গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী

বাণী

গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী।
বল গো মনের কথা বনের কিশোরী।।
চৈতালী চাঁদের তিথি যে ফুরায়
কাঁদিয়া কোয়েলিয়া পরদেশে যায়,
মধুমাখা নাম তব, মধুকর গায় মৃদুল গুঞ্জরী।।
বনমালী নিতি আসি' ভাঙায় ঘুম
বনদেবী গাহে জাগো দুলালী কুসুম,
কত মল্লিকা বেলি বকুল চামেলি
বিলায়ে সুবাস হের গিয়াছে ঝরি'।।

কে বিদেশি বন-উদাসী

বাণী

কে বিদেশি		বন-উদাসী'
বাঁশের বাঁশি		বাজাও বনে।
সুর-সোহাগে		তন্দ্রা লাগে
কুসুম-বাগের	গুল-বদনে।।
ঝিমিয়ে আসে	ভোমরা-পাখা
যুথীর চোখে		আবেশ মাখা
কাতর ঘুমে		চাঁদিমা রাকা
ভোর গগনের	দর-দালানে
দর-দালানে		ভোর গগনে।।
লজ্জাবতীর		লুলিত লতায়
শিহর লাগে		পুলক-ব্যথায়
মালিকা সম		বঁধুরে জড়ায়
বালিকা-বঁধু		সুখ-স্বপনে।।
বৃথাই গাঁথি		কথার মালা
লুকাস কবি		বুকের জ্বালা,
কাঁদে নিরালা	বনশিওয়ালা
তোরি উতলা	বিরহী মনে।।

বাঁশির কিশোর ব্রজগোপী চিত-চোর

বাণী

বাঁশির কিশোর ব্রজগোপী চিত-চোর এসো এসো গোকুলে ফিরে।
তোমা বিনা গোপী সখা ঘিরিল গোকুল ঘোর ঘন-তিমিরে।।
ধেনু নাহি গোঠে যায়, শুক-সারী নাহি গায়
শিরে কর হানি হায় গোপ-বালিকা কাঁদে যমুনাতীরে।।
	আঁধার আনন্দধাম
	আছে রাধা নাহি শ্যাম,
শুনি না আর কৃষ্ণনাম, ভাসিল ব্রজের খেলা নয়ন-তীরে।।

শুকালো মিলন-মালা আমি তবে যাই

বাণী

শুকালো মিলন-মালা, আমি তবে যাই।
কি যেন এ নদী-কূলে খুঁজিনু বৃথাই।।
	রহিল আমার ব্যথা
	দলিত কুসুমে গাঁথা,
ঝুরে’ বলে ঝরা পাতা — ‘নাই কেহ নাই’।।
যে-বিরহে গ্রহ-তারা সৃজিল আলোক,
সে-বিরহে এ জীবন জ্বলি’ পুণ্য হোক।
	চক্রবাক চক্রবাকী
	করে যেমন ডাকাডাকি,
তেমনি এ কূলে থাকি’ ও-কূলে তাকাই।।

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে

বাণী

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে।
প্রখর রবির তাপে রে।।
চাহিয়া তৃষ্ণার বারি
চাতক ওঠে ফুকারি’
করুণ-শান্ত বিলাপে রে।।
রুদ্রযোগী ও-কে দূর বিমানে,
নিমগ্ন রহিয়াছে যেন ধ্যানে।
শকুন্তলা সম ভয়ে
কাঁপে ধরা র’য়ে র’য়ে,
অগ্নি-ঋষির অভিশাপ রে।।

চোখে চোখে চাহ যখন

বাণী

চোখে চোখে চাহ যখন তোমরা দু’টি পাখি।
সেই চাহনি দেখি আমি অন্তরালে থাকি’।।
	মনে জাগে, অনেক আগে
	এম্‌নি গভীর অনুরাগে,
আমার পানে চাইত কেহ এম্‌নি অরুণ-আঁখি।।
ঘুমাও যখন তোমরা দু’জন পাখায় বেঁধে পাখা,
আমি দূরে জেগে থাকি, যায় না কাঁদন রাখা।
	পরশ যেন লেগে আছে
	শূন্য আমার বুকের কাছে,
তোমার মতন ঘুমাত কেউ এই বুকে মুখ রাখি’।।