আমার বিফল পূজাঞ্জলি অশ্রু-স্রোতে যায় যে ভেসে

বাণী

আমার বিফল পূজাঞ্জলি অশ্রু-স্রোতে যায় যে ভেসে
তোমার আরাধিকার পূজা হে বিরহী, লও হে এসে॥
	খোঁজে তোমায় চন্দ্র তপন
	পূজে তোমায় বিশ্বভুবন,
আমার যে নাথ ক্ষণিক জীবন মিটবে কি সাধ ভালবেসে॥
না দেখা মোর, বন্ধু ওগো কোথায়, তুমি কোথায়, বাঁশি বাজাও একা,
প্রাণ বোঝে তা অনুভবে নয়ন কেন পায় না দেখা।
	সিন্ধু যেমন বিপুল টানে
	তটিনীরে টেনে আনে,
তেমনি করে তোমার পানে আমায় ডাকো নিরুদ্দেশে॥

আমি কি সুখে লো গৃহে রবো

বাণী

আমি কি সুখে লো গৃহে রবো
সখি গো —
আমার শ্যাম হলো যদি যোগী ওলো সখি আমিও যোগিনী হবো।
আমি যোগিনী হবো
শ্যাম যে তরুর তলে বসিবে লো ধ্যানে
সেথা অঞ্চল পাতি’ রবো
আমার বঁধুর পথের ধূলি হবো
আমায় চলে যেতে দলে যাবে সেই সুখে লো ধূলি হবো
সখি গো —
আমি আমার সুখের গোধূলি বেলার
রঙে রঙে তারে রাঙাইব
তার গেরুয়া রাঙা বসন হয়ে
জড়াইয়া রবো দিবস যামী
সখি গো —
সখি আমার কঠিন এ রূপ হবে রুদ্রাক্ষেরই মালা
তার মালা হয়ে ভুলব আমার পোড়া প্রাণের জ্বালা
আমার এ দেহ পোড়ায়ে হইব চিতা ছাই
মাখিবে যোগী মোর পুড়িব সেই আশায়
পোড়ার কি আর বাকি আছে
আমার শ্যাম গেছে যোগী হয়ে ছায়া শুধু পড়ে আছে।।

বেদনার বেদীতলে পেতেছি আসন

বাণী

বেদনার বেদীতলে পেতেছি আসন, হে দেবতা!
সেথা আর কেহ নাই আমরা দু’জন, কহিব কথা।।
	বাহির ভুবনে তব কত পূজারি
	সেথায় মনের কথা কহিতে নারি,
তাই হৃদয় দেউলে রেখে’ দিয়েছি আগল —
সেথা তোমার চরণ-তলে জানাব গোপন প্রাণের ব্যথা।।
	পূজা-মন্দির হ’তে এসে চুপে চুপে
	হে দেবতা! সাজায়েছি প্রিয় রূপে!
সবার সমুখে তাই মালা দিতে লাজ পাই —
প্রেমের বাসর ঘরে পরাব বরণ-মালা, হব প্রণতা।।

আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ

বাণী

আমি যদি আরব হ’তাম — মদিনারই পথ।
এই পথে মোর চ’লে যেতেন নূর নবী হজরত।।
পয়জার তাঁর লাগত এসে আমার কঠিন বুকে,
আমি ঝর্না হয়ে গ’লে যেতাম অম্‌নি পরম সুখে;
সেই চিহ্ন বুকে পুরে পালিয়ে যেতাম কোহ্‌-ই-তুরে,
দিবা নিশি করতাম তাঁর কদম জিয়ারত।।
মা ফাতেমা খেলতো এসে আমার ধূলি ল’য়ে
আমি পড়তাম তাঁর পায়ে লুটিয়ে ফুলের রেণু হয়ে।
হাসান হোসেন হেসে হেসে নাচতো আমার বক্ষে এসে
চক্ষে আমার বইতো নদী পেয়ে সে নেয়ামত।।

নিরজন ফুলবন এসো প্রিয়া

বাণী

নিরজন ফুলবন, এসো প্রিয়া
রহি’ রহি’ বলে কোয়েলিয়া।।
পথ পানে চাহি, নাহি নিদ নাহি
ঝরা ফুল জড়ায়ে ঝুরে হিয়া।।

আল্লা নামের নায়ে চ’ড়ে

বাণী

	আল্লা নামের নায়ে চ’ড়ে যাব মদিনায়।
	মোহাম্মদের নাম হ’বে মোর (ও ভাই) নদী-পথে পুবান বায়।।
	চার ইয়ারের নাম হ’বে মোর সেই তরণীর দাঁড়
	কল্‌মা শাহাদতের বাণী হাল ধরিবে তা’র,
	খোদার শত নামের শুন্ টানিব (ও ভাই) নাও যদি না যেতে চায়।।
মোর	নাও যদি না চলিতে দেয় সাহারার বালি,
	মরুভূমে বান ডাকাব, (চোখের) পানি দিব ঢালি’।
	তাবিজ হ’য়ে দুল্‌বে বুকে কোরান, খোদার বাণী
	আঁধার রাতে ঝড়-তুফানে আমি কি ভয় মানি!
	আমি তরে’ যাব রে তরী যদি ডুবে’ তারে না পায়।।

১. দুর্দিনেরই ঝড়-তুফানে, ২. ডুবে তাঁহার এলাকায়