আমার মুক্তি নিয়ে কি হবে মা

বাণী

আমার	মুক্তি নিয়ে কি হবে মা, (মাগো) আমি তোরেই চাই
		স্বর্গ আমি চাইনে মাগো, কোল্ যদি তোর পাই॥
(মাগো)		কি হবে সে মুক্তি নিয়ে,
			কি হবে সে স্বর্গে গিয়ে;
		যেথায় গিয়ে তোকে ডাকার আর প্রয়োজন নাই॥
		যুগে যুগে যে লোকে মা প্রকাশ হবে তোর
(আমি)	পুত্র হয়ে দেখব লীলা এই বাসনা মোর।
			তুই, মাখাস্ যদি মাখ্‌ব ধূলি,
			শুধু তোকে যেন নাহি ভুলি;
		তুই, মুছিয়ে ধূলি নিবি তুলি বক্ষে দিবি ঠাঁই॥

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়

বাণী

কেন ফোটে কেন কুসুম ঝ'রে যায়!
মুখের হাসি চোখের জলে ম'রে যায়, হায়।।
নিশীথে যে কাঁদিল প্রিয় ব'লে
হায় নিশি-ভোরে সে কেন হায় স'রে যায়।।
হায় আজ যাহার প্রেম করে গো রাজাধিরাজ
কাল কেন সে চির-কাঙাল ক'রে যায়।।
মান-অভিমান খেলার ছলে
ফেরে না আর যে যায় চ'লে
মিলন-মালা মলিন ধূলায় ভ'রে যায়।।

মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে

বাণী

মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে
তৃষায় কাতর চাতকী ডাকে।।
সমাধি-মগ্না উমা তপতী —
রৌদ্র যেন তার তেজঃ জ্যোতি,
ছায়া মাগে ভীতা ক্লান্তা কপোতী —
কপোত-পাখায় শুষ্ক শাখে।।
শীর্ণা তপিনী বালুচর জড়ায়ে
তীর্থে চলে যেন শ্রান্ত পায়ে।
দগ্ধ-ধরণী যুক্ত-পাণি
চাহে আষাঢ়ের আশিস বাণী
যাপিয়া নির্জলা একদশীর তিথি
পিপাসিত আকাশ যাচে কাহাকে।।

গোলাপ ফুলের কাঁটা আছে সে গোলাব শাখায়

বাণী

গোলাপ ফুলের কাঁটা আছে সে গোলাব শাখায়,
এনছি ছিঁড়ে তায় রাতুল পরাতে তোমায় খোঁপায়।
কি হবে জানিয়া গোলাব কাঁদিল কি না;
হৃদয় ছিঁড়েছি যাহার, বুঝিবে না গো সে বিনা।
ভুল ভাঙায়ো না আর সাকি, ঢালো শারাব-পিয়ালা।
মতলব কহিব পিছে, নেশা ধরুক চোখে বালা।।
জানি আমি জানে বুলবুল কেন দলিয়া চলি ফুল,
ভালোবাসি যারে যতই, তারে ততই হানি জ্বালা।।
তিক্ত নহে এ শারাব বিফল মোর জীবনের চেয়ে,
শোনায়ো না নীতি-কথা, শোনাও খুশির গজল গেয়ে;
টুটিয়া আসিবে নেশা, ঢালো শারাব-পিয়ালা।।

হে বিধাতা হে বিধাতা হে বিধাতা

বাণী

হে বিধাতা! হে বিধাতা! হে বিধাতা!
দুঃখ-শোক-মাঝে, তোমারি পরশ রাজে,
কাঁদায়ে জননী-প্রায়, কোলে কর পুনরায়, শান্তি-দাতা।।
ভুলিয়া যাই হে যবে সুখ-দিনে তোমারে
স্মরণ করায়ে দাও আঘাতের মাঝারে।
দুঃখের মাঝে তাই, হরি হে, তোমারে পাই দুঃখ-ত্রাতা।।
দারা-সুত-পরিজন-রূপে হরি, অনুখন
তোমার আমার মাঝে আড়াল করে সৃজন।
তুমি যবে চাহ মোরে, লও হে তোদের হ’রে
ছিঁড়ে দিয়ে মায়া-ডোর, ক্রোড়ে ধর আপন।
ভক্ত সে প্রহ্লাদ ডাকে যবে ‘নারায়ণ’,
নির্মম হয়ে তার পিতারও হর জীবন।
সব যবে ছেড়ে যায় দেখি তব বুকে হায় আসন পাতা।।

খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল

বাণী

খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল।
রাঙা চরণে মধুর সুরে বাজে নূপুর-তাল॥
	নবীন নাটুয়া বেশে
	নাচে কভু হেসে হেসে,
যাশোমতীর কোলে এসে দোলে কভু গোপাল॥
‘ননী দে’ বলিয়া কাঁদে কভু রোহিণী-কোলে,
জড়ায়ে ধ’রে কদম তরু তমাল-ডালে দোলে।
	দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গ হ’য়ে
	বাজায় মুরলী ল’য়ে,
কভু সে চরায় ধেনু বনের রাখাল॥