বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

বাণী

বিদায়–সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
হে প্রিয়, আমার, যাত্রা–পথ অশ্রু–পিছল ক’রোনা আর।।
		এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
		তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার।।
		হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
		যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাই হৃদি ভালোবাসার।
		তুমি বুঝিবেনা কি অভিমান
		মিলনের মালা করিল ম্লান
উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার।।

আমি বাণিজ্যেতে যাব এবার

বাণী

আমি	বাণিজ্যেতে যাব এবার মদিনা শহর।
আমি	এদেশে হায় গোনাহ্গারি ছিলাম জীবন ভর।।
	পাঞ্জেগানার বাজার যেথা বসে দিনে রাতে
	দু’টি টাকা ‘আল্লাহ্’ ‘রসুল’ পুঁজি নিয়ে হাতে,
কত	পথের ফকির সওদা ক’রে হ’ল সওদাগর।।
সেথা	আজান দিয়ে কোরান প’ড়ে ফিরিওয়ালা হাঁকে
	বোঝাই ক’রে দৌলত দেয়, যে সাড়া দেয় ডাকে
ওগো	জানেন তাহার পাকে কা’বা খোদার অফিস্-ঘর।।১
	বেহেশ্‌তে রোজগারের পরে ছাড়পত্র পায়,
	পায় সে সাহস ঈমান-জাহাজ যদি ডুবে’ যায়।
ওগো	যেতে খোদার খাস্-মহলে পায় সে সিল্‌মোহর।।

তিলক দিলে কি শ্যাম

বাণী

তিলক দিলে কি শ্যাম ত্রিলোক ভুলাতে?
কে দিল বনমালী বনমালা গলাতে?
আঁখি যেন ঢলঢল আধফোটা শতদল
কে শিখাল ও চাহনি গোপিনী ছলিতে?

অমর কানন মোদের অমর-কানন

বাণী

	অমর কানন মোদের অমর-কানন।
	বন কে বলে রে ভাই, আমাদের তপোবন
			আমাদের তপোবন।।
এর	দক্ষিণে ‘শালী’ নদী কুলুকুলু বয়,
তার	কূলে কূলে শাল-বীথি ফুলে ফুল-ময়,
হেথা	ভেসে আসে জলে-ভেজা দখিনা মলয়,
হেথা	মহুয়ার মউ খেয়ে মন উচাটন।।
	দূর প্রান্তর-ঘেরা আমাদের বাস,
	দুধ-হাসি হাসে হেথা কচি দুব-ঘাস,
	উপরে মায়ের মতো চাহিয়া আকাশ,
	বেণু-বাজা মাঠে হেথা চরে ধেনুগণ।।
মোরা	নিজ হাতে মাটি কাটি নিজে ধরি হাল,
সদা	খুশি-ভরা বুক হেথা হাসি-ভরা গাল,
মোরা	বাতাস করি ভেঙে হরিতকী-ডাল,
হেথা	শাখায় শাখায় পাখি, গানের মাতন।।
	প্রহরী মোদের ভাই ‘পূরবী’ পাহাড়,
	‘শুশুনিয়া’ আগুলিয়া পশ্চিম দ্বার,
ওরে	উত্তরে উত্তরী কানন বিথার,
দূরে	ক্ষণে ক্ষণে হাতছানি দেয় তালি-বন।।
হেথা	ক্ষেত-ভরা ধান নিয়ে আসে অঘ্রাণ,
হেথা	প্রাণে ফোটে ফুল, হেথা ফুলে ফোটে প্রাণ,
ওরে	রাখাল সাজিয়া হেথা আসে ভগবান,
মোরা	নারায়ণ-সাথে খেলা খেলি অনুখন।।
মোরা	বটের ছায়ায় বসি করি গীতা পাঠ,
	আমাদের পাঠশালা চাষী-ভরা মাঠ,
	গাঁয়ে গাঁয়ে আমাদের মায়েদের হাট,
	ঘরে ঘরে ভাই বোন বন্ধু স্বজন।।

তোমার আঁখির মত আকাশের দুটি তারা

বাণী

তোমার আঁখির মত আকাশের দু’টি তারা
চেয়ে থাকে মোর পানে নিশীথে তন্দ্রাহারা
		সে কি তুমি? সে কি তুমি??
ক্ষীণ আঁখি–দীপ জ্বালি’ বাতায়নে জাগি একা,
অসীম অন্ধকারে খুঁজি তব পথ রেখা;
সহসা দখিনা বায়ে চাঁপা–বনে জাগে সাড়া।
		সে কি তুমি? সে কি তুমি??
বৈশাখী–ঝড়ের রাতে চমকিয়া উঠি জেগে’
বুঝি অশান্ত মম আসিলে ঝড়ের বেগে,
ঝড় চ’লে যায় কেঁদে ঢালিয়া শ্রাবণ ধারা
		সে কি তুমি? সে কি তুমি??

আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি

বাণী

আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি এসেছি দেয়ালি জ্বালাতে
শুধু ক্রন্দন হয়ে আসিনি এসেছি চন্দন হতে থালাতে॥
	ধরায় আবার আসিয়াছি প্রিয়া
	তব মুখখানি দেখিব বলিয়া
তাই	প্রদীপ হইয়া নীরবে পুড়ি তোমারই বরণ ডালাতে॥
তব	মিলন বাসরে ঘুম ভাঙাইতে আসিনি
	তুমি কেন লাজে ওঠো আকুলি
তব	রাঙা মুখখানি রাঙাইয়া যাব চলে গো
	আমি সাঁঝের ক্ষণিক গোধূলি।
তব কাজল নয়ন-পল্লব ছায়ে, অশ্রুর মত রহিব লুকায়ে
ঝরিতে এসেছি ফুল হয়ে আমি তোমার বুকের মালাতে॥