ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান

বাণী

ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যানের দেবতা।
পূজা লহ, অর্ঘ্য লহ ক’য়ো না ক’য়ো না কথা।।
পাষাণ মূরতি তুমি পাষাণ হইয়া থাকো,
মন্দির-বেদী হতে ধরার ধূলায় নেমো নাকো।
তুমিও মাটির মানুষ বুঝায়ে দিও না ব্যথা।।
সহিবে সকলি স্বামী হেনো হেলা ব্যথা দিও,
সহিবে না অপমান ভালোবাসার আমার হে প্রিয়,
থাক তুমি হিয়ার মাঝে তোমার মন্দির যথা।।

শ্রী রঘুপতি রাম লহ প্রণাম

বাণী

দ্বৈত	:	শ্রী রঘুপতি রাম
		লহ প্রণাম শ্রী রঘুপতি রাম
		নব দূর্বাদল শ্যাম অভিরাম।
স্ত্রী	:	সুরাসুর কিন্নর যোগী ঋষি নর
পুরুষ	:	চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥
স্ত্রী	:	সরযূ নদীর জল ছল ছল কান্তি
পুরুষ	:	ঢল ঢল অঙ্গ ললাটে প্রশান্তি
স্ত্রী	:	নাম স্মরণে টোটে শোক তাপ ভ্রান্তি
দ্বৈত	:	পদারবিন্দে মূরছিত কোটি কাম॥
স্ত্রী	:	জানকী বল্লভ সুঠাম অঙ্গ
পুরুষ	:	পরশে নিমেষে হয় হরধনু ভঙ্গ
দ্বৈত	:	রাবণ ভয় হরে যাঁহার নাম॥
স্ত্রী	:	পিতৃ সত্যব্রত পালনকারী
পুরুষ	:	চির বল্কলধারী কাননচারী
দ্বৈত	:	প্রজারঞ্জন লাগি সর্বসুখ ত্যাগী
		যে নামে ধরা হল আনন্দধাম॥

ঝর ঝর বারি ঝরে অম্বর ব্যাপিয়া

বাণী

ঝর ঝর বারি ঝরে অম্বর ব্যাপিয়া
এসো এসো মেঘমালা প্রিয়া প্রিয়া।।
দূরে থেকো না এই শ্রাবণ নিশীথে
কাঁদে তব তরে পিয়াসি হিয়া।।
বিজলি খুঁজে ফেরে সুদূর আকাশে
হৃদয়ে কাঁদে প্রেম পাপিয়া পিয়া।।

এ কুল ভাঙ্গে ও কুল গড়ে

বাণী

এ-কূল ভাঙে ও-কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা।
সকাল বেলা আমির, রে ভাই (ও ভাই) ফকির, সন্ধ্যাবেলা॥
সেই নদীর ধারে কোন্ ভরসায়
বাঁধলি বাসা, ওরে বেভুল, বাঁধলি বাসা, কিসের আশায়?
যখন ধরলো ভাঙন পেলি নে তুই পারে যাবার ভেলা।
এই তো বিধির খেলা রে ভাই এই তো বিধির খেলা॥
এই দেহ ভেঙে হয় রে মাটি, মাটিতে হয় দেহ
যে কুমোর গড়ে সেই দেহ, তার খোঁজ নিল না কেহ (রে ভাই)।
রাতে রাজা সাজে নাচমহলে
দিনে ভিক্ষা মেগে বটের তলে
শেষে শ্মশান ঘাটে গিয়ে দেখে সবাই মাটির ঢেলা
এই তো বিধির খেলা রে ভাই ভব নদীর খেলা॥

বল্ সই বসে কেনে একা আনমনে

বাণী

বল্ সই বসে কেনে একা আনমনে
চল সই সই পাতাবি গাঁদা ফুলের সনে।।
নিয়ে পাথর কুচি, আউস ধানের গুছি
অজয় নদীর ধারে খেল্‌ব নিরজনে।।
দেখিস্‌ আস্‌বে ফিরে তোর চাঁদ নতুন চাঁদে,
চাঁদ-মুখ রেখে ঘরে কে সই রইতে পারে 
		আঁধার কয়লা খাদে!
আস্‌বে পোষা কোকিল, ডাকবে মহুল বনে।।
কিন্‌বে ধেনো জমি এবার টাকা এনে,
সে আর যেন গয়না কাপড় না কেনে
তোর বলতে যদি লাজে বাধে মুখে
আমি বল্‌ব তারে যা তুই ভাবিস মনে।।

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে

বাণী

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে
হে কিশোর বেণুকা বাজাও।
মোর অনুরাগ যায় সেথা, তনু যেতে নারে,
তুমি সেই ব্রজের পথ দেখাও।।
মোর অন্ধ আঁখি কাঁদে চাঁদের তৃষায়
তব পানে হাত তুলে রাত কেটে যায়,
বঁধু, এই ভিখারিনী সেই মাধুকরী চায় –
মধুবনে, গোপীগণে যে মধু দাও।।
প্রেমহীন-নীরস জীবন ল’য়ে
পথে পথে ফিরি বৈরাগিনী হয়ে,
বুঝি আমি চাই তব প্রেম নাহি পাই –
কৃপা কর প্রেমময়, তুমি মোরে চাও।।