আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার

বাণী

(মা)		আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার ছেলের সাজে সাজিয়ে তোরে।
(ওমা)		মা’র কাছে তুই রইবি নিতুই, যাবি না আর শ্বশুর ঘরে।।
				মা হওয়ার মা কী যে জ্বালা
				বুঝবি না তুই গিরি-বালা
		তোরে না দেখলে শূন্য এ বুক কী যে হাহাকার করে।।
		তোরে টানে মা শঙ্কর-শিব আসবে নেমে জীব-জগতে,
		আনন্দেরই হাট বসাব নিরানন্দ ভূ-ভারতে।
				না দেখে যে মা, তোর লীলা
				হ’য়ে আছি পাষাণ-শীলা
		আয় কৈলাসে তুই ফির্‌বি নেচে বৃন্দাবনের নূপুর প’রে।।

মার্‌হাবা সৈয়দে মক্কী-মদনী

বাণী

মার্‌হাবা সৈয়দে মক্কী-মদনী আল্-আরবি।
বাদ্‌শারও বাদশাহ্ নবীদের রাজা নবী।।
ছিলে মিশে আহাদে, আসিলে আহমদ হয়ে
বাঁচাতে সৃষ্টি খোদার, এলে খোদার সনদ ল’য়ে,
মানুষে উদ্ধারিলে মানুষের আঘাত সয়ে —
মলিন দুনিয়ায় আনিলে তুমি যে বেহেশ্‌তী ছবি।।
পাপের জেহাদ-রণে দাঁড়াইলে তুমি একা
নিশান ছিল হাতে ‘লা-শরীক আল্লাহ্’ লেখা,
গেল দুনিয়া হতে ধুয়ে মুছে পাপের রেখা —
বহিল খুশির তুফান উদিল পুণ্যের রবি।।

হৃদয় কেন চাহে হৃদয় আমি জানি মন জানে

বাণী

হৃদয় কেন চাহে হৃদয়, আমি জানি মন জানে
জানে নদী কেন যে সে, যায় ছুটে সাগর পানে।।
কেহ বারি কেন চাহে, জানে চাতক, জানে মেঘ,
জানে চকোর সুদূর নভে, চাঁদ কেন তারে টানে।।
কুসুম কেন চাহে শিশির, জানে শিশির, জানে ফুল,
জানে বুলবুল আছে কাঁটা, তবু যায় গুল-বাগানে।
আঁখি চাহে আঁখি-বারি , মন চাহে মনোব্যথা
প্রাণ আছে যার সেই জানে, কেন চাহে প্রাণে প্রাণে।।

শক্তের তুই ভক্ত শ্যামা

বাণী

শক্তের তুই ভক্ত শ্যামা (তোরে) যায় না পাওয়া কেঁদে।
(তাই) শাক্ত সাধক রাখে তোরে ভক্তি-ডোরে বেঁধে।।
(মা) শাক্ত বড় শক্ত ছেলে
(সে) জানে দড়ি আলগা পেলে
যাবি পালিয়ে চোখে ধূলা দিয়ে মায়া জালে বেঁধে।।
(তুই) সুরাসুরে ভুলিয়ে রাখিস্‌ ইন্দ্রত্বের মোহে,
(ওমা) গুণের কিছু ঘাট নাই তোর নির্গুণ তাই কহে।
তোর মায়াতে ভুলে গিয়ে,
বিষ্ণু ঘুমান লক্ষী নিয়ে
(তোর) অন্ত খুঁজে শিব হয়েছেন ভবঘুরে বেদে।।

সেই পথে মন মম ধায়

বাণী

	সেই পথে মন মম ধায়।
প্রিয়	রসুলে খোদার, নবীর সরদার —
			যে পথে চলিলেন হায়।
	পরান আমার বিকাতে চাহে
	মাহে আরব লীলাভূমে বিকাতে চাহে।
যাব	কমলিওয়ালা-পাশ ছাড়ি' গৃহবাস
			কম্বল সম্বল করি'।
পাক	রওজার ধূলি শিরে ল'ব তুলি'
			পরিব অঞ্জন করি'।
	অঙ্গে রবে ভূষণ হয়ে সদা —
	পাক রওজার ধূলি ভূষণ হয়ে সদা অঙ্গে রবে।
আমি	(ওগো) মম দুখ-ভার করিয়া উজাড়
			দিব সে-চরণে ডারি।
ওগো	যত দুখ মোর বহিবে অঝোর
			হইবে নয়ন-বারি।
	আমার যাবে গো ব'য়ে
	আমার নয়নের ধারা যাবে গো ব'য়ে,
	পাক রওজাতে নিতি লুকানো বহ্নি
			নয়নের ধারা যাবে গো ব'য়ে।

কীর্তন-সুরে নাত-ই-রসুল

ভুলে রইলি মায়ায় এসে ভবে

বাণী

দ্বৈত	:	ভুলে রইলি মায়ায় এসে ভবে
		তুই ভুলবি ভুলের খেলা কবে॥
স্ত্রী	:	নিবু নিবু তোর জীবন-বাতি শেষ হলো সুখ-রাতি,
পুরুষ	:	রাত পোহালে সুখের সাথী সঙ্গে নাহি রবি॥
স্ত্রী	:	যাঁর কৃপায় তুই রইলি সুখে ডাক্‌লি না রে তারে
পুরুষ	:	তুই কি নিয়ে হায় তাহার কাছে যাবি পরপারে।
স্ত্রী	:	জমালি যা তুই জীবন ভ’রে পিছু প’ড়ে রবে
পুরুষ	:	দারাসুত লবে বিভব রতন পাপের বোঝা নাহি লবে॥
স্ত্রী	:	স্রোতের মতো সময যে যায় নিয়ে শরণ প্রভুর পায়
পুরুষ	:	কৃপা-সিন্ধুর কৃপা পেলে ত’রে যাবি তুই তবে॥