শারদ নিশির হিমেলা বাতাস

বাণী

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস, তারা-ভরা এই অসীম আকাশ।
স্বপ্ন-বিলাসিনী চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্।।
	শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
	লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস।।
এমনই চাঁদের তিথি, এমনই শারদ-রাতি
মৌন-মুখর ধরা, তব সুর ছিল সাথি,
রাখিখানি যবে হায় নিয়েছিলে কর পাতি’ —
এসো গো ধেয়ানে মম তাজিয়া সে-পরবাস।।

মোরা ছিনু একেলা হইনু দু’জন

বাণী

	মোরা ছিনু একেলা, হইনু দু’জন।
	সুন্দরতর হ’ল নিখিল ভুবন।।
আজি	কপোত-কপোতী শ্রবণে কুহরে,
	বীণা বেণু বাজে বন-মর্মরে।
	নির্ঝর-ধারে সুধা চোখে মুখে ঝরে,
	নূতন জগৎ মোরা করেছি সৃজন।।
	মরিতে চাহি না, পেয়ে জীবন-অমিয়া!
	আসিব এ কুটিরে আবার জনমিয়া।
	আরো চাই আরো চাই অশেষ জীবন।।
আজি	প্রদীপ-বন্দিনী আলোক-কন্যা,
	লক্ষ্মীর শ্রী লয়ে আসিল অরণ্যা,
	মঙ্গল-ঘটে এলো নদীজল-বন্যা,
	পার্বতী পরিয়াছে গৌরী-ভূষণ।।

মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।

বঁধু আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের

বাণী

বঁধু	আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের রাধিকার আঁখি-জলে।
	বাদল সাঁঝের যুঁই ফুল হয়ে আসিয়াছি ধরাতলে।।
তাই	যেমনি মিলন সাধ ওঠে জেগে
তুমি	লুকাও হে চাঁদ বিরহের মেঘে,
আমি	পূবালী পবনে ঝরে যাই বনে দলগুলি যেই খোলে।।
বঁধু	এই বুঝি হায় নিয়তির লেখা মিলন আমার নহে —
	ক্ষনিকের শুভ-দৃষ্টি লভিয়া কাঁদিব পরম বিরহে।
			বুঝি মিলন আমার নহে —
		আসিব না আমি মাধবী নিশীথে
		বরষায় শুধু আসিব ঝুরিতে,
	অসহায় ধারা-স্রোতে ভেসে যাব, মালা হব নাকো গলে।।

জাগো জাগো বধূ নব-বাসরে

বাণী

জাগো — জাগো বধূ নব-বাসরে।
গৃহ-দীপ জ্বালো কল্যাণ-করে।।
ভুবনের ছিলে, এলে ভবনে
স্বপন হ’তে এলে জাগরণে,
শ্রীমতী আসিলে শ্রী হীন ঘরে।।
স্বপন-বিহারিণী অকুণ্ঠিতা
পরিলে গুণ্ঠন সলাজ ভীতা’,
কমলা আসিলে কাঁকন প’রে।।

ভালোবাসি কলঙ্কী চাঁদ মেঘের পাশে

বাণী

ভালোবাসি কলঙ্কী চাঁদ মেঘের পাশে।
মোর ফুল আরো ভালো লাগে ভ্রমর সে ফুলে যদি আসে।।
	ভালোবাসি নিঝুম রাতি
	যদি রহে সুন্দর সাথী,
সেই সুন্দর সাথী প্রিয়তম হয়, যবে চঞ্চল হয়ে ওঠে প্রণয় পিয়াসে।।

নাটক: দেবী দূর্গা