তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী

বাণী

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী (হে বন-লক্ষ্মী)।
তব অপাঙ্গে হইব ভ্রুভঙ্গি।।
মোরে জ্বালায়ে জ্বালো
তব বাসরে আলো,
মোরে নূপুর করি’ বাঁধ চরণে তারি —
	নাচে তোমার সভায় যে কুরঙ্গী।।
তব রূপের দেশে
এনু বাউল বেশে,
যেন ফিরে নাহি যাই
আঁখি-প্রসাদ পাই —
	হব কেশে তব বেণীর ভুজঙ্গী।।

শাদী মোবারকবাদী শাদী মোবারক

বাণী

শাদী মোবারকবাদী শাদী মোবারক।
দেয় মোবারক-বাদ আলম রসুলে-পাক আল্লা হক।।
	আজ এ খুশির মাহফিলে
	দুলহা ও দুলহিনে মিলে
	মিলন হল প্রাণে প্রাণে
		মাশুক আর আশক।।
	আউলিয়া আম্বিয়া সবে
	এসো এ মিলন-উৎসবে,
	দোয়া কর আজ এ খুশির
		গুলিস্তান গুলজার হোক।।

নাটিকাঃ‘পুতুলের বিয়ে’

কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল

বাণী

		কে নিবি ফুল, কে নিবি ফুল —
		টগর যূথী, বেলা মালতী
		চাঁপা, গোলাপ, বকুল, নার্গিস ইরানি-গুল।।
		আমার যৌবন-বাগানে
		হাওয়া লেগেছে ফুল-জাগানে,
		চ'লে যেতে ঢ'লে পড়ি, খুলে পড়ে এলো চুল;
		তনু-মন আকুল আঁখি ঢুলুঢুল্‌।।
(ওগো) 	ফুটেছে এত ফুল, ফুলমালী কই?
		গাঁথিবে মালা কবে? সেই আশে রই;
		এ মালা দেব কা'রে ভেবে সারা হই,
		সহিতে পারি না এ ফুল-ঝামেলা, চামেলি-পারুল।।

আরক্ত কিংশুক কাঁপে

বাণী

আরক্ত কিংশুক কাঁপে, মালতীর বক্ষ ভরি’
চন্দ্রের অমৃত স্পর্শে উঠিতেছে শিহরি’ শিহরি’।।
		নীরব কোকিলের গুঞ্জন
চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি, বাড়িয়াছে বক্ষের স্পন্দন,
মোদের নাচের নূপুরের ছন্দ কভু চপল কভু মৃদুমন্দ,
বসন্ত-উৎসব সজ্জা অন্তরাল হতে মৃদু ভাষে
সুন্দর গুঞ্জন ধ্বনি কেন ভেসে আসে।
মমতার মধু-বিন্দু ক্ষরিল মোরা মধু খেয়ে বলিলাম — আহা মরি।।
ধরণীর অঙ্গ হতে বাসরের সজ্জা পড়ে খুলি’
গভীর আনন্দে মোরা চাহি দুটি আঁখি তুলি,
চৈত্রের পূর্ণিমা রাত্রি এলো ফিরি
প্রিয় তুমি কেন চ’লে গেলে ধীরি ধীরি।
তুমি ফিরে এলে মোরা লভিতাম অমৃতের স্বাদ চন্দ্রের অমিয়া পান করি।।

নাটক : ‘মদিনা’

হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই ভারতের

বাণী

হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই ভারতের দুই আঁখি-তারা।
এক বাগানে দুটি তরু — দেবদারু আর কদমচারা।।
	যেন গঙ্গা সিন্ধু নদী
	যায় গো ব’য়ে নিরবধি,
এক হিমালয় হতে আসে, এক সাগরে হয় গো হারা।।
	বুলবুল আর কোকিল পাখি
	এক কাননে যায় গো ডাকি’,
ভাগীরথী যমুনা বয় মায়ের চোখের যুগল-ধারা।।
পেটে-ধরা ছেলের চেয়েও চোখে ধরার মায়া বেশি,
অতীতে ছিল অতিথি, আজ সে সখা প্রতিবেশী।
	ফুল পাতিয়ে গোলাপ বেলি
	এক সে-মায়ের বুকে খেলি,
পাগল তারা — ভিন্ন ভাবে আল্লা ভগবানে যারা।।

কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ

বাণী

		কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
ওরে		আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
		পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
ওরে		রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
আমি		তারি লাগি রে
		আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
		পিছ্‌লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
ওরে		সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্‌তা হতে পায়ে রে।
ও সে		রয় না ঘরে রে
ও সে		রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
তা’রে		দেখ্‌লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
ও সে		জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।