ফিরে আয় ঘরে ফিরে আয়

বাণী

ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
পথহারা, ওরে ঘর-ছাড়া,
	ঘরে আয় ফিরে আয়।।
ফেলে যাওয়া তোর বাঁশরি, রে কানাই —
কাঁদে লুটায়ে ধুলায়,
	ফিরে আয় ঘরে আয়।।
ব্রজে আয় ফিরে ওরে ও কিশোর
কাঁদে বৃন্দাবন কায়দে রাখা তোর
বাঁধিব না আর ওরে ননী-চোর
	অভিমানী ফিরে আয়।।

আমায় আর কতদিন মহামায়া

বাণী

(আমায়)		আর কতদিন মহামায়া রাখ্‌বি মায়ার ঘোরে।
(মোরে)		কেন মায়ার ঘূর্ণিপাকে ফেল্‌লি এমন করে।।
		(ওমা) কত জনম করেছি পাপ
			কত লোকের কুড়িয়েছি শাপ,
		তবু মা তার নাই কি গো মাফ ভুগব চিরতরে।।
		এমনি ক’রে সন্তানে তোর ফেল্‌লি মা অকূলে,
		তোর নাম যে জপমালা তাও যাই হায় ভুলে’।
			পাছে মা তোর কাছে আসি
		তাই	বাঁধন দিলি রাশি রাশি,
কবে		মুক্ত হ’ব মুক্তকেশী (তোর) অভয় চরণ ধ’রে।।

তুমি বহু জনমের সাধ মিটালে

বাণী

তুমি বহু জনমের সাধ মিটালে এ বিরহীরে কাঁদাইয়া।
কভু অবহেলা, কভু অনাদর কভু সে আদর দিয়া।।
	ভিক্ষা পেয়েও দাঁড়াইয়া থাকে দ্বারে
	ক্ষমা করো তুমি তারে,
ভিখারির মন নাহি ভরে যদি হাতের ভিক্ষা নিয়া।।
ধনীর প্রাসাদে গেল না ভিখারি তোমার কুটিরে এসে,
ভিক্ষা-পাত্র তুলিয়া ধরিল কেন আঁখি-জলে ভেসে’।
	জানে না কে তারে পথ দেখাইল,
	কোন্ সুন্দর যেন বলে দিল;
আপনারে দিতে সব কিছু নিয়া
	জাগিছে রে তোর (চিরজনমের) প্রিয়া।।

উদার প্রাতে কে উদাসী এলে

বাণী

		উদার প্রাতে কে উদাসী এলে।
		প্রশান্ত দীঘল নয়ন মেলে’।।
		স্নিগ্ধ সকরুণ তোমার হাসি
		আঘাত করে যেন আমারে আসি’,
পাষাণ সম তব মৌন মূরতি মোর বুকে বিষাদের ছায়া কেন ফেলে।।
		উন্মন ভিখারি গো বল মোর কাছে
		শূন্য হৃদয় তব কোন মন যাচে,
অশ্রু তুষার ঘন বিগ্রহ তব গলিয়া পড়িবে প্রেমে কার মালা পেলে।।

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা

বাণী

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা নামিল সখি মোর পরানে।
	ভরি’ মোর নিশীথ নিঝুম,
	বাজে নূপুর কার রুমুঝুম,
	মোর চোখে নাহি ঘুম —
পাষাণ টুটে লো যায় ছুটে মন-তটিনী মোর সাগর পানে।।
পান্‌সে চাঁদের জোছনাতে ঐ বেলের কুঁড়ি মুঞ্জরে,
মন যেতে চায় ফুল-বিছানো বকুল-বীথির পথ ধ’রে।
	আজ চাইবে যে, দিব তাকে
	সেই ফুল ছুঁয়ে এই আপনাকে,
অরুণ-রাগে হৃদয় জাগে, ভাসিয়া যাব নৃত্যে গানে।।

আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি

বাণী

আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি বোঝনি কি রসিক বঁধূ।
তুমি মন বোঝ মনোচোর মান বোঝ নাকি হে —
তুমি ফুল চেন, চেন নাকি মধু?
তুমি যে মধুবনের মধুকর,
তুমি মধুরম মধুরম মধুময় মনোহর
কলহেরি কূলে রহে অভিমান-মধু যে, চেন নাকি বঁধু হে —
রাগের মাঝে রহে অনুরাগ-মধু যে, দেখ নাকি বঁধু হে —
কলঙ্কী বলে গগনের চাঁদ প্রতি দিন ক্ষয় হয়
তুমি নিত্য পূর্ণ চাঁদ সম প্রিয়তম চির অক্ষয়
এ চাঁদে একাদশী নাই হে —
শুধু রাধা একা দোষী হলো নিত্য কেন পায় না
মোর কৃষ্ণ চাঁদে যে একাদশী নাই হে —
সেই ব্রজগোপীদের ঘর আছে পর আছে
কৃষ্ণ বিনা নাই রাধার কেহ
আমিও জানি যেন আমাও শ্রীকৃষ্ণ কেবল রাধাময় দেহ।
সে রাধা প্রেমে বাঁধা সে রাধা ছাড়া জানে না, রাধাময় দেহ
সে রাধা প্রেমে বাঁধা।