বনে বনে দোলা লাগে

বাণী

বনে বনে দোলা লাগে।
মনে মনে দোলা লাগে
	দখিনা-সমীর জাগে।।
একি এ বেদনা লয়ে
ফুটিল কুসুম হৃদয়ে
আবেশে পুলকে ভয়ে
	না-জানা পরশ মাগে।।
কিশোর হৃদয় পুটে
অশোক রঙিন ফোটে
কপোল রাঙিয়া ওঠে
	অতনুর অনুরাগে।।

মাকে আমার দেখেছে যে

বাণী

মাকে আমার দেখেছে যে ভাইকে সে কি ঘৃণা করে।
ত্রিলোক-বাসী প্রিয় তাহার পরান কাঁদে সবার তরে॥
নাই জাতি ভেদ উচ্চ-নীচের জ্ঞান
তাহার কাছে সকলে সমান,
দেখলে গুহক চন্ডালে সে রামের মত বক্ষে ধরে॥
মা আমাদের মহামায়া পরমা প্রকৃতি
পিতা মোদের পরমাত্মা রে তাই সবার সাথে প্রীতি
মোদের সবার সাথে প্রীতি।
সন্তানে তাঁর ঘৃণা করে মাকে করে পূজা
সে পূজা তার নেয় না কভু, নেয় না দশভূজা।
(মোরা) এই ভেদ-জ্ঞান ভুলব যেদিন
মা সেই দিন আসবে ঘরে॥

১. সে পূজা তার নেয় না চতুর্ভুজা, ওরে নেয় না দশভুজা

বিশ্ব ব্যাপিয়া আছ তুমি জেনে

বাণী

বিশ্ব ব্যাপিয়া আছ তুমি জেনে শান্তি ত’ নাহি পাই।
রূপ ধরে এসো, দাঁড়াও সুমুখে, দেখিয়া আঁখি জুড়াই॥
	আমার মাঝারে যদি তুমি রহ
	কেন তবে এই অসীম বিরহ
কেন বুকে বাজে নিবিড় বেদনা মনে হয় তুমি নাই॥
চাঁদের আলোকে ভরে না গো মন, দেখিতে চাই যে চাঁদ,
ফুলর গন্ধ পাইলে, জাগে যে ফুল দেখিবার সাধ।
	(ওগো) সুন্দর, যদি নাহি দেবে ধরা
	কেন প্রেম দিলে বেদনায় ভরা
রূপের লাগিয়া কেন প্রাণ কাঁদে রূপ যদি তব নাই॥

প্রিয়তম হে আমি যে তোমারি

বাণী

প্রিয়তম হে, আমি যে তোমারি চির-আরাধিকা।
তব নাম গেয়ে প্রেম-বৃন্দাবনে ফিরি ব্রজ-বালিকা।।
	মম নয়ন দুটি তব দেবালয়ে
	জ্বলে নিশিদিন আরতি-প্রদীপ হয়ে
নাম-কলঙ্ক তব হরি-চন্দন মোর গলার মালিকা।।
মোরে শরণ দাও তব চরণে কর অবনমিতা,
জনমে জনমে হয়ো প্রভু তুমি, আমি হব দয়িতা।
	শুধু নাম শুনি, নাথ মনে মনে
	আমি স্বয়ম্বরা হয়েছি গোপনে,
বড় সাধ প্রাণে র’ব তোমারি ধ্যানে হব শ্যাম-সাধিকা।।

মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে

বাণী

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে।
নিঝুম নিশীথে ব্যথিত বুকের মাঝে॥
	মনে প’ড়ে যায় সহসা কখন
	জল ভরা দু’টি ডাগর নয়ন,
পিঠ-ভরা চুল সেই চাঁপা ফুল ফেলে ছু’টে যাওয়া লাজে॥
হারানো সে-দিন পাব না গো আর ফিরে,
দেখিতে পাব না আর সেই কিশোরীরে।
	তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন
	আমি ভুলিয়াছি ভোলেনি সে যেন,
গোমতীর তীরে পাতার কুটীরে (সে) আজও পথ চাহে সাঁঝে।