ঝলমল জরীণ বেণী দুলায়ে

বাণী

ঝলমল জরীণ বেণী দুলায়ে প্রিয়া কি এলে 
সজল শাওন-মেঘে কাজল নয়ন মেলে।।
কেয়া ফুলের পরিমল, ঝুরে মরে তব পথে,
হেরি দীঘল তব তনু তাল পিয়াল তরু পড়ে হেলে’।।
পরিবে বলিয়া খোঁপায় ঝরিছে বকুল চাঁপা
তোমায় খুঁজিছে আকাশ তারার প্রদীপ জ্বেলে।।
তোমারি লাবনি প্রিয়া ঝরিছে শ্যামল মেঘে,
ফুটালে ফুল মরুভূমে চঞ্চল চরণ ফেলে।।

বিধুর তব অধর-কোণে মধুর হাসির রেখা

বাণী

বিধুর তব অধর-কোণে মধুর হাসির রেখা।
তারি লাগি' ভিখারি মন ফেরে একা একা।।
সজাগ হয়ে আছে শ্রবণ, থির হয়েছে অধীর পবন।
তুমি কথা কইবে কখন গাইবে কুহু কেকা।।
কখন তুমি চাইবে, প্রিয়া, সলাজ অনুরাগে।
তিমির-তীরে অরুণ ঊষা তারি আশায় জাগে।
কেমন ক'রে চাঁদ যে টানে — সিন্ধু জানে, জোয়ার জানে —
দেখিতে আসি, আসিনিকো দিতে তোমায় দেখা।।

নাটক: ‌‘চক্রব্যূহ’

মধুর রসে উঠ্‌ল ভ’রে মোর বিরহের দিনগুলি

বাণী

মধুর রসে উঠ্‌ল ভ’রে মোর বিরহের দিনগুলি।
হেলায় খেলায় দিবস ফুরায় অতীত স্মৃতির ফুল তুলি’।।
	ক্ষণেকের তরে পেয়েছিনু কাছে
	সেই আনন্দে প্রাণ ভ’রে আছে,
আমার মনের চাঁপা গাছে গাহিছে গানের বুলবুলি।।
পাইনে ব’লে নিত্য জাগে পরানে পাওয়ার আশা,
বাসি হ’ল নাকো মোর ফুলহার আমার এ ভালোবাসা।

১. গানটি মূল পান্ডুলিপিতে এ পর্যন্তই আছে।

যারে আঘাত দিয়ে ফিরায়েছ তুমি

বাণী

যারে আঘাত দিয়ে ফিরায়েছ তুমি কেন ডাক তারে বারে বারে।
যে ফুল হেলায় দলিয়াছ পায়,
আজো রেখেছ অনাদরে কেন পেতে চাওয়া তারে।।
	প্রথম প্রণয় জেগেছিল যবে
	চাঁদ উঠেছিল মোর হৃদি-নভে,
শুধু দুটি কথা কহিতে তোমারে ভাসিনু আঁখি-ধরে।।
পরাজিত হল তব ভালোবাসা মোর ভালোবাসা-কাছে,
দলিত যে ফুল পথের ধূলায় সে-ফুল আজো কি আছে।
	ভাসিয়াছি আমি নয়নের জলে
	বহিবে সে ধারা তব হিয়া-তলে
যে জন আমায় বাসিয়াছে ভাল তারে বাঁধিব প্রেম-ডোরে।।

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা

বাণী

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা, প্রসীদ! কর ক্ষমা! দেবী নমস্তে।
শতমুখীধারিণী ভীমহুঙ্কারিণী যেন গন্ডারিনী দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে।দেবী নমস্তে।।
চীৎকারে মাঝ রাতে পড়শীরা জেগে যায়
তক্তাপোষের নীচে ছেলে পিলে ভেগে যায়
পদভরে দুদ্দাড় ভেঙ্গে পড়ে ঘর দ্বার
চেড়ীদের সর্দার হাতা-বেড়ী-হস্তে।দেবী নমস্তে।।
শান্ত শিষ্ট এই গোবেচারা স্বামী
তোমার পুলিশ কোর্টে চিরকাল আসামী
তেড়ে আসে বীরজায়া তুমি কুঁদো মোটকা।
বেগতিক দেখে ছুটি আমি রোগা পট্‌কা।
কাঁছাকোঁচা বেসামাল ব্যস্তে সমস্তে।দেবী নমস্তে।।
তুমি পূর্বজন্মে ছিলে ভোজপুরি দারোয়ান
আমি বলীবর্দ তুমি ছিলে গাড়োয়ান;
ময়দা ছিলাম আমি তুমি নিয়ে ঠাসতে।
আহা হা টুটি কেন টিপে ধর? আস্তে, শ্বস্তে।দেবী নমস্তে।।

তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী

বাণী

তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী।
শিশির-সজল ভোরের আকাশে ভাসে তোমারি উদাস ছবি।।
	বিষাদ গভীর কার কল্পনা
	রূপ ধ’রে তুমি ফের আনমনা,
তোমারি মূরতি ধেয়ায় স্বপনে বিরহী সুরের কবি।।
তুমি ধরা দিতে যেন আস নাই ধরণীতে,
একা-একা খেলা খেল সারাবেলা সাথিহীন তরণীতে।
	আঘাত হানিয়া সে-কোন্ নিঠুর
	জাগাবে তোমাতে আশাবরি সুর,
পাষাণ টুটিয়া গলিয়া পড়িবে অশ্রুর জাহ্নবী।।