ঘন দেয়া গরজায় গো

বাণী

ঘন দেয়া গরজায় গো — কেঁদে ফেরে পূবালী বায়।।
একা ঘরে মম ডর লাগে, কার বিধুর স্মৃতি মনে জাগে,
বারি ধারে কাঁদে চারিধার, সে কোথায় আজি সে কোথায়।।
গগনে বরষে বারি, তৃষ্ণা গেল না তবু আমারি,
কোন্‌ দূর দেশে প্রিয়তম এ বিধুর বরষায়।।

ঢের কেঁদেছি ঢের সেধেছি

বাণী

	ঢের কেঁদেছি ঢের সেধেছি, আর পারিনে, যেতে দে তাঁ’য়।
	গ’ল্‌ল না যে চোখের জলে গ’ল্‌বে কি সে মুখের কথায়।।
		যে চ’লে যায় হৃদয় দ’লে
		নাই কিছু তার হৃদয় ব’লে,
	তারে মিছে অভিমানের ছলে — ডাক্‌তে আরো বাজে ব্যথায়।।
		বঁধুর চ’লে যাওয়ার পরে
		কাঁদব লো তার পথে প’ড়ে,
তার	চরণ-রেখা বুকে ধ’রে — শেষ করিব জীবন সেথায়।।

ও কে উদাসী বেণু বাজায়

বাণী

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
	গৃহীরে করে সে পরবাসী
	রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
	অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

হায় ঝ’রে যায় মোর আশা-কুসুম

বাণী

হায় ঝ’রে যায় মোর আশা-কুসুম বারে বারে।
ফিরে যায় কেঁদে বসন্ত কুঞ্জ-দুয়ারে।।
বহিল বৈশাখী ঝড়, ঝরিয়া গেল বনফুল,
বিঁধিছে কণ্টক স্মৃতির, উড়িয়া গেল গো বুল্‌বুল্‌।
যেন কার ব্যথিত নিশ্বাস শ্বসিয়া ফিরিছে হেথা,
দলিত রাঙা গোলাপে জাগিছে তাহারি ব্যথা।
	মুরছায় দশ দিশি যেন ব্যথা-ভারে।।
ছিল যথায় রাঙা ফুল-মেলা
আজি পাতা ঝরার সেথা খেলা,
অবেলায় বাজে বিদায়-বাঁশি বন-পারে।।

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে

বাণী

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে ঐ কোন্ উদাসী।
বুকে কেন নীরব বীণা মুখে কেন নেইকো হাসি।।
	আকাশে চাঁদ তারার মেলা
	বনের পথে রঙের ডালা
তবু কেন আঁখিতে ওর উথলে পড়ে অশ্রুরাশি।।
	বনের হাওয়ায় বাজিয়ে বেণু,
	ছড়িয়ে চলে ফুলের রেণু
বিদেশিকে আন্‌না ডেকে সাধ হয়েছে ভালবাসি।।

১. ফুলেল হাওয়া

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে

বাণী

পালিয়ে তুমি বেড়াবে কি এমনিভাবে
এমনি ক'রে জনম কি মোর কেঁদেই যাবে।।
	ওগো চপল বনের পাখি
	ধরা তুমি দেবে না কি,
অন্তরালে থাকি' শুধু গান শোনাবে।।
কেন এলে নিঠুর তুমি পথিক হাওয়া
তোমার স্বভাব ফুল ফুটিয়েই ঝরিয়ে যাওয়া
	হে বিরহী, লীলা-চত্বর,
	অশ্রু কি মোর এতই মধুর!
কবে এসে আমার অভিমান ভাঙাবে।।