ম্লান আলোকে ফুটলি কেন গোলক-চাঁপার ফুল

বাণী

ম্লান আলোকে ফুটলি কেন গোলক-চাঁপার ফুল।
ভূষণহীনা বনদেবী কার হ'রি তুই দুল।।
	হার হ'বি কার কবরীতে
	সন্ধ্যারানী দূর নিভৃতে,
ব'সে আছে অভিমানে ছড়িয়ে এলোচুল।।
মাটির ধরার ফুলদানিতে তোর হবে কি ঠাঁই,
আদর কে আর করবে তোরে, বসন্ত যে নাই হায় বসন্ত নাই।
	গোলক-চাঁপা খুঁজিস কারে —
সে দেবতা নাই রে হেথা শূন্য যে আজি গোকুল।।

ঘুম আয় ঘুম ঘুম

বাণী

ঘুম আয় ঘুম, ঘুম ঘুম ঘুম।
আকাশ-বাতাস জল থল উপবন সব হোক নিঝ্ঝুম।।
শান্ত হোক সব অশান্ত কলরোল
রে পথিক! জীবন-পথের ক্লান্তি ভোল্
নয়নে লাগুক সুখ-স্বপনের কুঙ্কুম।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে

বাণী

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে।
হায় আকাশে সখি আজো কি সেই চাঁদ ওঠে।।
	সখি তাহার হাতের হেনা গাছে
	বুঝি প্রথম মুকুল ধরিয়াছে।
হায় যমুনায়, বাঁশি বাজে কি আর ছায়ানটে।।
শিয়রে জানালা খুলে দে বাহিরে চাহিয়া দেখি
আমার বাগানে আবার বসন্ত আসিয়াছে কি?
দেখি সে ডালিম ফুলে হায় আছে কি সে রঙ আগেকার।
ও-বাড়ির ছাদের টবে সই বেলফুল ফুটলো কি আবার?
	আজি আসিবে সে মনে লাগে
	তারি আসার আভাস মনে জাগে
হায় বুঝি তাই, মোর মরণ মধুর হয়ে ওঠে।।

তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম

বাণী

তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম —
মোর সাধ যায় হরি আমি যদি সেই কিশোরী হইতাম।।
	সেই প্রেম মোরে দাও গো শ্রী হরি,
	যে প্রেমে নেমে আস রূপ ধরি',
যে প্রেমে কাঁদো যমুনার তীরে তুমি লয়ে 'রাধা রাধা' নাম।।
সেই প্রেম দাও যে প্রেমে ভোল তুমি হে শ্রী ভগবান,
রাধার দুয়ারে ভিক্ষা চাহিয়া নিতি সহ অপমান।
	মোর আঁখি হয়ে উঠুক কমল,
	দাও প্রিয় মোরে সেই আঁখিজল;
দাও সে বিরহ যে বিরহে এই ধরা হয় ব্রজধাম।।

দোহাই তোদের এবার তোরা

বাণী

দোহাই তোদের! এবার তোরা সত্যি করে সত্য বল্।
ঢের দেখালি ঢাক ঢাক গুড় গুড় ঢের মিথ্যা ছল।।
পেটে এক আর মুখে আরেক — এই যে তোদের ভন্ডামি,
এতেই তোরা লোক হাসালি, বিশ্বে হলি কম্‌-দামি।
নিজের কাছেও ক্ষুদ্র হলি আপন ফাঁকির আফসোসে,
বাইরে ফাঁকা পাঁয়তারা তাই, নাই তলোয়ার খাপ-কোষে।
তাই হলি সব সেরেফ আজ কাপুরুষ আর ফেরেব-বাজ
সত্য কথা বলতে ডরাস তোরাই আবার করবি কাজ —
				ফোঁপরা ঢেঁকির নেইক লাজ।
ইলশেগুড়ি বৃষ্টি দেখেই ঘর ছুটিস্‌ সব রাম-ছাগল!
যুক্তি তোদের খুব বুঝেছি, দুধকে দুধ আর জলকে জল।।

যার মেয়ে ঘরে ফিরল না আজ

বাণী

যার মেয়ে ঘরে ফিরল না আজ তার ঘরে তুই যা মা উমা!
আজ ঘুম নাই যে মায়ের চোখে সেই মাকে তুই জড়িয়ে ঘুমা॥
(মা)	এমন আনন্দেরই হাটে
	কেঁদে যাহার দিবস কাটে
‘মা আমি এসেছি’ বলে, সেই জননীর খা মা চুমা॥
যে মা’র বুক শূন্য আজি, কাঁদে আয় রে গোপাল বলে,
মা! তোর দুই কুমার নিয়ে, তুলে দে সেই শূন্য কোলে।
	ওমা! এই কটি দিন বিপুল স্নেহে
	তুমি বিরাজ কর প্রতি গেহে;
সকল অভাব পূর্ণ ক’রে আনন্দ দে শান্তি দে মা॥