রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে ডেকেছে মদিনা

বাণী

রাখিস্‌নে ধরিয়া মোরে, ডেকেছে মদিনা আমায়।
আরাফাত্‌ময়দান হতে তারি তক্‌বীর শোনা যায়।।
কেটেছে পায়ের বেড়ি, পেয়েছি আজাদী ফরমান,
কাটিল জিন্দেগী বৃথাই দুনিয়ার জিন্দান-খানায়।।
ফুটিল নবীর মুখে যেখানে খোদার বাণী
উঠিল প্রথম তক্‌বীর ‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি,
যে দেশে পাহাড়ে মুসা দেখিল খোদার জ্যোতি — 
রব না দারুল হরবে যেতে দে যেতে দে সেথায়।।
যে দেশে ধূলিতে আছে হজরতের চরণ-ধূলি
সে ধূলি করিব সুরমা চুমিব নয়নে তুলি’,
যে দেশের মাটিতে আছে নবীজীর মাজার শরিফ — 
নবীজীর দেহের পুষ্প ভাসে রে যে দেশের হাওয়ায়।।

লক্ষ্মী মাগো এস ঘরে

বাণী

লক্ষ্মী মাগো এস ঘরে সোনার ঝাঁপি লয়ে করে।
কমল-বনের কমলা গো বিহর হৃদি-কমল পরে।।
	কোজাগরী-পূর্ণিমাতে
	দাঁড়াও আকাশ-আঙ্গিনাতে,
মা গো, তোমার লক্ষ্মী শ্রী জোছনা-ধারায় পড়ুক ঝরে।।
চঞ্চলা গো, এই ভবনে থাকো অচঞ্চলা হয়ে,
দারিদ্র্য আর অভাব যত দূর হোক মা তোর উদয়ে।
	সুমঙ্গলা দুঃখ-হরা।
	অমৃত দাও পাত্র-ভরা,
ঐশ্বর্য উপ্‌চে পড়ুক, হরি-প্রিয়া তোমার বরে।।

‘লক্ষ্মী-বন্দনা’

গ্রামের শেষের মাঠের পথে

বাণী

গ্রামের শেষের মাঠের পথে গান গেয়ে কে যায়
			একা বাউল আনমনা।
তার সুরে সবুজ ধানের ক্ষেত্রে ঢেউ খেলিয়া যায়
			গায় সাথে চপল-ঝরনা।।
	চলে নূপুর মুখর পায়
	সুর বাজিয়ে একতারায়,
তাথৈ তাথৈ হাততালি দেয় সাথে তালবনা।।
শান্ত নদীর কূলে হঠাৎ জোয়ার উঠে দুলে,
বালুচরে চম্‌কে চখা চাহে নয়ন তুলে’।
	ওঠে রেঙে আকাশ কোল্
	লাগে শাখায় শাখায় দোল্ লাগে দোল্,
মনের মাঝে এঁকে সে যায় সুরের আল্‌পনা।।

তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে

বাণী

তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে,
উপবাস-ক্ষীণ তবু যোগিনী বেশে।।
বুকে চাপি’ করতল বিল্বপত্র-দল,
কেঁপে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে শিব-আবেশে।।
অস্ত রবি তা’র সহস্র করে
চরণ ধ’রে বলে ফিরে যেতে ঘরে,
‘শিব দাও শিব দাও’ ব’লে লুটায় ধূলি-তলে —
কৈলাস-গিরি পানে চাহে অনিমেষে।।

চক্র সুদর্শন ছোড়কে মোহন

বাণী

চক্র সুদর্শন ছোড়কে মোহন তুম ব্যনে বনওয়ারী।
ছিন লিয়ে হ্যয় গদা-পদম্‌ সব মিল করকে ব্রজনারী।।
	ছার ভুজা আব দো বনায়ে
	ছোড়কে বৈকুণ্ঠ ব্রিজ মে আয়ে,
রাস রচায়ে ব্রিজ্‌কে মোহন ব্যন্ গ্যয়ে মুরলী-ধারী।।
	সত্যভামাকো ছোড়কে আয়ে
	রাধা প্যারী সাথমে লায়ে,
বৈতরণী কো ছোড়কে ব্যন গ্যয়ে যমুনাকে তটচারী।।

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায়

বাণী

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায় কে নিতি।
তার অধরে হাসি আর নয়নে প্রীতি।।
দোদুল্ তাহার কায়া ঘনায় চোখে মায়া,
জেগে ওঠে দেখে তা’য় পুরানো স্মৃতি।।
তাহার চরণ-পাতে তাহার সাথে সাথে,
আসে আঁধার রাতে শুক্লা চাঁদের তিথি।।
গেলে মন দিতে চাহে না সে নিতে,
ধরিতে গেলে চোখে সে কী তার ভীতি।।
ডাকি প্রিয় ব’লে তবু যায় সে চ’লে,
পায়ে পায়ে দ’লে হৃদয় ফুল-বীথি।।