঁকে
	আমায় দেখে কোকিল ডাকে,
আজও কেন যায় না দেখা তোমার নায়ের ছই।।
চুল বেঁধে আজ সেজেগুজে পিদিম জ্বালাই সাঁঝে,
ঠাকুরঝিরা মুচকি হাসে, আমি মরি লাজে।
	বাদলা রাতে বৃষ্টি ঝরে
	মন যে আমার কেমন করে,
আমার চোখের জলে বন্ধু মাঠ করে থই-থই।।

ভিখারির সাজে কে এলে

বাণী

	ভিখারির সাজে কে এলে।
	তৃতীয় প্রহর নিশি নিঝ্ঝুম দশ দিশি —
	আমার ঘুমের দুয়ার ঠেলে কে এলে কে এলে।।
	সুন্দর হাতে কেন ভিক্ষার ঝুলি
	চাঁদের অঙ্গে কেন পথের ধূলি?
	আমার কবরীর যূ’ই ফুলগুলি —
তব	চরণের পানে আছে আঁখি মেলি’।
	বনভূমি কাঁদে ঝরা-ফুল-পল্লব ছড়ায়ে,
	হে তরুণ সন্ন্যাসী! বসন্ত কাঁদে তব দুই কর জড়ায়ে।
	ওগো উদাসীন! কোন্ নিষ্ঠুর সাধে
	বিভূতি মাখায়ে হায়! চৈতালী চাঁদে।
	আমার এখন ফাগুন-নিশীথে ধুতুরা-আসব কেন দিলে ঢেলে।।

বসন্ত আজ আসল ধরায়

বাণী

বসন্ত আজ আসল ধরায় ফুল ফুটেছে বনে বনে।
শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন-বনে।।
ফুলগুলি হায় ঝরেছিল হিমেল হাওয়ার পরশনে,
দখিন হাওয়ার হিল্লোলে আজ প্রিয়তমের স্পর্শ নে’।
	উদাসী এই মাতাল বাতাস
	জাগায় ধরায়, মাতায় আকাশ,
হাসিতে তার কিসের আভাস মন জানে, মনে মনে।।

সাজে অভিনব সাজে রাই

বাণী

সাজে অভিনব সাজে রাই, — শ্যাম পাগলিনী
নয়ন টিপিয়া হাসে চারিপাশে আহিরিণী
আনমনে মনের ভুলে বাঁধে চূড়া বেণী খুলে
সিঁথি-মৌর ফেলে পরে শিখী-পাখা বিনোদিনী রাই সাজে একি সাজে রে
তারে হেরিয়া কি বনে শ্যাম লুকাইল লাজে রে।
গাগরি বিসরি বাজায় সে বাঁশরি,
পায়েলা পরা-পায়ে নূপুর বাজে রে।
পরিহরি নীলশাড়ি এলো পীত ধরা পরি
হেরিয়া কিশোর হরি মুখে বলে ‘হরি হরি’
আয় রে শ্রীদাম যা রে দেখে, আয় রে সুবল যা রে দেখে,
আয় বিরজা যা রে দেখে, আয় বিশাখা যা রে দেখে,
কার-চাঁদে তোরা দেখেছিস্‌ এবার গোরাচাঁদে তোরা যা লো দেখে।
উছলে রূপের ছটা কোটি রবি-শশী জিনি।।