স্বপনের ফুলবনে যেদিন দেখিনু

বাণী

স্বপনের ফুলবনে যেদিন দেখিনু রূপরানী তোমায়।
চকিতে ঐ চোখে তোমার শরমের কোন হাসি লুকায়।।
নিরালার কুঞ্জ বীথিকায় সে প্রথম প্রেম নিবেদনে
দেখেছি ঐ অধর কোণে সে-ভীরু কোন হাসি পালায়।।
বিদায়ের সে-বেদন বেলায় মানা না মানলে আঁখি-জল
ভোরে ম্লান চাঁদসম সখি বিমলিন কোন হাসি লুকায়।।
আজ আর নাই হাসি খেলা নিভেছে সে-উজল আলো
ভাবি আজ সব চেয়ে তোমার ভুলালো কোন্‌ হাসি আমায়।।

ঐ ঐ ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী

বাণী

ঐ, ঐ, ঐ আসে কর্ণ কৌরব সেনানী।
মহাবীর ভীষ্ম গেছে, দ্রোণ গেছে জানি।
কর্ণে বধিতে হবে, কুরুক্ষেত্র রণে।
তারপর বধিব মোরা নীচ দুযোর্ধনে।।

লেটো গান: ‘কর্ণ বধ’

রক্ষা-কালীর রক্ষা-কবচ আছে আমায় ঘিরে

বাণী

রক্ষা-কালীর রক্ষা-কবচ আছে আমায় ঘিরে
মায়ের পায়ের ফুল কুড়িয়ে বেঁধেছি মোর শিরে॥
	মা’র চরণামৃত খেয়ে
	অমৃতে প্রাণ আছে ছেয়ে,
দুঃখ অভাব ভাবনার ভার দিয়েছি মা ভবানীরে॥
তারা নামের নামাবলী জড়িয়ে আমার বুকে,
মায়ের কোলে শিশুর মত ঘুমাই পরম সুখে।
	মা’র ভক্তের চরণ ধূলি
	নিয়েছি মোর বক্ষে তুরি
মায়ের পূজার প্রসাদ পেতে আমি আসি ফিরে ফিরে॥

কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী

বাণী

কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী দূর ভালো।
নাই কহিলে কথা তুমি ব'লো গানে সুর ভালো।।
	নাই দাঁড়ালে কাছে আসি'
	দূরে থেকেই বাজিয়ো বাঁশি।
চরণ তোমার নাই বা পেলাম চরণের নূপুর ভালো।।
ওগো পথে পাওয়ার চেয়ে আমায় চাওয়ায় যেন পথ-বঁধু
দুই কূলেতে রইব দুজন বইবে মাঝে স্রোত-বঁধূ।
	পরশ তোমার চাই না প্রিয়
	তোমার হাতের আঘাত দিও
মিলন তোমার সইতে নারি বেদনা-বিধুর ভালো।।

এলো ফুলের মরশুম

বাণী

এলো ফুলের মরশুম শরাব ঢালো সাকি
বকুল শাখে কোকিল ওঠে ডাকি’।।
গেয়ে ওঠে বুলবুল আঙ্গুর-বাগে
নীল আঁখি লাল হলো রাঙ্-অনুরাগে
আজি ফুল-বাসরে শিরাজির জল্‌সা
		বরবাদ্‌ হবে না-কি।।
চাঁপার গেলাস ভরি’ ভোমরা মধু পিয়ে
মহুয়া ফুলের বাসে আঁখি আসে ঝিমিয়ে।
পাপিয়া পিয়া পিয়া ডাকে বন-মাঝে
গোলাপ-কপোল রাঙে গোলাপী লাজে
হৃদয়-ব্যথার সুধা আছে তব কাছে
		রেখো না তারে ঢাকি’।।

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো

বাণী

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো,
সে বলেও না টলেও না থমথম করে গো॥
যেন নতুন পিঞ্জরের পাখি, ঘেরা টোপে ঢাকা থাকি
জটিলা-কুটিলার ভয়ে আছি আমি ম’রে গো॥
যেন চোরের বউ কান্‌তে নারি ভয়ে ফুকারিয়া গো,
আমি রান্না ঘরে কান্না লুকাই লঙ্কা-ফোড়ন দিয়া গো।
ব্যথার ব্যথী পাইরে কোথা, জানাই যা’রে মনের ব্যথা
বুকে ধিকি ধিকি তুষের আগুন জ্ব’লবে চিরতরে
বুঝি জ্ব’লবে জনম ভ’রে গো॥