জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর

বাণী

উভয়ে	:	জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর মদন মনোহর কাননচারী।
		গোপী-চন্দন আমোদিত তনু বনমালী হরি বংশীধারী।।
ধ্রু	:	চাঁচর চিকুরে শোভে শিখী-পাখা,
		বাঁকা ত্রিভঙ্গিমা চারু নয়ন-বাঁকা।
সু	:	ও বাঁকা রূপ যেন মর্মে রহে আঁকা
		মনে বিরহ কালা বন-বিহারী।।
সু	:	ভক্তি প্রেম প্রীতি তব রাঙা পায়
ধ্রু	:	নূপুর হ’য়ে হরি, যেন বাজিয়া যায়,
সু	:	জনমে জনমে কৃষ্ণ-কথা গায়
		যেন এ দেহ মন শুক-শারি।।

নাটক : ‘ধ্রুব’ (ধ্রুব ও সুনীতির গীত)

আমি শ্রান্ত হয়ে আস্‌ব যখন

বাণী

আমি		শ্রান্ত হয়ে আস্‌ব যখন পড়ব দোরে ট’লে
আমার		লুটিয়ে-পড়া দেহ তখন ধর্‌বে কি ঐ কোলে?
			বাড়িয়ে বাহু আস্‌বে ছুটে?
			ধর্‌বে চেপে পরান-পুটে!
		বুকে রেখে চুম্‌বে কি মুখ নয়ন-জলে গ’লে?
তুমি		এতদিন যা দুখ দিয়েছ হেনে অবহেলা,
তা		ভুলবে না কি যুগের পরে ঘরে-ফেরার বেলা?
			বল বল জীবন-স্বামী,
			সেদিনও কি ফিরব আমি?
		অন্তকালেও ঠাঁই পাব না ঐ চরণের তলে?

আজ চোখের জলে প্রার্থনা মোর

বাণী

আজ	চোখের জলে প্রার্থনা মোর শেষ বরষের শেষে,
যেন	এমনি কাটে আস্‌ছে-জনম তোমায় ভালোবেসে।।
		এম্‌নি আদর, এম্‌নি হেলা,
		মান-অভিমান এম্‌নি খেলা,
	এম্‌নি ব্যথার বিদায়-বেলা এম্‌নি চুমু হেসে,
যেন	খণ্ড মিলন পূর্ণ করে নুতন জীবন এসে।
এবার	ব্যর্থ আমার আশা যেন সফল প্রেমে মেশে।।
যেন	আর না কাঁদায় দ্বন্দ্ব-বিরোধ, হে মোর জীবন-স্বামী,
এবার	এক হয়ে যাক প্রেমে তোমার তুমি আমার আমি।
		আপন সুখকে বড় ক’রে
		যে-দুখ পেলেম জীবন ভ’রে
	এবার তোমার চরণ ধ’রে নয়ন-জলে ভেসে
যেন	পূর্ণ ক’রে তোমায় জিনে সব-হারানোর দেশে
মোর	মরণ-জয়ের বরণ-মালা পরাই তোমার কেশে।।

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে

বাণী

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।

এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

বাণী

এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে।
রহি’ রহি’ সেই মুখ পড়িছে মনে।।
	বিজলিতে সেই আঁখি
	চমকিছে থাকি’ থাকি’
শিহরিত এমনি সে বাহু-বাঁধনে।।
শন শন বহে বায় সে কোথায় সে কোথায়
নাহি নাহি ধ্বনি শুনি উতল পবনে হায়
চরাচর দুলিছে অসীম রোদনে।।

সখি বল কোন দেশে যাই

বাণী

সখি বল কোন দেশে যাই।
সে বৃন্দা আছে সে বন আছে তবু সে বৃন্দাবন নাই —
গোবিন্দ বিনে লো বৃন্দে (বৃন্দে গো) রাধার বৃন্দাবন হয়েছে আঁধার।
বনে সীতার ছিল যে রাম, মোর বনে নাই ঘনশ্যাম।
আমি কি লয়ে থাকি, কেন দেহ রাখি।
পিঞ্জর আছে প'ড়ে, নাই শ্যাম পাখি,
আর ময়ূর ডাকে না 'কে গো' বলিয়া।
পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
কৃষ্ণপ্রিয়া গো 'প্রিয়া প্রিয়া' বলে পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
পথে পথে আর রহে না গো ব্রজগোপিনী আড়ি পাতিয়া।
আজি রাধার সাথে সবার আড়ি,
কৃষ্ণপ্রিয়ার কৃষ্ণ গেছে ছাড়ি'
তাই রাধার সাথে সবার আড়ি, সখি গো —
শুকায়ে গিয়াছে দ্বাদশ কুঞ্জ,
পূর্ণ চাঁদেরই ব্রজে একাদশীর তিথি,
হয়ত আবার বাজিবে বেণু তার, রবে না ব্রজে যবে রাধার স্মৃতি।।