কি হবে জানিয়া বল

বাণী

কি হবে জানিয়া বল কেন জল নয়নে
তুমি তো ঘুমায়ে আছ সুখে ফুল-শয়নে।।
তুমি কি বুঝিবে বালা কুসুমে কীটের জ্বালা,
কারো গলে দোলে মালা কেহ ঝরে পবনে।।
আকাশের আঁখি ভরি’ কে জানে কেমন করি’
শিশির পড়ে গো ঝরি’, ঝরে বারি শাওনে।
নিশীথে পাপিয়া পাখি এমনি তো ওঠে ডাকি’
তেমনি ঝুরিছে আঁখি বুঝি বা অকারণে।।
কে শুধায়, আঁধার চরে চখা কেন কেঁদে মরে,
এমনি চাতক-তরে মেঘ ঝুরে গগনে।।
কারে মন দিলি কবি, এ যে রে পাষাণ-ছবি
এ শুধু রূপের রবি নিশীথের স্বপনে।।

মা তোর কালো রূপের মাঝে

বাণী

	মা তোর কালো রূপের মাঝে রসের সাগর লুকিয়ে আছে,
তোর	কৃষ্ণ জ্যোতির আড়াল টেনে মোর প্রেমময় কৃষ্ণ নাচে।।
			(নাচে, নাচে, নাচে গো)
আমি	যাঁহার পরম তৃষ্ণা লয়ে কাঁদি (মা),
ওমা	কৃষ্ণা কেন রাখলি তারে বাঁধি,
ওমা	যোগমায়া সে যে বাজায় বাঁশি তোরই রূপের কদম গাছে।।
	আমার অভয় সুন্দরেরে কেন ভয়ের আবরণে
	রাখলি ঢেকে মাগো, আমি কাঁদব কত এই বিরহের বৃন্দাবনে।
ওমা	তোর শক্তি যমুনারি তীরে
	নাম লয়ে মোর শ্যাম যে কেঁদে ফিরে।
তুই	কোলে করে মেয়েরে তোর নিয়ে যা তাঁর পায়ের কাছে।।

গুলশান কো চুম্‌ চুম্‌ কহ্‌তি বুলবুল

বাণী

গুলশান কো চুম্‌ চুম্‌ কহ্‌তি বুলবুল
রুখসারী সে বেদর্‌দী বোর্‌খা খুল খুল।।
হাঁসতি হায় বোস্তা মস্ত্‌ হো যা দোস্তা
শিরি শিরাজি সে হো যা বেহোঁশ জাঁ
সব কুছ আজ রঙ্গীন হ্যায় সব কুছ মশগুল
হাঁসতি হায় গুল হো কর দোজখ্‌ বিল্‌কুল্‌।
হারে আশক মাশুক কি চমনোঁ মে ফুলতা নেই
দোবারা ফুল, ফুল ফুল ফুল।।

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি

বাণী

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি।
হরষে বরিষে বারি শাওন-গগন তিতি'।।
বকুল-বনের সাকি নটীন পুবালি হাওয়া
বিলায় সুরভি-সুরা মাতায় কানন-বীথি।।
তিতির শিখীর সাথে নোটন-কপোতী নাচে;
ঝিঁঝির ঝিয়ারি গাহে ঝুমুর কাজরি-গীতি।
হিঙুল হিজল-তলে ডাহুক পিছল-আঁখি,
বধূর তমাল-চোখে ঘনায় নিশীথ-ভীতি।
তিমির-ময়ুর আজি তারার পেখম খোলে
জড়ায় গগন-গলে চাঁদের ষোড়শী তিথি।।

তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি

বাণী

তোমার আসার আশায় দাঁড়িয়ে থাকি একলা বালুচরে
নদীর পানে চেয়ে চেয়ে মন যে কেমন করে।।
অনেক দূরে তরী বেয়ে আসে যদি কেউ,
আমার বুকে দুলে ওঠে উজান নদীর ঢেউ;
নয়ন মুছে চেয়ে দেখি সে গিয়েছে স'রে।।
আঁচল-ঢাকা ফুলগুলিও শুকায় বুকের তলে
ঘরে ফিরি গাগরি মোর ভ'রে নয়ন জলে।
বিদেশে তো যায় অনেকে আবার ফিরে আসে,
কপাল দোষে তুমি শুধু রইলে পরবাসে;
অধীর নদী রোদন বাজে বুকের পিঞ্জরে।।

চম্পক-বরণী চলমল তরণী

বাণী

চম্পক-বরণী
চলমল তরণী,
চলে শ্যামা তরুণী
		যৌবন-গরবী।।
ডাকে দূর পারাবার
ডাকে তা’রে বন-’পার,
লালসে ঝরে তার —
		পায়ে রাঙা করবী।।
চলে বালা দুলে দুলে
এলো-খোঁপা পড়ে খুলে,
চাহে ভ্রমর কুসুম ভুলে’ —
		তনুর তার সুরভি।।
নাচের ছন্দে দোদুল
টলে তা’র চরণ চটুল,
হরিণী চায় পথ-বেভুল —
মায়া-লোক-বিহারিণী রচি’
		চলে ছায়া-ছবি।।