বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে

বাণী

বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা।
পিয়াল বনের পথে নিরালা সাঁঝের বেলা।
হেলে দুলে চলে কে কাঁখে গাগরি,
কাহার ঝিয়ারি, ও কাহার পিয়ারি ওই নবীনা নাগরি।।
নূপুর মিনতি করে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
আমারে রাখিও চরণে বাঁধিয়া,
পিয়া পিয়া ব'লে ডেকে ওঠে পাপিয়া।
অঙ্গ জড়ায়ে দোলে আনন্দে ঘাগরি।।
চাঁদের মুখে যেন চন্দন মাখিয়া
কাজল কালো চোখের কলঙ্ক আঁকিয়া —
আকাশ সম ওরে রেখেছে ঢাকিয়া নীলাম্বরী।।

আহার দেবেন তিনি রে মন

বাণী

		আহার দেবেন তিনি রে মন জিভ দিয়াছেন যিনি।
		তোরে সৃষ্টি ক'রে তোর কাছে যে আছেন তিনি ঋণী।।
		সারা জীবন চেষ্টা ক'রে,ভিক্ষা-মুষ্টি আনলি ঘরে
(ও মন)	তাঁর কাছে তুই হাত পেতে দেখ কি দান দেন তিনি।।
		না চাইতে ক্ষেতের ফসল পায় বৃষ্টির জল
		তুই যে পেলি পুত্র-কন্যা তোরে কে দিল তা বল।
		যাঁর করুণায় এত পেলি,তাঁরেই কেবল ভুলে গেলি
(তোর)	ভাবনার ভার দিয়ে তাঁকে ডাক রে নিশিদিন-ই।।

পুরবের তরুণ অরুণ

বাণী

পুরবের তরুণ অরুণ পুরবে আস্‌লো ফিরে।
কাঁদায়ে মহাশ্বেতায় হিমানীর শৈল-শিরে।।
	কুহেলির পর্দা ডারি’
	ঘুমাত রূপ-কুমারী,
জাগালে স্বপনচারী — তাহারে নয়ন-নীরে।।
তোমার ঐ তরুণ গলার শুনি গান সিন্ধু-পারে,
দুলিছ মধ্যমণি সুরমার কণ্ঠ-হারে।
	ধেয়ানী দিলে ধরা
	হ’ল সুর স্বয়ম্বরা,
এলে কি পাগল-ঝোরা — পাষাণের বক্ষ চিরে’।

যেতে নারি মদিনায় আমি হে প্রিয় নবী

বাণী

যেতে নারি মদিনায়, আমি নারি, হে প্রিয় নবী
আমারই ধ্যানে এসো প্রাণে এসো আল-আরবি।।
তপ্ত যে নিদারুণ আরবের সাহারা গো
শীতল হৃদে মম রাখিব তোমারই ছবি।।
ভালবাস যদি না মরুভূ ধূসর গো
জ্বালায়ে, হৃদি মম করিব সাহারা গোবি।।
হে প্রিয়তম, গোপনে তব তরে আমি কাঁদি
তোমারে দিয়াছি মোর, দুনিয়া আখের সবই।।

আমার হৃদয়-বৃন্দাবনে নাচেরে

বাণী

মীরা		:	আমার হৃদয়-বৃন্দাবনে নাচেরে গিরিধারী বনমালিয়া।
			সব সংশয়-ভঞ্জন নিতি মম চিত-রঞ্জন নবীন বারিদ গঞ্জন-কালিয়া।।
শ্রীকৃষ্ণ		:	তুমি এমন ক’রে আমায় ধ’রে রাখলে চিরদিন
			আমি এমনি ক’রে যুগে যুগে শুধছি প্রেমের ঋণ,
			তাই নেমে ধরায় নয়ন ধারায় ভাসায়েছি নদীয়া।।
মীরা		:	চির উজ্জ্বল হিয়া তলে
			হে নাথ আসিবে ব’লে
			রেখেছি প্রেমের শিখা জ্বালিয়া।।
শ্রীকৃষ্ণ		:	আমারে কাঁদালে আপনি কাঁদিয়া
মীরা		:	এসো নাথ এসো নাথ
			ধোয়াব রাতুল চরণ যুগল নয়ন সলিল ঢালিয়া।।

নাটিকা : ‘মীরাবাঈ’

ক্ষমা সুন্দর আল্লা

বাণী

ক্ষমা সুন্দর আল্লা, মোদের ভয় দেখিও না আর।
দোজখের ভয়ে হতে পারিনা হে প্রিয়তম, বেড়াপার।।
		কেন দুনিয়ায় পাঠাইলে
		কেন গুনাহের বোঝা দিলে,
তুমি তো জানিতে দুনিয়ায় পুড়ে মরিব যে তিলে তিলে।
		হেথা পদে পদে করি অপরাধ
		তোমারে পাওয়ার তবু জাগে সাধ,
অপরাধ শুধু দেখ কি গো তুমি, রোদন দেখনা তার।।
হে পরম প্রিয়, তোমারে খুঁজিতে গিয়া মোরা কত ভুল পথে চলি
তুমি ভেবে খেলি সুন্দর মায়া নিয়া পরে বিষের দাহনে জ্বলি।।
তুমি জান স্বামী তব পথে কত কণ্টক, কত বাধা,
যে পথে যাই সেই পথে লাগে দুনিয়ার ধুলো-কাদা।
		জন্ম-অন্ধ জানি না কাহারে
		তুমি ভেবে হাত জড়াইয়া ধরে,
দু’চোখে নূরের তৃষ্ণা ল’য়ে কি পাব দোজখের নীর।।