হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু

বাণী

হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়,
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।
তার ভাবে বিভোল রাঙা পায়ের তলে
পর্বত জঙ্গম টলমল টলে,
খোরমা খেজুর বাদাম জাফরানি ফুল ঝ’রে ঝ’রে যায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।
আসমানে মেঘ চলে ছায়া দিতে,
পাহাড়ের আঁসু গলে ঝরনার পানিতে,
বিজলি চায় মালা হতে,
পূর্ণিমার চাঁদ তার মুকুট হতে চায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।

আবির-রাঙা আভীরা নারী সনে

বাণী

আবির-রাঙা আভীরা নারী সনে কৃষ্ণ কানাই খেলে হোলি।
হোরির মাতনে চুড়ি ও কাঁকনে উঠিছে কল-কাকলি।।
শ্যামল তনু হ’ল রাঙা আবিরে রেঙে,
ইন্দ্রধনু-ছটা যেন কাজল মেঘে,
				রাঙিল রঙে নীল চোলি।।
লহু লহু হাসে মুহু মুহু ভাসে রাঙা কুঙ্কুম ফাগের রাগে,
দোঁহে দুহু ধরি’ মারে পিচকারি চাঁদ-মুখে কলঙ্ক জাগে।
অঙ্গে অপাঙ্গে অনঙ্গ-রঙ্গিমা ইঙ্গিতে উঠিছে উছলি’।।

কে এলি মা টুকটুকে লাল

বাণী

কে এলি মা টুকটুকে লাল রক্ত-চেলি প’রে।
সারা গায়ে আবির মেখে ভুবন আলো ক’রে মা ত্রিভুবন রূপে ভ’রে।।
	পায়ে লাল জবার ফুল
	কানে ঝুমকো জবার দুল্,
লাল শাপ্‌লার মালা প’রে দুলিয়ে এলোচুল —
শুভ্র-বরণ শিবকে ফাগের রঙে রঙীন ক’রে।।
ওমা! যোগমায়া, তোর রঙে রসের ব্রজে এলো হোরি,
(তোর) নাচের তালে আনন্দ কুঙ্কুম প’ড়ে ঝরি’।
	তোর চরণ-অরুণ রাগে
	মা প্রভাত-রবি রাঙে
	মণিপুর-কমলে গায়ত্রী জাগে।
(সেই) অনুরাগের রঙীন ধারা পড়ুক বুকে ঝ’রে।।

জীবন যাপন করিতে

বাণী

জীবন যাপন করিতে,
চাষ কর বিধিমতে,
রবে যদি সুখেতে —
		এই পৃথিবী মাঝার।।
জমি ‘উগালে’ ‘সামালে’
বীজ ফেলাও কুতুহলে,
পাবে তবে সেই ফসলে —
		মেহনতের সার।।
লাগাও ধান প্রধান ফসল,
তরকারি কলাই সকল,
দাও সময় মত জল —
		যাতে প্রাণ বাঁচে তার।।
অরি হতে ফসলে
রক্ষা কর সকলে,
নজরুল এসলাম বলে —
		নইলে বাঁচা হবে ভার।।

লেটো গান : ‘চাষার সঙ’

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে

বাণী

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে
কত আদরে টানি, চুমে বদনখানি
ফুলকলি লাজে পড়ে বুকে ঢুলে ঢুলে।।
আসে ফুল-বধূ, বুকে ভরা মধু
হাসে ভ্রমর-বঁধু কলি সনে দুলে দুলে।।
সোহাগে গুনগুনিয়ে সব কথা তার কইতে বাকি
সলাজ ফুল-কুমারীর ঘোমটাখানি খুলতে বাকি,
গোপনে গোপন বুকের সুধাটুকু লুটতে বাকি,
না কওয়া যত কথা কানে কানে বলে খুলে।।

জবা কুসুম-সঙ্কাশ ঐ

বাণী

জবা কুসুম-সঙ্কাশ ঐ উদার অরুণোদয়।
অপগত তমোভয় জয় হে জ্যোতির্ময়।।
জননীর সম স্নেহ-সজল, নীল গাঢ় গগন-তল
সুপেয় বারি প্রসুন ফল —
তব দান অক্ষয়, অপহৃত সংশয়
		জয় হে জ্যোতির্ময়।।