কোথায় গেলি মাগো আমার

বাণী

কোথায় গেলি মাগো আমার খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রেখে
ক্লান্ত আমি খেলে খেলে এ সংসারে ও-মা ধুলা মেখে।।
	বলেছিলি সন্ধ্যা হ'লে
	ধুলা মুছে নিবি কোলে
ও-মা  ছেলেরে তুই গেলি ছ'লে পাইনে সাড়া ডেকে' ডেকে'।।
এ কি খেলার পুতুল মা গো দিয়েছিলি মন ভুলাতে
আধেক তাহার হারিয়ে গেছে আধেক ভেঙে আছে হাতে।
	এ পুতুলও লাগছে মা ভার
	তোর পুতুল তুই নে গো এবার
এখন সন্ধ্যা হলো ও-মা সন্ধ্যা হলো নামলো আঁধার
	ঘুম পাড়া মা আঁচল ঢেকে।।

জাগো মালবিকা জাগো মালবিকা

বাণী

জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা!
ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।।
বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো,
বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।।
তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো,
তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে

বাণী

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে ঐ কোন্ উদাসী।
বুকে কেন নীরব বীণা মুখে কেন নেইকো হাসি।।
	আকাশে চাঁদ তারার মেলা
	বনের পথে রঙের ডালা
তবু কেন আঁখিতে ওর উথলে পড়ে অশ্রুরাশি।।
	বনের হাওয়ায় বাজিয়ে বেণু১,
	ছড়িয়ে চলে ফুলের রেণু
বিদেশিকে আন্‌না ডেকে সাধ হয়েছে ভালবাসি।।

১. ফুলেল হাওয়া

এত জল ও কাজল চোখে

বাণী

এত জল ও কাজল চোখে, পাষানী আনলে বল কে।
টলমল জল-মোতির মালা দুলিছে ঝালর-পলকে ।।
দিল কি পূব হাওয়াতে দোল, বুকে কি বিঁধিল কেয়া?
কাঁদিয়া কুটিলে গগন এলায়ে ঝামর-অলকে।।
চলিতে পৈঁচি কি হাতের বাঁধিল বৈচি-কাঁটাতে?
ছাড়াতে কাঁচুলির কাঁটা বিঁধিল হিয়ার ফলকে।।
[যে দিনে মোর দেওয়া-মালা ছিঁড়িলে আনমনে সখি,
জড়াল জুই-কুসুমি-হার বেণীতে সেদিন ওলো কে।।
যে-পথে নীর ভরণে যাও বসে রই সে পথ-পাশে
দেখি, নিত কার পানে চাহি কলসীর সলিল ছলকে।।]
মুকুলী-মন সেধে সেধে কেবলি ফিরিনু কেঁদে,
সরসীর ঢেউ পালায় ছুটি' না ছুঁতেই নলিন-নোলকে ।।
বুকে তোর সাত সাগরের জল, পিপাসা মিটল না কবি
ফটিক জল ! জল খুঁজিস যেথায় কেবলি তড়িৎ ঝলকে।। 

দে গরুর গা ধুইয়ে

বাণী

দে গরুর গা ধুইয়ে –
নিয়ে ষন্ডা মার্কা গিন্নি গন্ডা তিনেক আন্ডা বাচ্চা
ঠান্ডা মেরে গেছি দাদা তোমরা ভাব আজি আচ্ছা
আমি থাকি বাছুর ধরে খায় অন্যে গাই দুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
নিতি নূতন পুষ্যি (গজায়) যেন গোদের উপর গ্যাঁজ
যেন দুম্বা ভেড়ার ন্যাজ বাবা
(ঘরে) হাঁড়িতে ইঁদুর ডন ফেলে আর বাহিরে রসুন প্যাঁজ
ভাই হোটেলে রসুন প্যাঁজ
চুটকে আমায় চাটনী করলে সিক্‌নি ঝরে নাক চুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
খামচা খামচি করে নিতুই এ সংসারের সাথে
নুন ছাল উঠে গেল প্রাণের মাথা হল আলু ভাতে
করাত চেরা করে বরাত আমার উপর চিৎ শুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে –
পাছড়ে ফেলে স্ত্রী পুত্র যেন প্যাঁচড়া আঁচড়ায়
জিসকা ফাটে উসকা ফাটে ধোবি বসে আছড়ায়
ন্যাংটা শিরের মন্ত্র দাদা পেয়েছি দু-কান খুইয়ে।
দে গরুর গা ধুইয়ে — জোরেসোরে।

অন্তরে প্রেমের দীপ জ্বলে যার

বাণী

অন্তরে প্রেমের দীপ জ্বলে যার,
ত্রিভুবনে নাই তার কোথাও আঁধার।।
পথের ধূলি তারই চরণ যাচে
আকাশ কথা কয় তাহারি কাছে,
তা’রি তরে খোলা থাকে সকলের ঘর
		সকলের হৃদয়-দুয়ার।।
কে বলে ভিখারিনী সে — কে বলে সে ভিখারি।
ভিক্ষা-ঝুলিতে তার বিশ্ব থাকে — ভগবান তাহার দ্বারী।
তার রীতি বোঝা যায় না
বুকে যার বহে নিতি পিরিতি-জোয়ার।।