ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ

বাণী

ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ
তোমার হেরে হৃদয় সাগর আনন্দে উন্মাদ।।
তোমার রাঙা তশতরিতে ফিরদৌসের পরী
খুশির শিরনি বিলায় রে ভাই নিখিল ভুবন ভরি
খোদার রহম পড়ছে তোমার চাঁদনি রূপে ঝরি।
দুখ ও শোক সব ভুলিয়ে দিতে তুমি মায়ার ফাঁদ।।
তুমি আসমানে কালাম
ইশারাতে লেখা যেন মোহাম্মাদের নাম।
খোদার আদেশ তুমি জান স্মরণ করাও এসে
যাকাত দিতে দৌলত সব দরিদ্রেরে হেসে
শত্রুরে আজি ধরিতে বুকে শেখাও ভালবেসে।
তোমায় দেখে টুটে গেছে অসীম প্রেমের বাঁধ।।

জাগে না সে জোশ ল'য়ে আর মুসলমান

বাণী

জাগে না সে জোশ ল'য়ে আর মুসলমান। 
হায় করিল জয় যে তেজ ল'য়ে দুনিয়া জাহান।। 
যাহার তক্‌বির-ধ্বনি, তক্‌দির বদলালো দুনিয়ার
না-ফরমানের জামানায় আনিল ফরমান খোদার,
হায় পড়িয়া বিরান আজি সে গুল্‌-গুলিস্তান।।
নাহি সাচ্চাই সিদ্দিকের, উমরের নাহি সে ত্যাগ আর
নাহি আর বেলালের ঈমান, নাহি আলীর জুল্‌ফিকার,
হায় নাহি আর সে জেহাদ-লাগি' বীর শহীদান।।
নাহি আর বাজুতে কুওত, নাহি খালেদ, মুসা, তারেক
নাহি বাদ্‌শাহি তখ্‌তে তাউস, ফকির আজ দুনিয়ার মালেক
হায় ইসলাম কিতাবে শুধু মুসলিম গোরস্তান।।

ফুটিল মানস মাধবী কুঞ্জে

বাণী

ফুটিল মানস-মাধবী-কুঞ্জে প্রেম কুসুম পুঞ্জে পুঞ্জে
মাধব, তুমি এসো হে।
হে মধু-পিয়াসী চপল মধুপ, হৃদে এসো হৃদয়েশ হে।
(নীল) মাধব, তুমি এসো হে।।
তুমি আসিলে না বলি’ শ্যামরায়
অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
মাধব, তুমি এসো হে।।
বনমালী! বনে বন-ফুল হায়
হায়! শুকাইয়া যায়, আঁখিজলে তায়
জিয়াইয়া রাখি কত আর?
এসো গোপন পায়ে! চিতচোর এসো গোপন পায়ে!
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।
যেমন নবনী চুরি করে খেতে এসো হে তেমনি গোপন পায়ে।
না হয় নূপুর খুলিও,
শ্যাম, যমুনায় থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও!
যেমন নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা-গগন-কুল —
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘসা হরি-চন্দন শুকায়ে যায় —
আর রহিতে নারি, এসো হৃষিকেশ শ্যামরায়।।

১. পাঠান্তর :
মম মানস মাধবী লতার কুঞ্জে, এই তো প্রথম মধুপ গুঞ্জে।
(নীল) মাধব তুমি এসো হে, হে মধু পিয়াসী চপল মধুপ
হৃদে এসো হে হৃদয়েশ হে।
তোমার আমার পথ চেয়ে হায় অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
(নীল) মাধব তুমি এসো হে।।
বনমালী বিনে বন ফুল হার
(হায়) শুকাইয়া যায় আঁখি জলে তায় জিয়াইয়া রাখি কত আর।
চিতচোর এসো গোপন পায়ে
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।।
না হয় নূপুর খুলিও
(শ্যাম) যমুনার থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও।
(যেমন) নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা গগন কুল।
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘষা হয়ে চন্দন শুকায়ে যায়।

নাটিকা : ‘ধ্রুব’

আমি সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায়

বাণী

আমি		সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে
		দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে’।।
			নিত্য জানাই পেম-আরতি
			যে পথে, নাথ, তোমার গতি
		ওগো আমার ধ্রুব-জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’।।
		জানি, তুমি আমার পাওয়ার বহু দূরে, হে দেবতা!
		আমি মাটির পূজারিণী, কেমন ক’রে জানাই ব্যথা।
			সারা জীবন তবু, স্বামী,
			তোমার ধ্যানেই কাঁদি আমি
		সন্ধ্যাবেলায় ঝরি যেন তোমার পানে নয়ন রেখে’।।

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে

বাণী

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
					পোহায় না মোর রাতি।।
ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
					পোহায় না মোর রাতি।।

ইয়া ইলাহী ইয়া ইলাহী

বাণী

ইয়া ইলাহী! ইয়া ইলাহী!
তব রাহে মোরে কর রাহী।
ফরজ-ওয়াজেব জানি না হে স্বামী
তব নামে মশগুল দিবা-যামী,
চাহিনা শাফায়াৎ বেহেশ্‌ত দৌলত-
	হে প্রভু শুধু তোমারে চাহি।।
পতঙ্গ ধায় যেমন দীপ-পানে
তোমার জ্যোতি মোরে তেমনি টানে,
তোমার বিরহে নিশি-দিন কাঁদি-
	পরানে আমার শান্তি নাহি ৷৷
আমারে রাখো তব প্রেমে ছেয়ে’
বিশ্ব ভুলি যেন তোমারে পেয়ে,
নদী যেমন যায় সাগরে ধেয়ে-
	তেমনি ছুটি যেন তব নাম গাহি ৷৷