আমায় আর কতদিন মহামায়া

বাণী

(আমায়)		আর কতদিন মহামায়া রাখ্‌বি মায়ার ঘোরে।
(মোরে)		কেন মায়ার ঘূর্ণিপাকে ফেল্‌লি এমন করে।।
		(ওমা) কত জনম করেছি পাপ
			কত লোকের কুড়িয়েছি শাপ,
		তবু মা তার নাই কি গো মাফ ভুগব চিরতরে।।
		এমনি ক’রে সন্তানে তোর ফেল্‌লি মা অকূলে,
		তোর নাম যে জপমালা তাও যাই হায় ভুলে’।
			পাছে মা তোর কাছে আসি
		তাই	বাঁধন দিলি রাশি রাশি,
কবে		মুক্ত হ’ব মুক্তকেশী (তোর) অভয় চরণ ধ’রে।।

ঠাকুর তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল

বাণী

ঠাকুর! তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল (তুমি) যেমন বুনো ওল।
তোমার কুলের কথা (গোকুলের কথা) রটিয়ে দোবো
বাজিয়ে ঢাক ঢোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
কেঁদে হেঁই হেঁই যে করে, তার তরে তোমার প্রেম নেই,
তুমি আয়ান ঘোষকে দেখা দিলে দেখলে লাঠি যেই।
সেদিনও নদীয়াতে কল্‌সি কানার এক ঘায়েতে
পাপ নিয়ে জগাই মাধাই-এ দিলে তুমি কোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
ঐ অগ্রদ্বীপে ভোগ দিল না গোবিন্দ ঘোষ,
তারে বাবা ব’লে করলে আপোষ;
বাগবাজারে ধমক খেয়ে
সাজ্‌লে তামাক মদ্‌না হয়ে
বদ্‌লে ফেলে ভোল, ঠাকুর বাজিয়ে শ্রীখোল।।
ভালো চাও ত’ শুনিয়ো নূপুর, রাত্রি দুপুর কালে,
মন্দিরে মোর নেই অধিকার এসো ঘরের চালে –
আমার ভাঙা কুঁড়ের চালে।
জান আমি ভীষণ গোঁয়ার, ধার ধারি না ভক্তি ধোঁয়ার
ধরব যেদিন বুঝবে ইয়ে,
চাঁচর কেশ মুড়িয়ে ঢাল্‌ব মাথায় ঘোল।।

গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী

বাণী

	গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী।
	দূরে দাঁড়ায়ে দেখে ভয়-ভীতা মেদিনী।।
	দেখায় মেঘের ঝাপি তুলিয়া
	ফনা তুলি’ বিদ্যুৎ-ফণি ওঠে দুলিয়া,
	ঝড়ের তুব্‌ড়িতে বাজে তার অশান্ত রাগিণী।।
	মহাসাগরে লুটায় তার সর্পিল অঞ্চল
	দিগন্তে দুলে তার এলোকেশ পিঙ্গল
	ছিটায় মন্ত্রপূত ধারাজল অবিরল তন্বী-মোহিনী।।
	অশনি-ডমরু ওঠে দমকি’
	পাতালে বাসুকি ওঠে চমকি’
তার 	ডাক শুনে ছুটে আসে নদীজল যেন পাহাড়িয়া নাগিনী।।

ওরে ও দরিয়ার মাঝি মোরে নিয়ে যা

বাণী

ওরে ও দরিয়ার মাঝি! মোরে নিয়ে যা রে মদিনা।
তুমি মুর্শিদ হ'য়ে পথ দেখাও ভাই আমি যে পথ চিনি না।।  
	আমার প্রিয় হজরত সেথায়
	আছেন নাকি ঘুমিয়ে ভাই,
আমি প্রাণে যে আর বাঁচি না রে আমার হজরতের দরশ বিনা।। 
নদী নাকি নাই ও দেশে, নাও না চলে যদি —
আমি চোখের সাঁতার পানি দিয়ে বইয়ে দেব নদী। 
	ঐ মদিনার ধূলি মেখে
	কাঁদবো 'ইয়া মোহাম্মদ' ডেকে ডেকে রে —
কেঁদেছিল কারবালাতে, (ওরে) যেমন বিবি সাকিনা।।

আমি নূতন ক’রে গড়ব ঠাকুর

বাণী

আমি নূতন ক’রে গড়ব ঠাকুর কষ্টি পাথর দে মা এনে।
দিব হাতে বাঁশি মুখে হাসি ডাগর চোখে কাজল টেনে।।
মথুরাতে আর যাবে না, মা যশোদায় কাঁদাবে না,
রইবে ব্রজগোপীর কেনা, চলবে রাধার আদেশ মেনে।।
শ্রীচরণ তার গড়ব না মা, গড়লে চরণ পালিয়ে যাবে
নাইবা শুনলে নূপুর-ধ্বনি, ঠাকুরকে তো কাছে পাবে।
চরণ পেলে দেশে দেশে, কুরুক্ষেত্র বাঁধাবে সে —
গন্ধমালা দিসনে মাগো, ভক্ত ভ্রমর ফেলবে জেনে।।
	দেখে কখন করবে চুরি
	একলা ঘরে মরব ঝুরি,
গন্ধমালা দিসনে মাগো, ভক্ত ভ্রমর ফেলবে জেনে।।

কেন আমায় আন্‌লি মাগো

বাণী

	কেন আমায় আন্‌লি মাগো মহাবাণীর সিন্ধু কূলে।
মোর	ক্ষুদ্র ঘটে এ সিন্ধু-জল কেমন ক’রে নেবো তুলে।।
	চতুর্বেদে এই সিন্ধুর জল
	ক্ষুদ্র চারিবিন্দু হয়ে করছে টলমল,
	এই বাণীরই বিন্দু যে মা গ্রহ তারা গগন মূলে।
	ইহারই বেগ ধরতে শিরে, শিবের জটা পড়ে খুলে।।
	অনন্তকাল রবি-শশী এই সে-মহাসাগর হ’তে,
	সোনার ঘটে রসের ধারা নিয়ে ছড়ায় ত্রিজগতে।
	বাঁশিতে মোর স্বল্প এ আধারে
	অনন্ত সে-বাণীর ধারা ধরতে কি মা পারে?
	শুনেছি মা হয় সীমাহীন ক্ষুদ্রও তোর চরণ ছুঁলে।।