মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে

বাণী

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে
এই বিশ্বের সকল ধ্বনির মাঝে।।
জীবের ভাষায় পাখির মধুর গানে,
সাগর রোলে নদীর কলতানে
সমীরণের মরমরে শুনি সকাল সাঁঝে।।
আমার প্রতি নিঃশ্বাসে মা রক্তধরার মাঝে
প্রাণের অনুরণনে তোর চরণধ্বনি বাজে।
গভীর প্রণব ওঙ্কারে তোর কালি (মা গো মহাকালী)
সেই নৃত্যলীলার স্তবগাথা গান চরণতলে নটরাজে।।

আজ শেফালির গায়ে হলুদ

বাণী

আজ শেফালির গায়ে হলুদ
	উলু দেয় পিক পাপিয়া।
প্রথম প্রণয়-ভীরু বালা
	লাজে ওঠে কাঁপিয়া।।
বনভূমি বাসর সাজায়
	ফুলে পাতায় লালে নীলে,
ঝরে শিশির আশিস-বারি
	গগন-ঝারি ছাপিয়া।।
বৃষ্টি-ধোওয়া সবুজ পাতার
	শাড়ি করে ঝলমল,
ননদিনী ‘বৌ কথা কও’
	ডাকে আড়াল থাকিয়া।।
দেখতে এলো দিগ্‌বালিকা	
	সাদা মেঘের রথে ঐ,
শরৎ-শশীর মঙ্গল-দীপ
	জ্বলে গগন ব্যাপিয়া।।
অতীত্ প্রণয়-স্মৃতি স্মরি’
	কেঁদে যায় আশিন-হাওয়া,
উড়ে বেড়ায় বর সে ভ্রমর
	কমল-পরাগ মাখিয়া।।

হায় ভিখারি কাহার কাছে হাত পাতিলে হায়

বাণী

হায় ভিখারি কাহার কাছে হাত পাতিলে হায়।
তোমার চেয়েও আমি যে দীন কাঙাল অসহায়।।
	আমার হয়ত কিছু ছিল কভু
	সব নিয়েছেন কেড়ে প্রভু
আমায় তিনি নেননি তবু তাঁহার রাঙা পায়।।
তোমায় তিনি পথ দেখালেন ভাবনা কিসের ভাই
তোমার আছে ভিক্ষা ঝুলি আমার তাহাও নাই।
	চাইনে তবু আছি পড়ে
	সংসারে জড়িয়ে ধরে
কবে তোমার মতন পথের ধূলি মাখব সারা গায়।।

লক্ষ্মী মাগো নারায়ণী আয়

বাণী

লক্ষ্মী মাগো নারায়ণী আয় এ আঙিনাতে।
সুধার পাত্র সোনার ঝাঁপি ল’য়ে শুভ হাতে।।
	সৌভাগ্যদায়িনী তুই মা এসে
	দারিদ্র্য ক্লেশ নাশ কর মা হেসে
কোজাগরী পূর্ণিমা আন মা দুঃখের আঁধার রাতে।।
আন্‌ কল্যাণ শান্তি শ্রী, জননী কমলা,
এ অভাবের সংসারে থাক মা হয়ে অচঞ্চলা।
	রূপ দে মা যশ দে, দে জয়,
	অভয় পদে দে মা আশ্রয়,
ধরা ভরবে শস্যে ফুলে ফলে মা তোর আসার সাথে।।

নিশি-পবন নিশি-পবন

বাণী

নিশি-পবন! নিশি-পবন! ফুলের দেশে যাও
ফুলের বনে ঘুমায় কন্যা তাহারে জাগাও — যাও যাও যাও।।
মৌ-টুস্‌টুস্‌ মুখখানি তার ঢেউ-খেলানো চুল
(ওরে) ভোমরার ঝাঁক-ঘেরা যেন ভোরের পদ্ম-ফুল
হাসিতে তার মাঠের সরল বাঁশির আভাস পাও
				যাও যাও যাও।।
চাঁপা ফুলের পুত্‌লি-ঘেরা চাঁপা রঙের শাড়ি
তারেই দেখতে আকাশ-গাঙে (ওরে) চাঁদ দেয় রে পাড়ি।
তার একটুখানি চোখের আদল বাদল-মেঘে পাও।
				যাও যাও যাও।।
	ধীরে ধীরে জাগাইয়ো তায়
	ঝরা-কুসুম ফেলিয়া গায়
জাগলে কন্যা যেন রে মোর পত্রখানি দাও —
				যাও যাও যাও।।

না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ

বাণী

	না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ
	আঁধার করিয়া ব্রজধাম, সখা হে —।
	সোনার বরনী রাই অঙ্গে মাখিয়া ছাই
	দিশা নাই কাঁদে অবিরাম, সখা হে —।।
	অবিরাম কাঁদে রাই
	তারে কাঁদায় যে তারি তরে
	অবিরাম কাঁদে সখা হে।
	এখনো মাধবী-লতা
	কহেনি কুসুম-কথা
		জড়াইয়া তরুর গলে,
	এখনো ফোটেনি ভাষা
	আধ-ফুট ভালোবাসা
		ঢাকা লাজ পল্লব-তলে।
		বলা হলো না,হলো না,
	বুকের ভাষা মুখে বলা যে হলো না।
সখা	আমরা নারী, বলতে নারি!
	দুঃখের কথা মুখে বলতে নারি
	নয়ন জলে গলতে পারি
	তবু মুখে বলতে নারি
	মরণ-কোলে ঢলতে পারি
সখা	মুখ ফুটে তবু বলতে নারি, সখা হে —
	নবীন নীরদ-বরণ শ‍্যাম জানিতাম মোরা তখনি,
ঐ	করুণ সজল কাজল মেঘে থাকে গো ভীষণ অশনি।
	তুমি আগুন জ্বালিলে,
ওহে	নিরদয়! বুকে কেন আগুন জ্বালিলে।
বুকে	আগুন জ্বালায়ে চোখে সলিল ঢালিলে।
তাহে	আগুন নেভে কি?
	চোখেরি জলে ডুবে আগুন নেভে কি
	সথা হে- আগুন নেভে কি।।