হে গোবিন্দ রাখ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ রাখ চরণে।
মোরা তব চরণে শরণাগত আশ্রয় দাও আশ্রিত জনে হে॥
	গঙ্গা ঝরে যে শ্রীচরণ বেয়ে
	কেন দুখ পাই সে চরণ চেয়ে
এ ত্রিতাপ জ্বালা হর হে শ্রীহরি, চাহ করুণা সিক্ত নয়নে॥
হরি ভিক্ষা চাহিলে মানুষ নাহি ফিরায়
তোমারি দুয়ারে হাত পাতিল যে, ফিরাবে কি তুমি তায়।
	হরি সব তরী ডুবে যায়
	তোমার চরণ তরী ত’ ডোবে না হায়,
তব চরণ ধরিয়া ডুবে মরি যদি রবে কলঙ্ক নিখিল ভুবনে॥

আজ উদার আকাশে ছুটির

বাণী

আজ উদার আকাশে ছুটির শঙ্খ-ঘণ্টা বাজায় কে।
প্রবাসীর মন উচাটন, শোনে — ‘দীপ জ্বাল্, উলু দে’।।
	আর মন লাগে নাকো কাজে,
	শ্রবণের কাছে চুড়ি-কঙ্কণ বাজে।
এলোমেলো বায়ে এলো, কবরীর সৌরভ এলো যে।।
কোথা আনন্দ-নন্দিনী কার চন্দন বুঝি ঘষে;
মন মেতে ওঠে মৌমাছি-সম, নন্দন-মধু রসে।
	তৃতীয়া চাঁদের রসকলি পরি’
	বৈষ্ণবী সেজে এলো বিভাবরী;
বাউল-হৃদয়! চল্ রে বাহিরে, হাতে একতারা নে।।

মম প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা

বাণী

মম প্রাণ নিয়ে নিঠুর খেল এ কি খেলা (হায়)।
ক্ষণে ভালোবাসা হায় ক্ষণে অবহেলা।।
সকালে গাঁথিয়া মালা পায়ে দল বিকালে তায়।
তেমনি দলিতে চাহ আমার পরান কি হায়।
সহিতে পারি না আর এই হেলাফেলা।
জলরূপী একি কোন্ মরীচিকা তুমি কি গো।
ডেকে এনে মরুভুমে বধিবে এ বনমৃগ।
বুঝিয়াছি কখন হায় ফুরায়েছে বেলা।।

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ

বাণী

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।
মোরা	ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥
	বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
	তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
	এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
	তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু	তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
	আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
	ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু	আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
	তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
	তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
	মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
	সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
	বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥

আরক্ত কিংশুক কাঁপে

বাণী

আরক্ত কিংশুক কাঁপে, মালতীর বক্ষ ভরি’
চন্দ্রের অমৃত স্পর্শে উঠিতেছে শিহরি’ শিহরি’।।
		নীরব কোকিলের গুঞ্জন
চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি, বাড়িয়াছে বক্ষের স্পন্দন,
মোদের নাচের নূপুরের ছন্দ কভু চপল কভু মৃদুমন্দ,
বসন্ত-উৎসব সজ্জা অন্তরাল হতে মৃদু ভাষে
সুন্দর গুঞ্জন ধ্বনি কেন ভেসে আসে।
মমতার মধু-বিন্দু ক্ষরিল মোরা মধু খেয়ে বলিলাম — আহা মরি।।
ধরণীর অঙ্গ হতে বাসরের সজ্জা পড়ে খুলি’
গভীর আনন্দে মোরা চাহি দুটি আঁখি তুলি,
চৈত্রের পূর্ণিমা রাত্রি এলো ফিরি
প্রিয় তুমি কেন চ’লে গেলে ধীরি ধীরি।
তুমি ফিরে এলে মোরা লভিতাম অমৃতের স্বাদ চন্দ্রের অমিয়া পান করি।।

নাটক : ‘মদিনা’

দেখা দাও দাও দেখা ওগো দেবতা

বাণী

দেখা দাও, দাও দেখা, ওগো দেবতা।
মন্দিরে পূজারিণী আশাহতা॥
ধূপ পুড়িয়া গেছে, শুকায়েছে মালা,
বন্ধ হ’ল বা দ্বার, একা কুলবালা।
প্রভাতে জাগিবে সবে, রটিবে বারতা॥
জাগো জাগো দেবতা শূন্য দেউলে,
আরতি উঠিছে মোর বেদনার ফুলে।
বাণীহীন মন্দির, কহ কহ কথা॥