পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে চল গো

বাণী

পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে			চল গো পানসি বেয়ে’।
ঢেউ-এর তালে তালে			বাঁশিতে গজল গেয়ে’।।
মেঘের ফাঁকে ফোটে			বাঁকা শশীর চিকন হাসি,
উজান বেয়ে চল			তুমি কি তার চোখে চেয়ে।।
ও-পারে লুকায়ে আঁধার		গভীর ঘন বন-ছায়,
আকাশে হেলান দিয়ে			আলসে পাহাড় ঘুমায়।
ঘুমায়ে দূরে সে কোন গ্রাম		বাসরে পল্লী-বধূর প্রায়
এ-পারে ধূ-ধূ বালুচর			যেন নদীর আঁচল লুটায়।
ছাড়ি’ এ সুখ-বাস			চলেছ কোথায় গো নেয়ে।।
নদীর দু’তীরে টানে			বেতস-লতা উত্তরীয়,
চমকি’ উঠি’ চখি			ডাকে মুহু মুহু ‘কিও!’
চকোরী চাঁদে ভুলি’			চাহে তব মুখপানে,
কেঁদে পাপিয়া শুধায়,			‘পিউ কাঁহা, কাঁহা পিও।’
তুমি যাও আপন-বিভোল		স্বপনে নয়ন ছেয়ে’।।

হাসি মুখে বাসিফুল ফেলে দাও ভোরে

বাণী

হাসি মুখে বাসিফুল ফেলে দাও ভোরে।
মোর মন নিয়ে ফেলে দিলে তেমনি ক’রে।।
কেন ডেকেছিলে তব উৎসব সভাতে
অবহেলা ভরে যদি ফেলে দিবে প্রভাতে,
অকারণ অকরুণ বাণ হানিতে কেন —
	বনের পাখিরে এনেছিলে পিঞ্জরে।।
গান গেয়ে চলেছিনু আপনার পথে,
কেন তব হৃদয়ে ঠাঁই দিলে আমারে এনে পথ হতে।
পুতুল খেলার মত মোরে ল’য়ে খেলিলে
বক্ষে রাখিয়া শেষে পায়ে দ’লে ফেলিলে,
দেবতার পূজা শেষে বিগ্রহ ল’য়ে —
	ডুবাইলে নদী-জলে নিষ্ঠুর ক’রে।।

মনে রাখার দিন গিয়েছে

বাণী

মনে রাখার দিন গিয়েছে এখন ভোলার বেলা
আর লাগে না ভালো আমার হৃদয় নিয়ে খেলা।।
	লগ্ন ছিল ছিল সময়
	পরান ভরা চিল প্রণয়,
সেদিন যদি আসতে মলয় বসতো ফুলের মেলা।।
সুকুমার সুন্দর যাহা চিল আমার মাঝে
গেছে ম'রে নিরাশাতে ঝ'রে গেছে লাজে।
	আজ উদাসীন শূন্য মনে
	ঘুরে বেড়াই অকারণে
তোমার চেয়েও আমি আমায় হানি অবহেলা।।

ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

বাণী

	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
		তোমারে পরাব,
মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
		সুরধুনী ঝরাব।
	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥

আজি গানে গানে ঢাক্‌ব আমার

বাণী

আজি		গানে গানে ঢাক্‌ব আমার গভীর অভিমান।
		কাঁটার ঘায়ে কুসুম ক’রে ফোটাব মোর প্রাণ।।
			ভুলতে তোমার অবহেলা
			গান গেয়ে মোর কাট্‌বে বেলা,
		আঘাত যত হান্‌বে বীণায় উঠ্‌বে তত তান।।
			ছিড়লে যে ফুল মনের ভুলে
			আমি গাঁথব মালা সেই ফুলে,
(ওগো)		আস্‌বে যখন বন্ধু তোমার কর্‌ব তা’রে দান।।
(আজি)		কথায় কথায় মিলায়ে মিল
		কবি রে, তোর ভরল কি দিল্‌,
তোর		শূন্য হিয়া, শূন্য নিখিল মিল পেল না প্রাণ।।

তুম আনন্দ ঘনশ্যাম ম্যয় হুঁ

বাণী

তুম আনন্দ ঘনশ্যাম ম্যয় হুঁ প্রেম-দিওয়ানী রাধা।
বাঁশরি শুনকে তোরি আয়ি মধুবনমে না মানু কলঙ্ককি বাধা।।
যুগ যুগান্ত অনন্তকাল সে হৃদয়-বৃন্দাবনে মে,
তুমহারে হামরে এহি লীলা নাথ চলত রহি মনমে।
	মেরে সঙ্গ রোয়ে প্রেম বিগলিতা
	ভক্তি বিশাখা প্রীতি ললিতা,
তুমকো যো চাহে মেরি তরহেসে রোয়ত জীব সমাধা।।