হয়ত আমার বৃথা আশা তুমি ফিরে আসবে না

বাণী

হয়ত আমার বৃথা আশা তুমি ফিরে আসবে না।
আশা-তরী ডুববে কূলে দুখের স্রোতে ভাসবে না।।
	হয়তো তুমি এমনি ক'রে
	পথ চাওয়াবে জনম ভ'রে
রইবে দূরে চিরতরে সামনে এসে হাসবে না।।
কামনা মোর রইলো মনে রূপ ধ'রে তা উঠলো না;
বারে বারে ঝরলো মুকুল ফুল হয়ে তা ফুটলো না।
	অবুঝ এ প্রাণ তবু কেন
	তোমার ধ্যানেই বিভোর হেন
তুমি চির চপল নিঠুর - জানি, ভালোবাসবে না।।

মৃত্যু নাই নাই দুঃখ আছে শুধু প্রাণ

বাণী

মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ।
আনন্ত আনন্দ হাসি অফুরান।।
	নিরাশার বিবর হ’তে
	আয় রে বাহির পথে,
দেখ্ নিত্য সেথায় — আলোকের অভিযান।।
ভিতর হ’তে দ্বার বন্ধ ক’রে
জীবন থাকিতে কে আছিস্‌ ম’রে।
	ঘুমে যারা অচেতন
	দেখে রাতে কু-স্বপন,
প্রভাতে ভয়ের নিশি হয় অবসান।।

মনে পড়ে আজও সেই নারিকেল-কুঞ্জ

বাণী

মনে পড়ে আজও সেই নারিকেল-কুঞ্জ গুবাক্ তরুর ঘন-কেয়ারি
বালুচর, বেত-বন, দেখা হ’ত দুইজন, মন হ’ত উন্‌মন দোঁহারি।।
	গাছ থেকে টুপ্‌টাপ্‌ ঝরিত কালো জাম
	জাম ফেলে চুপচাপ মেঘ পানে চাহিতাম,
গাব নিয়ে কাড়াকাড়ি, ভাব হ’ত, হ’ত আড়ি দু’জনে —
আমি ছিনু ধনিকের ছেলে গো ছিলে ভুঁইমালিদের তুমি ঝিয়ারি।।
ভূঁইমালিদের ঘরে ভূঁইচম্পার কলি ডুমা-পরা উমা সম খেলিতে,
আমার দালান ঘরে দোতালায় কেন গো উতলা মনে ছায়া ফেলিতে।
সহসা হেরিনু তব বধূরূপ, ভাঙা চালা, হাতে তব চালুনি,
পার্শ্বে দামাল ছেলে কাঁদিছে, হেরিয়া পান্তাভাত আলুনি।
	ঘোম্‌টা টানিয়া দিলে আমারে হেরিয়া
	উদাস চোখে এলো কালো মেঘ ঘেরিয়া,
তা’রে চিনতে কি পেরেছিলে প্রণাম যে করেছিল কল্যাণী রূপ তব নেহারি’।।

কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি

বাণী

	কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি
	ঝিনুকের বুকে লুকিয়ে থাকে যেমন মোতি।।
	ঐ কলমা জপে যে ঘুমের আগে
	ঐ কলমা জপিয়া যে প্রভাতে জাগে,
	দুখের সংসার যার সুখময় হয়, তা’র —
তার	মুসিবত আসে নাকো, হয় না ক্ষতি।।
	হরদম জপে মনে কলমা যে জন
	খোদায়ী তত্ত্ব তা’র রহে না গোপন
	দিলের আয়না তার হয়ে যায় পাক সাফ
	আল্লার রাহে তার রহে মতি।
সদা	আল্লার রাহে তার রহে মতি।।
	এসমে আজম হতে কদর ইহার
	পায় ঘরে ব’সে খোদা রসুলের দিদার
	তাহারি হৃদয়াকাশে সাত বেহেশত নাচে
	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।
তার	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।

নন্দলোক হতে আমি এনেছি

বাণী

নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) আমি এনেছি রে মহামায়ায়।
				এনেছি মা মহামায়ায়।
বন্ধ যথায় বন্দী যত কংসরাজার অন্ধকারায়।।
	বন্দী জাগো! ভাঙো আগল,
	ফেল রে ছিঁড়ে পায়ের শিকল;
বুকের পাষাণ ছুঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়।।
আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম ‘নন্দালয়ে’
সেইখানে সে বংশী বাজায় আনন্দ-গোপ-দুলাল হয়ে।
	মা’র আদেশে বাজাবে সে
	অভয় শঙ্খ দেশে দেশে,
(তোরা) নারায়ণী সেনা হবি, এবার নারায়ণীর কৃপায়।।

মলয় হাওয়া আসবে কবে ফুল ফোটাতে

বাণী

মলয় হাওয়া আসবে কবে ফুল ফোটাতে।
বকুল চাঁপার বেল যুথিকার ঘুম ভাঙাতে।।
	কৃষ্ণ চূড়ার ডালে ডালে
	নাচবে তুমি, এসে সাঁঝ সকালে,
কোকিল ডাকে, আজকে এসো, চাঁদনি রাতে।।

নাটক : ‘সর্বহারা’