ঘরে আয় ফিরে ফিরে আয়

বাণী

ঘরে আয় ফিরে, ফিরে আয় পথহারা ওরে ঘর-ছাড়া ফিরে আয়।
ফেলে যাওয়া তোর বাঁশরি রে কানাই কাঁদে লুটায়ে ধূলায়।।
	ব্রজে আয় ফিরে ওরে ও-কিশোর
	কাঁদে বৃন্দাবন কাঁদে রাধা তোর,
বাঁধিব না আর ওরে ননীচোর — অভিমানী মোর ফিরে আয়।।
	তোর মা’র মতন ল’য়ে শূন্য কোল্‌
	জাগে শূন্য মাঠ গ্রহ শোক-বিভোল
ঝরে যায় যে ফুল মরে যায় ফসল — ওরে শ্যামল তোর বেদনায়।।
	আসিলে ফিরে ওরে পথ-বেভুল
	আবার উঠবে রোদ, আবার ফুঠবে ফুল,
ধানে ভরবে মাঠ আবার বসবে হাট — জোয়ার বইবে হৃদ-যমুনায়।।

আমার মা ত্বং হি তারা

বাণী

আমার মা ত্বং হি তারা
তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা
মা ত্বং হি তারা।
আমি জানি মা ও দীনদয়াময়ী
তুমি দুর্গমেতে দুঃখহরা,
মা ত্বং হি তারা।
তুমি জলে তুমি স্থলে তুমি আদ্যমূলে গো মা,
আছ সর্বঘটে অর্ঘ্যপুটে সাকার আকার নিরাকারা
মা ত্বং হি তারা।
তুমি সন্ধ্যা তুমি গায়ত্রী তুমি জগদ্ধাত্রী গো মা
অকুলের প্রাণকর্ত্রী সদা শিবের মনোহরা।
মা ত্বং হি তারা।।

আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই

বাণী

	আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই ফুটেছে এক ফুল।
তাঁরে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।
	পয়গম্বর ফেরেশ্‌তা হুর পরী ফকির ওলি
	খুঁজে জমিন আসমান ভাই দেখতে সে ফুল-কলি,
সে-ফুল	যে দেখেছে সেই হয়েছে বেহেশ্‌তি বুলবুল।।
	আল্লা নামের দরিয়াতে ভাই উঠলো প্রেমের ঢেউ
তারে	কেউ বলে আমিনা দুলাল, মোহম্মদ কয় কেউ,
সে-ঢেউ	যে দেখেছে সে পেয়েছে অকূলের কূল।।
	আল্লা নামের খনিতে ভাই উঠেছে এক মণি
	কোটি কোহিনূর ম্লান হয়ে যায় হেরি’ তার রোশ্‌নি,
সেই	মণির রঙে উঠল রেঙে ঈদের চাঁদের দুল
তারে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।

মোর বুক ভরা ছিল আশা

বাণী

মোর বুক ভরা ছিল আশা প্রাণ ভরা ভালোবাসা।
হায় আসিল সে যবে কাছে মুখে সরিল না ভাষা।।
	আমি পেয়েছিলাম তায় একা
	ছিল চোখে তাহার প্রেম-লেখা,
তবু বলিতে পারিনি তারে কাঁদে প্রাণে কি দুরাশা।।
	এসে ভরা নদীর তীরে
	পান না করিয়া বারি
	আমি আসিলাম ফিরে — 
ছিল তৃষ্ণা-কাতর এ প্রাণে মরুভূমির পিয়াসা।।

আজি আল কোরায়শী প্রিয় নবী এলেন ধরাধাম

বাণী

আজি	আল কোরায়শী প্রিয় নবী এলেন ধরাধাম
তাঁর	কদম মোবারকে লাখো হাজারো সালাম।
	তওরত ইঞ্জিলে মুসা ঈসা পয়গম্বর
	বলেছিলেন আগাম যাঁহার আসারি খবর
	রব্বুলে দায়ের যাঁহার দিয়েছিলেন নাম
	সেই আহমদ মোর্তজা আজি এলেন আরব ধাম।।
	আদমেরি পেশানিতে জ‍্যোতি ছিল যাঁর
	যাঁর গুণে নূহ তরে গেল তুফান পাথার
	যাঁর নূরে নমরুদের আগুন হলো ফুলহার
	সেই মোহাম্মদ মুস্তাফা এলেন নিয়ে দীন-ইসলাম।।
	এলেন কাবার মুক্তিদাতা মসজিদের প্রাণ,
	শাফায়াতের তরী এলে পাপী তাপীর ত্রাণ
	দিকে দিকে শুনি খোদার নামের আজান
	নবীর রূপে এলো খোদার রহমতেরি জাম।।

থৈ থৈ জলে ডুবে গেছে পথ

বাণী

থৈ থৈ জলে ডুবে গেছে পথ এসো এসো পথ ভোলা,
সবাই দুয়ার বন্ধ করেছে (আছে) আমার দুয়ার খোলা।।
	সৃষ্টি ডুবায়ে ঝরুক বৃষ্টি,
	ঘন মেঘে ঢাকো সবার দৃষ্টি,
ভুলিয়া ভুবন দুলিব দু'জন গাহি' প্রেম হিন্দোলা।।
সব পথ যবে হারাইয়া যায় দুর্দিনে মেঘে ঝড়ে,
কোন পথে এসে সহসা সেদিন দোলো মোরে বুকে ধ'রে।
	নিরাশা-তিমিরে ঢাকা দশ দিশি,
	এলো যদি আজ মিলনের নিশি,
আষাঢ়-ঝুলনা বাঁধিয়া শ্রীহরি দাও দাও মোরে দোলা।।

গীতি-আলেখ্য: ‌‘হিন্দোলা’