হে পাষাণ দেবতা

বাণী

হে পাষাণ দেবতা!
মন্দির দুয়ার খোল কও কথা।।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে শ্রান্তি-হীন দীর্ঘ দিন,
অঞ্চলের পূষ্পাঞ্জলি শুকায়ে যায় উষ্ণ বায়;
আঁখি দীপ নিভিছে হায়, কাঁপিছে তনুলতা।
শুভ্রবাসে পূজারিণী, দিন শেষে —
গোধুলির গেরুয়া রঙ হের প্রিয় লাগে এসে;
খোল দ্বার শরণ দাও, সহে না আর নীরবতা।।

গোঠের রাখাল বলে দে রে

বাণী

		গোঠের রাখাল, বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন।
(যথা)		রাখাল–রাজা গোপাল আমার খেলে অনুক্ষণ।।
(যথা)		দিনে রাতে মিলন–রাসে
		চাঁদ হাসে রে চাঁদের পাশে,
(যা’র)		পথের ধূলায় ছড়িয়ে আছে শ্রীহরি–চন্দন।।
(যথা)		কৃষ্ণ–নামের ঢেউ ওঠে রে সুনীল যমুনায়,
(যা’র)		তমাল–বনে আজো মধুর কানুর নূপুর শোনা যায়।
		আজো যাহার কদম ডালে
		বেণু বাজে সাঁঝ–সকালে,
		নিত্য লীলা করে যথা মদন–মোহন।।

তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম

বাণী

তৌহিদেরি মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম।
ঐ নাম জপলেই বুঝতে পারি খোদায়ী কালাম —
			মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম।।
ঐ নামেরি রশি ধ’রে যাই আল্লার পথে,
ঐ নামেরি ভেলা ধ’রে ভাসি নূরের স্রোতে,
ঐ নামেরি বাতি জ্বেলে দেখি আরশের মোকাম।
			মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম।।
ঐ নামের দামন ধ’রে আছি আমার কিসের ভয়,
ঐ নামের গুনে পাব (আমি) খোদার পরিচয়,
তাঁর কদম মোবারক যে আমার বেহেশ্‌তী তাঞ্জাম।
			মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম।।

এলো ঈদল-ফেতর এলো

বাণী

	এলো ঈদল-ফেতর এলো ঈদ ঈদ ঈদ।
	সারা বছর যে ঈদের আশায় ছিল নাক’ নিদ।।
	রোজা রাখার ফল ফ’লেছে দেখ রে ঈদের চাঁদ,
	সেহরী খেয়ে কাটল রোজা, আজ সেহেরা বাঁধ,
			ওরে বাঁধ আমামা বাঁধ।
	প্রেমাশ্রুতে ওজু ক’রে চল্ ঈদগাহ মসজিদ।।
(আজ)	ছিটায় মনের গোলাব-পাশে খুশির গোলাব-পানি
(আজ)	খোদার ইস্কের খুশবু-ভরা প্রাণের আতরদানি,
	ভরল হৃদয়-তশ্‌তরিতে শিরনি তৌহিদ।।
(দেখ্)	হজরতের হাসির ছটা ঈদের চাঁদে জাগে
	সেই চাঁদেরই রং যেন আজ সবার বুকে লাগে,
(এই)	দুনিয়াতেই মিটল ঈদে বেহেশ্‌তী উমিদ।।

নাটিকা : ‘ঈদ’ (বিদৌরার গান)

বিজলি চাহিনী কাজল কালো নয়নে

বাণী

বিজলি চাহিনী কাজল কালো নয়নে।
রহি’ রহি’ কেন হানিছ ক্ষণে ক্ষণে।।
	ভীরু প্রণয় মম
	ঝড়ের পাখির সম,
শরণ মাগে তোমার মনো-বনে।।
আমার প্রণয়-প্রদীপ-শিখা তোমারে শ্বাসে থেকে থেকে,
কেঁপে মরে, ওগো প্রিয়, বাঁচাও তারে আঁচল-ঢেকে।
ধ্যান যাহার ওই রাঙা চরণ, বেঁধো না তারে বেণীর ফাঁদে
কি হবে পিঞ্জরে রাখি’, বেঁধেছ যা’য় বাহুর বাঁধে,
	কেন হান আঘাত যে হেরে আছে রণে।।

আধো-আধো বোল লাজে-বাধো-বাধো বোল

বাণী

আধো আধো বোল্ লাজে-বাধো-বাধো বোল
				ব’লো কানে কানে।
যে কথাটি আধো রাতে মনে লাগায় দোল
				ব’লো কানে কানে।।
যে কথার কলি সখি আজও ফুটিল না, হায়
শরমে মরম-পাতে দোলে আন্‌মনা, হায়
যে কথাটি ঢেকে রাখে বুকের আঁচল
				ব’লো কানে কানে।।
যে কথা লুকায়ে থাকে লাজ-নত চোখে
না বলিতে যে কথাটি জানাজানি লোকে
যে কথাটি ধ’রে রাখে অধরের কোল
লুকিয়ে ব’লো নিরালায় থামিলে কলরোল।
যে কথাটি বলিতে চাও বেশভূষার ছলে
যে কথা দেয় ব’লে তব তনু পলে পলে
যে কথাটি বলিতে সই গালে পড়ে টোল্ —
				ব’লো কানে কানে।।