ছিটাইয়া ঝাল নুন এলো ফাল্গুন মাস

বাণী

ছিটাইয়া ঝাল নুন এলো ফাল্গুন মাস
কাঁচা বুকে ধরে ঘুণ, শ্বাস ওঠে ফোঁস ফাঁস।।
শিমুল ফুলের মত ফটাফট্‌ ফাটে হিয়া
প্রেম-তুলো বের হয়ে পড়ে গো ছড়াইয়া,
সবে বালিশ ধরিয়া করে ছটপট হাঁসফাঁস।।
চিবুতে সজ্‌’নে খাড়া সজনীরা ভুলে যায়,
আনাগোনা করে প্রেম পরানের দরজায়,
হৃদয়ের ইঞ্জিনে গ্যাস্‌ ওঠে ভোঁস ভাঁস।।
কচি আম-ঝোল-টক খাইয়া গিন্নি মায়
বৌঝির সাথে করে টক্ষাই টক্ষাই।
আইবুড়ো আইবুড়ি জল গেলে ছ’ গেলাস।।
বিরহিণীদের আঁখি-কলসি হয়েছে ফুটো,
গাধাও আজ গাহে গান ফেলিয়া ঘাসের মুঠো,
নোনা-পাকা মন বলে, কবে আসে তালশাঁস।।

চঞ্চল সুন্দর নন্দকুমার

বাণী

চঞ্চল সুন্দর নন্দকুমার।
গোপী চিতচোর প্রেম-মনোহর নওল কিশোর
অন্তর মাঝে বাজে বেণু তার নন্দকুমার
	নন্দকুমার, নন্দকুমার॥
শ্রাবণ আনন্দ নূপুর ছন্দ রুনুঝুনু বাজে
নন্দের আঙিনায় নন্দন চন্দ, নাচিছে হেলে দুলে গোপাল সাজে।
টলমল টলে রাঙা পদতলে লঘু হ’য়ে বিপুল ধরণীর ভার —
	নন্দকুমার, নন্দকুমার, নন্দকুমার॥
রূপ নেহারিতে এলো লুকায়ে দেবতা
কেহ গোপগোপী হলো, কেহ তরুলতা;
আনন্দ-অশ্রু নদী হ’য়ে বয়ে যায়, উতল যমুনায়।
প্রণতা প্রকৃতি নিরালা সাজায়,
বনডালায় পূজা ফুল সম্ভার।
	নন্দকুমার, নন্দকুমার, নন্দকুমার॥

আমার সুরের ঝর্না-ধারায়

বাণী

আমার সুরের ঝর্না-ধারায় করবে তুমি স্নান।
ওগো বধূ! কণ্ঠে আমার তাই ঝরে এই গান।।
	কেশে তোমার পর্‌বে বালা
	তাই গাঁথি এই গানের মালা,
তোমার টানে ভাব-যমুনায় বহিছে উজান।।
আমার সুরের ইন্দ্রাণী গো, উঠ্‌বে তুমি ব’লে,
নিত্য বাণীর সিন্ধুতে মোর মন্থন তাই চলে।
	সিংহাসনের সুর-সভাতে
	বসবে রানীর মহিমাতে,
সৃজন করি’ সেই গরবে সুরের পরীস্থান।।

স্বপনে এসো নিরজনে

বাণী

(প্রিয়া) স্বপনে এসো নিরজনে।
(প্রিয়া) আধো রাতে চাঁদের সনে।।
	রহিব যখন মগন ঘুমে
	যেয়ো নীরবে নয়ন চুমে’,
মধুকর আসে যেমন গোপনে মল্লিকা চামেলি বনে।।
	বাতায়নে চাঁপার ডালে
	এসো কুসুম হয়ে নিশীথ কালে,
ভীরু কপোতী সম এসো হৃদয়ে মম বাহুর মালা হয়ে বাসর শয়নে।।

আনারকলি! আনারকলি!

বাণী

আনারকলি! আনারকলি!
স্বপ্নে দেখে’ কোন্ ডালিম-কুমারে
এসেছিলে রেবা ঝিলামের’ পারে,
দিতে তব রাঙা হৃদয়ের অঞ্জলি।।
মরুর মণিকা বাদশাহী নওরোজে
এসেছিলে কোন্ হারানো হিয়ার খোঁজে,
তব রূপ হেরি’ হেরেমের দীপ-মালা উঠেছিল চঞ্চলি’।।
পতঙ্গ সম পাপড়ির পাখা মেলি’ আনারকলি গো — 
সেলিমের অনুরাগ-মোমের প্রদীপে পড়িলে ঢলি’ গো — 
মিলায়েছে মাটিতে মোগলের মসনদ, আনারকলি।
তুমি আজো দুলিতেছ ফুলের হাসিতে
বিরহীর বাঁশিতে, আনারকলি;
তব জীবন্ত সমাধির বিগলিত পাষাণে
আজও প্রেম-যমুনার ঢেউ ওঠে উথলি’।।

সঙ্গীতালেখ্য: ‘পঞ্চাঙ্গনা’

ঘেরিয়া গগন মেঘ আসে

বাণী

ঘেরিয়া গগন মেঘ আসে।
	বিহ্বল ধরণী,
দশ দিশি কাঁপে তরাসে।।
	বিদ্যুৎ ঝলকে,
	ঝামর অলকে,
ঝমঝম ঝাঁঝর বাজে ঘন আকাশে।।
	শিখী নাচে হরষে
	বারিধারা বরষে,
চাতক চাতকী পাগল পিয়াসে।।