গাও কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম

বাণী

গাও কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম।
গাও দেহমন শুক সারি, গাও রে ব্রজের নরনারী
গাহ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম।।
গাও তাঁরি নাম যমুনার বারি
গাও কুহু কেকা ধেনু বন-চারী,
গাহরে শ্রীদাম গাহ সুদাম।।
গাহ রে সজল শ্যামল গগন
কদম্ব-তরু তমাল কানন,
গাহ রে ভ্রমর মাধবী-লতা কৃষ্ণ-কথা, শ্রবণ অভিরাম।।
গাহ লো বিশাখা, গাহ লো ললিতা
গাহ শ্যাম-দায়িতা চন্দ্রাবলী (শ্যাম নাম),
গাহ লো চন্দ্রাবলী,
ভুবন ছাপিয়া গগন ব্যাপিয়া উঠুক কাঁপিয়া নাম-কাকলি।
(শ্যাম-নাম কাকলি।) তোরা গেয়ে যা গেয়ে যা।
হয়ে শ্যাম-নামে বিবাগী পথে পথে ধেয়ে যা।
ঘনশ্যাম পল্লবে মনো-বন ছেয়ে যা।
বহিয়া যাক শ্যাম-নাম সুরধুনী
মধুর হোক মৃত্যু শ্যাম নাম শুনি’।।

নাটক : ‘চক্রব্যুহ’

আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন

বাণী

আমার	আপনার চেয়ে আপন যে জন
			খুঁজি তারে আমি আপনায়॥
আমি		শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি
			আমারি তিয়াসী বাসনায়॥
		আমারি মনের তৃষিত আকাশে
		কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে,
		কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে
			নিশীথে স্বপনে জোছনায়॥
আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম,
অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলী-উজল অভিরাম।
		আমারি রচিত কাননে বসিয়া
		পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া
		সে-মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া
			আপনারি গলে দোলে হায়॥

বেদনা-বিহ্বল পাগল পূবালী পবনে

বাণী

বেদনা-বিহ্বল পাগল পূবালী পবনে
হায় নিদ-হারা তার আঁখি-তারা জাগে আনমনা একা বাতায়নে।।
	ঝরিছে অঝোর নভে বাদল,
	হিয়া দুরু দুরু মন উতল,
কাজলের বাঁধ নাহি মানে হায় — অশ্রুর নদী দু' নয়নে।।
	মন চলে গেছে দূর সুদূর —
	একা প্রিয় যথা ব্যথা-বিধুর,
এ বাদল-রাতি কাটে বিনা সাথী, তারি কথা শুধু পড়ে মনে।।

এই শিকল পরা ছল

বাণী

এই		শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
এই 		শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।।
তোদের	বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়,
ওরে 		ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন–ভয়।
এই		বাঁধন প’রেই বাঁধন–ভয়কে কর্‌ব মোরা জয়,
এই		শিকল– বাঁধা পা নয় এ শিকল ভাঙা কল।।
তোমার	বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে কর্‌ছ বিশ্ব গ্রাস,
আর 		ভয় দেখিয়েই ক’র্‌বে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস
সেই 		ভয় দেখানো ভূতের মোরা ক’র্‌বো সর্বনাশ,
এবার		আন্‌বো মাভৈঃ বিজয়–মন্ত্র বল–হীনের বল।।
তোমরা	ভয় দেখিয়ে কর্‌ছ শাসন জয় দেখিয়ে নয়;
সেই		ভয়ের টুঁটি ধর্‌ব টিপে কর্‌ব তারে লয়।
মোরা 	আপনি ম’রে মরার দেশে আন্‌ব বরাভয়,
প’রে		ফাঁসি আন্‌ব হাসি মৃত্যু–জয়ের ফল।।
ওরে 		ক্রন্দন নয় বন্ধন এই শিকল–ঝঞ্ঝনা,
এ যে		মুক্তি–পথের অগ্রদূতের চরণ–বন্দনা!
এই		লাঞ্ছিতেরাই অত্যাচারকে হান্‌ছে লাঞ্ছনা,
মোদের	অশ্রু দিয়েই জ্ব’লবে দেশে আবার বজ্রানল।।

ও কে বিকাল বেলা ব’সে

বাণী

ও কে বিকাল বেলা ব’সে নিরালা বাঁধিছে কেশ।
হেরি’ আর্শিতে নিজেরই চারু-মুখ (চোখে) জাগে আবেশ।।
বসনের শাসন নাই অঙ্গে তাহার
উথ্‌লে পড়ে মুক্ত-দেহে যৌবন-জোয়ার,
খুলে’ খুলে’ পড়ে কেশের কাঁটা বেণীর লেশ।।
আঙুলগুলি নাচের ভঙ্গিতে,
খেলে বেড়ায় বেণীর বিনুনিতে।
কভু বাঁকায় ভুরু কভু বাঁকায় গ্রীবা
ঠিক্‌রে পড়ে আয়নায় রূপের বিভা,
জাগে সহসা গালে তা’র সিঁদুর-ডিবার রঙের রেশ।।

হে নামাজী আমার ঘরে নামাজ পড় আজ

বাণী

হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
	আমি গুনাহগার বে-খবর,
	নামাজ পড়ার ন্ই অবসর
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
	যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
	খোদায় ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান যাক দূরে, শুনে তকবীরের আওয়াজ।।