নিদাঘের খর তাপে ক্লান্ত এ ধরণী

বাণী

নিদাঘের খর তাপে ক্লান্ত এ ধরণী।
মাধুরী হারায়ে হল পাণ্ডুর বরণী।।
পিঙ্গল জটাজাল, তেজ তার অশনি।
বৈশাখী ভোরে স্মরি’ রুদ্রাণী জননী।।
ধূলি-ধূসরিত প্রসারিত অম্বর
বুক-ভরা তৃষা তার, চাহে সে নটবর,
শ্যামলী মেঘ-মালা, সেই তার জলধর —
দাহনের অবসানে জুড়াইবে আপনি।।

চম্পা-বনে বেণু বাজে

বাণী

চম্পা-বনে বেণু বাজে — বাজে বাজে।
কে গো চঞ্চল? এলে মনোহর সাজে —
		কিশোর নাটুয়ার সাজে।।
আঁখি মেলিয়া চাহে মালতীর কলি
ভবন-শিখী নাচে ‘কে গো’ বলি’,
ছড়ায় সমীরণ ফুল-অঞ্জলি —
		তোমার পথ-মাঝে।।
নূপুর শুনি বনে নাচে কুরঙ্গ
মানস-গঙ্গায় জাগে-তরঙ্গ,
সরসীতে কমলিনী থরথর অঙ্গ —
		রক্তিম হ’ল লাজে।।
লুকায় ফুলধনু মেঘের কোলে
রাখিয়া কপোল চাঁদের কপোলে,
		হেরে তরুণ রসরাজে।।

১. মনোহর

উতল হ'ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে

বাণী

উতল হ'ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে
বাদল ধারা ঝরে বুঝি তাই আজ নিশীথে।।
সুর যে তোমার নেশার মত, মনকে দোলায় অবিরত,
ফুলকে শেখায় ফুটতে গো, পাখিকে শিস দিতে।।
কেন তুমি গানের ছলে বঁধু, বেড়াও কেঁদে?
তীরের চেয়েও সুর যে তোমার প্রাণে অধিক বেঁধে।
তোমার সুরে কোন সে ব্যথা, দিলো এতো বিহ্বলতা
আমি জানি (ওগো) সে বারতা তাই কাদিঁ নিভৃতে।।

আমি রাজার কুমার পথ ভোলা

বাণী

আমি রাজার কুমার পথ ভোলা,
আমি পথ ভোলা, দখিন হাওয়া দাও দোলা!
আজি প্রাণের ও মনের সকল দ্বার খোলা।।
তরুলতা বনের পাখি তোদের ডাকি আয় শুনে যা
শোন ঝর ঝর ঝর্না-ধারা,
রাজার দুলাল আমি শোন রে ফুল-নদী উতরোলা।।

চলচ্চিত্র : ‘ধ্রুব’

কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়

বাণী

কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়, সে ফিরে ফিরে চায় করুণ চোখে।
তার	স্মৃতি মেশা হায়, চেনা-অচেনায় তারে দেখেছি কোথায়
					যেন সে-কোন্ লোকে।।
শুনি	স্বপ্নে তারি যেন বাঁশি মন-উদাসী
তারি	বার্তা আসে নব মধু-মাসে, পলাশ আশোকে।।
	কৃষ্ণচূড়া তার মালা লুটায় — চৈত্র-শেষে বনের ধূলায়
	কান্না-বিধুর তার ভৈরবী সুর প্রভাতী তারায় অশ্রু ঘনায়,
					চির-বিরহী চিনি ওকে।।

ব্রজের দুলাল ব্রজে আবার

বাণী

ব্রজের দুলাল ব্রজে আবার আসবে ফিরে কবে?
জাগবে কি আর ব্রজবাসী ব্যাকুল বেণুর রবে?
	বাজবে নূপুর তমাল-ছায়ায়
	বইবে উজান হৃদ্‌-যমুনায়,
অভাগিনী রাধার কি আর তেমন সুদিন হবে? সখী গো!
গোঠে নাহি যায় রাখালেরা আর লুটায়ে কাঁদে পথের ধূলায়,
ধেনু ছুটে যায় মথুরা পানে না হেরি গোঠে রাখাল-রাজায়।
উড়িয়া গিয়াছে শুক-সারি পাখি শুনি না কৃষ্ণ-কথা (আর),
শ্যাম-সহকার তরুরে না-হেরি শুকালো মাধবী-লতা।
শ্যাম বিনে নাই সে শ্যাম-কান্তি, শুকায়েছে সব।
কদম তমাল তরু পল্লব হাসি উৎসব শুকায়েছে সব। সখি গো —
চির-বসন্ত ছিল যথা আজ সেথা শূন্যতা হাহাকার রবে কাঁদে শ্যাম (হে)
ললিতা বিশাখা নাই, নাই চন্দ্রাবলী নাই ব্রজে শ্রীদাম সুদাম। (সখী গো)