ওরে যোগ-সাধনা পরে হবে

বাণী

ওরে	যোগ-সাধনা পরে হবে নাম জপ্ তুই আগে।
	সকল কাজে সকাল সাঁঝে গভীর অনুরাগে।।
	ওরে	যে ঠাকুরে পরান যাচে
	সে	নামের মাঝে লুকিয়ে আছে,
যেমন	বীজের মাঝে মহাতরু সঙ্গোপনে জাগে।।
	বীজ না বুনে আগে ভাগেই ফসল খুঁজিস্ তুই,
	তাই চিরকাল পোড়ো জমি রইল মনের ভুঁই।
তোর	কোন্ পথ নাম জপের শেষে
	দেখিয়ে দেবেন তিনিই এসে,
তোর	জীবন হবে প্রেমে রঙীন রঙ যদি রে লাগে।
	তাঁর মধুর নামের রঙ যদি রে লাগে।।

ঘরে যদি এলে প্রিয়

বাণী

ঘরে যদি এলে প্রিয় নাও একটি খোঁপার ফুল।
আমার চোখের দিকে চেয়ে ভেঙে দাও মনের ভুল।।
অধর কোণের ঈষৎ হাসির আলোকে
বাড়িয়ে দাও আমার গহন কালোকে,
যেতে যেতে মুখ ফিরিয়ে দুলিয়ে যেয়ো দুল।।
একটি কথা ক’য়ে যেয়ো একটি নমস্কার
সেই কথাটি গানের সুরে গাইব বার বার,
হাত ধরে মোর বন্ধু ভুলো তোমার মনের সকল ভুল।।

নাটক : ‘মদিনা’

এলো ঐ পূর্ণ শশী ফুল-জাগানো

বাণী

এলো ঐ		পূর্ণ শশী		ফুল-জাগানো
বহে বায়		বকুল-বনে		ঘুম-ভাঙানো।।
লাগিল		জাফরানি-রঙ	শিউলি-ফুলে
ফুটিল			প্রেমের কুঁড়ি		পাপড়ি খুলে,
খুশির আজ		আমেজ জাগে	মন-রাঙানো।।
চাঁদিনী		ঝিলমিলায়		ঝিলের জলে,
আবেশে		শাপলা ফুলের	মৃণাল টলে,
জাগে ঢেউ		দীঘির বুকে		দোল-লাগানো।।
এসো আজ		স্বপন-কুমার		নিরিবিলি
খুলিয়া		গোপন প্রাণের	ঝিলিমিলি,
এসো মোর		হতাশ প্রাণে		ভুল-ভাঙানো।।

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়

বাণী

আজি দোল্-পূর্ণিমাতে দুল্‌বি তোরা আয়।
দখিনার দোল্ লেগেছে দোলন্-চাঁপায়।।
	দোলে আজ দোল্-ফাগুনে	
	ফুল-বাণ আঁখির তূণে,
দুলে আজ বিধুর হিয়া মধুর ব্যথায়।।
দুলে আজ শিথিল বেণী, দুলে বধূর মেখলা
দুলে গো মালার পলা জড়াতে বঁধুর গলা!
	মাধবীর দোলন্-লতায়
	দোয়েলা দোল্ খেয়ে যায়,
দুলে যায় হল্‌দে পাখি সোঁদাল-শাখায়।।
বিরহ-শীর্ণা নদীর আজিকে আঁখির কূলে
ভরে জল কানায় কানায় জোয়ারে উঠ্‌ল দু’লে।
	দুলে বসন্ত-রানী
	কুসুমিতা বনানী
পলাশ রঙন দোলে নোটন-খোঁপায়।।
দোলে হিন্দোল-দোলায় ধরণী শ্যাম-পিয়ারী,
দুলিছে গ্রহ-তারা আলোক-গোপ-ঝিয়ারি।
	নীলিমার কোলে বসি’
	দুলে কলঙ্কী-শশী,
দোলে ফুল-উর্বশী ফুল-দোলায়।।

চঞ্চল মলয় হাওয়া শোন

বাণী

চঞ্চল মলয় হাওয়া শোন শোন মিনতি।
গুণ্ঠন খুলো না মোর, আমি নব যুবতী।।
অঙ্গে জাগেনি যার আজিও অনঙ্গ
অসময়ে কেন তার কর রস ভঙ্গ,
লুকায় মুকুল হের পাতার আঁচলে
ভোমরার ভয়ে ভীরু বন-মালতী।।

নাটক : ‘অন্নপূর্ণা’

সই ভালো করে বিনোদ বেণী

বাণী

সই		ভালো ক’রে বিনোদ–বেণী বাঁধিয়া দে
মোর		বঁধু যেন বাঁধা থাকে বিননী–ফাঁদে।।
সই		বাঁধিতে সে বাঁধন–হারা বনের হরিণ
সই		জড়ায়ে দে জরীণ ফিতা মোহন ছাঁদে।।
সই		চপল পুরুষ সে তাই কুরুশ কাঁটায়
		রাখিব খোঁপারি সাথে বিঁধিয়া লো তায়।
তাহে		রেশমি জাল বিছায়ে দে ধরিতে চাঁদে।।
		প্রথম প্রণয়–রাগের মত আলতা রঙে
		রাঙায়ে দে চরণ মোর এমনি ঢঙে।
সই		পায়ে ধ’রে সে যেন লো আমারে সাধে।।