ভারতের দুই নয়ন তারা হিন্দু-মুসলমান

বাণী

ভারতের দুই নয়ন তারা হিন্দু-মুসলমান
দেশ জননীর সমান প্রিয় যুগল সন্তান।।
তাইতো মায়ের কোল নিয়ে ভাই
ভা’য়ে ভা’য়ে বাধে লড়াই
এই কলহের হবেই হবে মধুর অবসান
এক দেশেরই অন্নজলে এক দেহ এক প্রাণ।।
আল্লা বলে কোরান তোমায়, এলা বলে বেদ,
যেমন পানি, জলে রে ভাই শুধু নামের ভেদ।
মোদের মাঝে দেয়াল তুলতে যে চায়
জানবে মোদের শত্রু তাহায় (জানবে রে)
বিবাদ ক’রে এনেছি হায় অনেক অকল্যাণ
মিলনে আজ উঠুক জেগে নব-হিন্দুস্থান।
		জেগে উঠুক হিন্দুস্থান।।

পায়ে বিঁধেছে কাঁটা সজনী ধীরে চল

বাণী

পায়ে বিঁধেছে কাঁটা সজনী ধীরে চল।
	ধীরে ধীরে ধীরে চল।
চলিতে ছলকি' যায় ঘটে জল ছল ছল।।
	একে পথ আঁকাবাঁকা
	তাহে কন্টক -শাখা
আঁচল ধ'রে টানে, টলে তনু টলমল।।
	ভরা যৌবন-তরী,
	তাহে ভরা গাগরি,
বুঝি হয় ভরা-ডুবি, ছি ছি বল এ কি হলো।।
	পথের বাঁকে ও কে
	হাসে ডাগর চোখে,
হাসিবে পথের লোকে সখি স'রে যেতে বল।।

ওরে বাবা এর নাম নাকি পূজা

বাণী

ওরে বাবা! এর নাম নাকি পূজা! (রে ভাই)।
(এই) পূজার ঠ্যালা সইতে সোজা মানুষ হয় যে কুঁজা।
ষষ্ঠীর কৃপায় দশটি মেয়ে রাবণের গুষ্টি সঙ্গে
আঁচিলের মতন এঁটুলির মতন নেপটে আছেন অঙ্গে।
এরা ছাড়ে না, — তবু আঁচিল ছাড়ে খেলে হোমিওপ্যাথিক থুজা।।
বেনারসি, ঢাকাই, রেশমি তসর, এণ্ডি, মট্‌কা
বইতে বইতে গা দিয়ে দাদা ঘাম ছুটে যায় বোঁট্‌কা।
(এই) চাওয়ার ভয়ে শিব ন্যাংটা, কথা কন্‌ না দশভুজা।।
গিন্নি কন্যে হন্যে হয়ে সদাই সওদা করে
(ওরা ভাবে) ব্যাঙ্কের টাকা যেন ট্যাঙ্কের জলের মতন ঝরঝর ক’রে ঝরে
তাদের এক গোঁ থিয়েটার, সিনেমা, এসেন্স, পাউডার খুঁজা।।
এ সব যদি জুটল, তবে যেতে হবে চেঞ্জে
শালা শালী সবাই এক জোটে বলে এবার ‘সস্তায় ট্রেন যে,’ ও বোনাই।
(না গেলে) দেখব সদাই গিন্নীর কুতুরে চক্ষু কেৎরে-বুঁজা।।
সবাই যেন শ্রীদুর্গার গুষ্টি, আমি যেন বাহন সিঙ্গি,
আসছে বছর পূজায় মাগো হব আমি ফিরিঙ্গি। জয় বাবা যীশুখ্রিস্টের জয়
(এই পূজার সময়) পিতা হওয়ার চেয়ে হাড়িকাঠের পাঁঠা হওয়া সোজা।।

‘পূজার ঠ্যালা’

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো

বাণী

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো
খোঁপা খুলে কেশ হলো বাউল লো।।
পথে সে বাজালো মোহন–বাঁশি
তোর ঘরে ফিরে যেতে হলো এ ভুল লো।।
কে নিল কেড়ে তোর পৈঁচী চুড়ি
বৈঁচি মালায় ছি ছি খোয়ালি কুল লো।।
ও সে বুনা পাগল পথে বাজায় মাদল
পায়ে ঝড়ের নাচন শিরে চাঁচর চুল লো।।
দিল নাকেতে নাকছাবি বাবলা ফুলি
কুঁচের চুড়ি আর ঝুঁমকো ফুল দুল লো।।
সে নিয়ে লাজ দু’কূল দিল ঘাঘরি
সে আমার গাগরি ভাসালো জলে বাতুল লো।।

নাটকঃ মহুয়া

পিয়াল ফুলের পিয়ালায় বঁধু

বাণী

পিয়াল ফুলের পিয়ালায় বঁধু অন্তর-মধু ঢেলে পিয়াব তোমায়।
রচিব হৃদয়ে মাধবী-কুঞ্জ বাহিরে ফাগুন যদি যেতে চায়।।
		বেল-ফুল যায় যদি ঝুরে
		প্রেম-ফুল দিব ডালি ভ’রে,
নিশি জেগে আমি গান শোনাব বনের বিহগ যদি মাগে বিদায়।।
		আর যদি নাহি বহে দখিনা বাতাস
	(বঁধু)	অঞ্চল আছে মোর, আছে কেশ-পাশ,
যায় যদি যাক্ ডুবে চৈতালী চাঁদ আমার চাঁদ যেন চ’লে নাহি যায়।

কেন আসিলে যদি যাবে চলি’

বাণী

কেন আসিলে যদি যাবে চলি’।
গাঁথিলে না মালা ছিঁড়ে ফুল-কলি।।
কেন বারে বারে আসিয়া দুয়ারে
ফিরে গেলে ‘পারে কথা নাহি বলি’,
কী কথা বলিতে, আসিয়া নিশীথে,
শুধু ব্যথা-গীতে গেলে মোরে ছলি’।।
প্রভাতের বায়ে কুসুম ফুটায়ে,
নিশীথে লুকায়ে উড়ে গেল অলি।।
কবি শুধু জানে, কোন্ অভিমানে,
চাহি যারে গানে কেন তা’রে দলি।।