ভিখারির সাজে কে এলে

বাণী

	ভিখারির সাজে কে এলে।
	তৃতীয় প্রহর নিশি নিঝ্ঝুম দশ দিশি —
	আমার ঘুমের দুয়ার ঠেলে কে এলে কে এলে।।
	সুন্দর হাতে কেন ভিক্ষার ঝুলি
	চাঁদের অঙ্গে কেন পথের ধূলি?
	আমার কবরীর যূ’ই ফুলগুলি —
তব	চরণের পানে আছে আঁখি মেলি’।
	বনভূমি কাঁদে ঝরা-ফুল-পল্লব ছড়ায়ে,
	হে তরুণ সন্ন্যাসী! বসন্ত কাঁদে তব দুই কর জড়ায়ে।
	ওগো উদাসীন! কোন্ নিষ্ঠুর সাধে
	বিভূতি মাখায়ে হায়! চৈতালী চাঁদে।
	আমার এখন ফাগুন-নিশীথে ধুতুরা-আসব কেন দিলে ঢেলে।।

জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী

বাণী

জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী।
জয় ধ্রুব জ্যোতি, জয় বেদবতী।।
জয় আদি কবি, জয় আদি বাণী
জয় চন্দ্রচূড়, জয় বীণাপাণি,
জয় শুদ্ধজ্ঞান শ্রীমূর্তিমতী।।
শিব! সঙ্গীত সুর দাও, তেজ আশা,
দেবী! জ্ঞান শক্তি দাও, অমর ভাষা।
শিব! যোগধ্যান দাও, অনাশক্তি
দেবী! মোক্ষলক্ষ্মী! দাও পরাভক্তি,
দাও রস অমৃত, দাও কৃপা মহতী।।

ফুলের বনে ফুলের সনে

বাণী

ফুলের বনে ফুলের সনে
	ফুলেল হাওয়া নাচে দুলিয়া দুলিয়া।
টগর হেনা চামেলি মালতি বেলি
	ফুটিল দল মেলি’ শরম ভুলিয়া।।
	মউ বিলাসী প্রজাপতি
	নেচে ফেরে অথির মতি,
	নাচে হরিণ চপল গতি —
		চটুল আঁখি তুলিয়া।।

ওরে হুলো রে তুই রাত বিরেতে

বাণী

ওরে		হুলো রে তুই রাত বিরেতে ঢুকিস্‌নে হেঁসেল্।
তুই		কবে বেঘোরে প্রাণ হারাবি বুঝিস্‌নে রাস্কেল্।।
আমি		স্বীকার করি শিকারি তুই তোর গোঁফ দেখেই চিনি,
		গাছে কাঁঠাল ঝুলতে দেখে দিস্ গোঁফে তুই তেল।।
		ওরে ছোঁচা ওরে ওঁছা বাড়ি বাড়ি তুই হাঁড়ি খাস,
		নাদ্‌নার বাড়ি খেয়ে কোন্‌দিন ধনে প্রাণে বা মারা যাস্‌,
কেঁদে		মিয়াঁও মিয়াঁও ব’লে বিবি বেরালি করবে রে হার্টফেল।।
		তানপুরারই সুরে যখন তখন গলা সাধিস্,
শুনে		ভুলো তোরে তেড়ে আসে, ন্যাজ তুলে ছুটিস্,
তোরে	বস্তা পু’রে কবে কে চালান দিবে ধাপা-মেল।।
		বৌঝি যখন মাছ কোটে রে, তুমি খোঁজ দাঁও,
		বিড়াল-তপস্বী আড়নয়নে থালার পানে চাও,
তুই		উত্তম মধ্যম খা’স এত তবু হ’ল না আক্কেল।।

আনন্দ-দুলালী ব্রজ-বালার সনে

বাণী

আনন্দ-দুলালী ব্রজ-বালার সনে
			নন্দ-দুলাল খেলে হোলি!
রঙের মাতন লেগে যেন শ্যামল মেঘে
			খেলেছে রাঙা বিজলি।।
রাঙা মুঠি-ভরা রাঙা আবির-রেণু
রাঙিল পীত-ধড়া শিখি-পাখা বেণু
			রাঙিল শাড়ি কাঁচলি।।
লচকিয়া আসে মুচকিয়া হাসে
মারে আবির পিচকারি,
চাঁদের হাট তোরা দেখে যা রে দেখে যা
রঙে মাতোয়ালা নর-নারী!
শিরায় শিরায় সুরার শিহরণ
			রঙ্গে অঙ্গে পড়ে ঢলি।।

চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা

বাণী

চাঁদিনী রাতে মল্লিকা লতা।
আবার কহিতে চাহে কোন কথা।।
আবার ভ্রমর-নূপুর বাজে
কী যেন হারানো হিয়ার মাঝে,
আবার বেণুর উতলা রবে ব্যাকুল হ’য়ে
ওঠে গোপন ব্যথা।।
তনুর পিঞ্জর ভাঙিয়া কেন হায়,
না-জানা-আকাশে হৃদয় যেতে চায়।
বায়ুরে ডেকে বলে, বহিতে নারি আর
যে দিল, তা’রে দিও সুরভি মধু-ভাব,
কৃপা কর, আমি ঝরিয়া ম’রে যাই
সহিতে পারি না মাটির মমতা।।