দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত

বাণী

দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত
শ্রান্তি মাঝে হরি শান্তি দাও দাও॥
কান্ডারি হে আমার, পার কর কর পার,
উত্তাল তরঙ্গ অশান্তি পারাবার,
অভাব দৈন্য শত হৃদি-ব্যথা-ক্ষত,
যাতনা সহিব কত প্রভু কোলে তুলে নাও।।
হে দীনবন্ধু করুণাসিন্ধু,
অম্বর ব্যাপি’ ঝরে তব কৃপা-বিন্দু,
মরুর্‌ মতন চেয়ে আছি নব ঘনশ্যাম —
আকুল তৃষ্ণা ল’য়ে প্রভু পিপাসা মিটাও॥

বরষা ঐ এলো বরষা

বাণী

বরষা ঐ এলো বরষা
আলোর ধারায় জল ঝরঝরি’ অবিরল
ধূসর নীরস ধরা হলো সরসা।।
ঘন দেয়া দমকে দামিনী চমকে
ঝঞ্ঝার ঝাঁঝর ঝমঝম ঝমকে
মনে পড়ে সুদূর মোর প্রিয়তমকে
মরাল মরালীরে হেরি সহসা।।

লাল নটের ক্ষেতে লাল টুকটুকে বৌ যায়

বাণী

	লাল নটের ক্ষেতে, লাল টুকটুকে বৌ যায় গো।
তার	আলতা পায়ের চিহ্ন এঁকে নালতা শাকের গায় গো।।
	লাল নটের ক্ষেতে মৌমাছি ওঠে মেতে
	তার রূপের আঁচে পায়ের তলার মাটি ওঠে তেতে।
	লাল পুঁইয়ের লতা নুয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে পায় গো।।
	কাঁকাল বাঁকা রাখাল ছোঁড়া আগলে দাঁড়ায় আ’ল —
	রাঙা বৌ-এর চোখে লাগে লাল লঙ্কার ঝাল।
	বৌ-এর ঘেমে ওঠে গা, লাজে সরে না পা
	সে মুখ ফিরিয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায় গো।।

মন দিয়ে যে দেখি তোমায় তাই দেখিনে

বাণী

মন দিয়ে যে দেখি তোমায় তাই দেখিনে নয়ন দিয়ে।
পরান আছে বিভোর হয়ে তোমার নামের ধেয়ান নিয়ে॥
	হৃদয় জুড়ে আছ ব’লে,
	এড়িয়ে চলি নানান ছলে।
আছ আমার অন্তরে, তাই অন্তরালে রই লুকিয়ে॥
আমার কথা শুনাই না গো তোমার কথা শোনার আশায়,
ভরে আছে অন্তর মোর বন্ধু তোমার ভালোবাসায়।
	তোমায় ভালো বাসতে পেরে
	পেয়েছি মোর আনন্দেরে
অমর হলাম হে প্রিয় মোর তোমার প্রেমের সুধা পিয়ে॥

সই কই লো আমার ঘর নিকোবার

বাণী

স্ত্রী	:	সই কই লো আমার ঘর নিকোবার ন্যাতা।
পুরুষ	:	আহা ন্যাতা নয় গো শীতের কাঁথা এই যে আমি হেথা॥
স্ত্রী	:	সই-লো ওলো সই, আমার ছাই ফ্যালবার ভাঙাদ কুলো কই ?
পুরুষ	:	কুলোর বাতাস চুলোর ছাই
		স্বামী বলো কিম্বা ভাই, (ওলো) এই যে তোমার আমি।
উভয়ে	:	মিলেছি রাজ যোটক দুয়ে
পুরুষ	:	গিঁটে বাত ওরে বাবা রে বাবা গিঁটে বাত
স্ত্রী	:	আর ফিকের ব্যথা, ওরে মা রে, মা আর ফিকের ব্যথা॥
		ওলো সই বাপের বাড়ি যাব আমি এ ঘরে রব না,
পুরুষ	:	দেখো পুরুষের রাগ করে আনাগোনা
		আমিও যাব শ্বশুর বাড়ি, ওরে রেমো নিয়ে আয় ব্যাগ ছাতা।
উভয়ে	:	নথে এবং নাথে এম্‌নি যুদ্ধ।
পুরুষ	:	গুঁতোগুতি
স্ত্রী	:	জড়াজড়ি
পুরুষ	:	ছাতা-ছড়ি
স্ত্রী	:	খুনতি-বেড়ী
উভয়ে	:	হাতা॥

বল্ রে তোরা বল্ ওরে

বাণী

বল্ রে তোরা বল্ ওরে ও-আকাশ-ভরা তারা।
আমার নয়ন-তারা কোথায়? কোথায় হ’ল হারা।।
দৃষ্টিতে তার বৃষ্টি হ’ত তোদের অধিক আলো
আঁধার ক’রে নামার ভুবন কোথায় সে লুকালো,
হাত্‌ড়ে ফিরি আকাশ ভুবন, পাইনে তাহার সাড়া।।
খানিক আগে মানিক আমার ছিল রে এই চোখে,
আলোর কুঁড়ি পড়ল ঝ’রে কোন্ সে গহন-লোকে।
	বলিস্‌ তোরা আলোর রাজায়
	তাঁহার অসীম আলোকসভায়,
কম হ’ত কি আলো, আমার আঁখির আলো ছাড়া।।