এসো এসো রস-লোক বিহারী

বাণী

এসো এসো রস-লোক বিহারী এসো মধুকর-দল।
এসো নভোচারী — স্বপন-কুমার এসো ধ্যান-নিরমল।।
	এসো হে মরাল কমল-বিলাসী,
	বুলবুল পিক সুর-লোক-বাসী,
এসো হে স্রষ্টা এসো অ-বিনাশী এসো জ্ঞান-প্রোজ্জ্বল।।
	দীওয়ানা প্রেমিক এসো মুসাফির —
	ধূলি-ম্লান তবু উন্নত শির,
আমরা-অমৃত-জয়ী এসো বীর আনন্দ বিহ্বল।।
	মাতাল মানব করি’ মাতামাতি
	দশ হাতে যবে লুটে যশ খ্যাতি,
তোমরা সৃজিলে নব দেশ জাতি অগোচর অচপল।।
	খেল চির-ভোলা শত ব্যথা স’য়ে
	সংঘাত ওঠে সঙ্গীত হ’য়ে,
শত বেদনার শতদল ল’য়ে লীলা তব অবিরল।।
	ভুলি’ অবহেলা অভাব বিষাদ
	ধরণীতে আনো স্বর্গের স্বাদ,
লভি’ তোমাদের পুণ্য প্রসাদ পেনু তীর্থের ফল।।

হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ

বাণী

হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
	আমি গুনাহগার বে-খবর,
	নামাজ পড়ার ন্ই অবসর
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
	যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
	খোদায় ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান যাক দূরে, শুনে তকবীরের আওয়াজ।।

আর লুকাবি কোথা মা কালী

বাণী

আর লুকাবি কোথা মা কালী
বিশ্ব-ভুবন আঁধার ক’রে তোর রূপে মা সব ডুবালি।।
সুখের গৃহ শ্মশান ক’রে বেড়াস্ মা তায় আগুন জ্বালি’
দুঃখ দেবার রূপে মা তোর ভুবন-ভরা রূপ দেখালি।।
পূজা ক’রে, পাইনি তোরে মা গো এবার চোখের জলে এলি
বুকের ব্যথায় আসন পাতা ব’স্ মা সেথা দুখ্‌-দুলালী।।

ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম

বাণী

ফুল-ফাগুনের এলো মরশুম বনে বনে লাগল দোল্।
কুসুম-সৌখিন দখিন হাওয়ার চিত্ত গীত-উতরোল।।
অতনুর ঐ বিষ-মাখা শর নয় ও-দোয়েল শ্যামার শিস্,
ফোটা ফুলে উঠ্‌ল ভ’রে কিশোরী বনের নিচোল।।
গুল্‌বাহারের উত্তরী কার জড়াল তরু-লতায়,
মুহু মুহু ডাকে কুহু তন্দ্রা-অলস, দ্বার খোল।
রাঙা ফুলে ফুল্ল-আনন দোলে কানন-সুন্দরী,
বসন্ত তার এসেছে আজ বরষ পরে পথ-বিভোল্।

হে গোবিন্দ ও অরবিন্দ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে।
বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।।
	জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়,
	দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়।
ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।।
এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে।
কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।।
	সন্তান তব বিপথগামী,
	ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী।
পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।

হে মদিনার নাইয়া

বাণী

হে মদিনার নাইয়া!
ভব-নদীর তুফান ভারি কর মোরে পার
তোমার দয়ায় ত’রে গেল লাখো গুনাহ্‌গার॥
পারের কড়ি নাই হে আমার হয়নি নামাজ রোজা
কূলে এসে বসে আছি নিয়ে পাপের বোঝা
(আমায়) ‘পার কর ইয়া রসুল’ বলে কাঁদি জারে জার॥
তোমার নাম গেয়েছি শুধু কেঁদে সুব্‌হ শাম
তরিবার মোর নাই ত’ পুঁজি বিনা তোমার নাম।
হাজরো বার দরিয়াতে ডুবে যদি মরি
ছাড়ব না মোর পারের আশা তোমার চরণ-তরী
সবার শেষে পার যেন হয় এই খিদ্‌মতগার॥