ফিরে ফিরে কেন তারই স্মৃতি

বাণী

ফিরে ফিরে কেন তারই স্মৃতি
মোরে কাঁদায় নিতি যে ফিরিবে না আর।
ফিরায়েছি যা’য় কাঁদাইয়া হায়
সে কেন কাঁদায় মোরে বারেবার।।
তারই দেওয়া ফুলমালা, যারে দলিয়াছি পায়
সেই ছিন্নমালা কুড়ায়ে নিরালা আজি রাখি হিয়ায়।
বারে বারে ডাকি প্রিয় নাম ধ’রে তা’র।।
হানি’ অবহেলা যারে দিয়েছি বিদায়
আজি তারি স্মৃতি, সে কোথায় সে কোথায়।
জ্বালি’ নয়ন-প্রদীপ জাগি বাতায়নে
নিশি ভোর হয়ে যায় বৃথা জাগরণে
আজি স্বর্গ শূন্য মোর তারি বিহনে
কাঁদি আকাশ বাতাস মোর করে হাহাকার।।

এসেছি তব দ্বারে ভক্তি-শূন্য প্রাণে

বাণী

এসেছি তব দ্বারে ভক্তি-শূন্য প্রাণে।
করুণাময় প্রভু! কর হে পূর্ণ দানে।।
শক্‌তি বিহীন করে ধরেছি নিশান তব
বহিতে পারি যেন দিও সে-গৌরব,
দিবাকর কর সম ছড়ায়ে অভিনব
অস্তে যাই যেন জীবন-বিহানে।।
সাঁঝের আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ সম
রাঙায়ো আঁধার হৃদি-প্রেমের জোছনা বানে।।

এত জল ও কাজল চোখে

বাণী

এত জল ও কাজল চোখে, পাষানী আনলে বল কে।
টলমল জল-মোতির মালা দুলিছে ঝালর-পলকে ।।
দিল কি পূব হাওয়াতে দোল, বুকে কি বিঁধিল কেয়া?
কাঁদিয়া কুটিলে গগন এলায়ে ঝামর-অলকে।।
চলিতে পৈঁচি কি হাতের বাঁধিল বৈচি-কাঁটাতে?
ছাড়াতে কাঁচুলির কাঁটা বিঁধিল হিয়ার ফলকে।।
[যে দিনে মোর দেওয়া-মালা ছিঁড়িলে আনমনে সখি,
জড়াল জুই-কুসুমি-হার বেণীতে সেদিন ওলো কে।।
যে-পথে নীর ভরণে যাও বসে রই সে পথ-পাশে
দেখি, নিত কার পানে চাহি কলসীর সলিল ছলকে।।]
মুকুলী-মন সেধে সেধে কেবলি ফিরিনু কেঁদে,
সরসীর ঢেউ পালায় ছুটি' না ছুঁতেই নলিন-নোলকে ।।
বুকে তোর সাত সাগরের জল, পিপাসা মিটল না কবি
ফটিক জল ! জল খুঁজিস যেথায় কেবলি তড়িৎ ঝলকে।। 

আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম

বাণী

আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম ভোমরাকে যেতে বল।
সখি	গুঞ্জরি ফেরে কেন কুঞ্জে বৃথাই এত ছল।।
	কত কি শুনিয়ে যায়, গুনগুনিয়ে হায়-
	পাতার ঝরকায়, ঘোরে সে অবিরল।।
আমার প্রাণের ভেতর কেন উঠায় সে ঝড়
তারে	ফেরালে ফেরে না হাসে কেবল,
সে	ফিরিয়া গেলে চোখে আসে জল।
	একি হল দায়, আঁখি নাহি চায়
	না দেখিলে তায়, প্রাণ পাগল।।

কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই

বাণী

উভয়ে : 	কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই সুদূর বিমানে আমরা দু’জনে।
		কানন-কান্তর শিহরি’ ওঠে মোদের প্রণয়-মদির কূজনে।।
স্ত্রী 	:	ভ্রমর গুঞ্জে মঞ্জুল গীতি, হেরিয়া আমার বঁধূর প্রীতি,
পুরুষ :	আমার প্রিয়ার নয়নে চাহি’ কুসুম ফুটে ওঠে বিপিনে বিজনে।।
স্ত্রী 	:	তোমা ছাড়া স্বর্গ চাহি না, প্রিয়!
		মোদের প্রেমে চাঁদ আসে নেমে মাটির পাত্রে পান করি অমিয়।।
পুরুষ :	বিশ্ব ভুলায়ে ও-রাঙা পায়ে আমারে বেঁধেছে জীবনে মরণে।।

ফুলবনে যদি বসন্ত এলো

বাণী

ফুলবনে যদি বসন্ত এলো
মনবনে নাহি এলো,
কেন মনবনে নাহি এলো।।
বিবশা এ হিয়া উঠিছে রাঙিয়া
মধুর পরশন মাগিয়া,
ফুরাবে সবই কি, বিফল-চাওয়া চাহিয়া।।
তৃষিত এ প্রাণ চাহে যাহারে
গগন-পারে খোঁজে তাহারে,
অ-ধরা কি রবে পিয়া রে।।