রঘুকুলপতি রামচন্দ্র আওধকে অধিকারী

বাণী

রঘুকুলপতি রামচন্দ্র আওধকে অধিকারী।
সুর-নর-জন পূজে চরণ, মুনি-জন ভয়হারী।।
	ঝলকে অরুণ বদন-কমল,
	নীল-পদ্ম নয়ন যুগল
দশরথ-সুত সীতাপতি তপবন বনচারী।।
সত্য ধর্ম পালক-প্রভু, রাজমুকট-ত্যাগী
রত্নাকর শাসক অরু, অনুজকে অনুরাগী।
	শিলা সতী অহল্যা ত্রাতা,
	জগৎ-পূজ্য, জগৎ-পাতা।
লঙ্কা-পতি মোক্ষদাতা অসুর-নিধনকারী।।

আজ ভারতের নব আগমনী

বাণী

আজ ভারতের নব আগমনী জাগিয়া উঠেছে মহাশ্মশান
জাগরণী গায় প্রভাতের পাখি ফুলে ফুলে হাসে গোরস্থান॥
	ট’লেছে অটল হিমালয় আজি
	সাগরে শঙ্খ উঠিয়াছে বাজি’
হলাহল শেষে উঠেছে অমৃত বাঁচাইতে মৃত মানব-প্রাণ॥
	আঁধারে ক’রেছে হানাহানি যারা
	আলোকে চিনেছে আত্মীয় তা’রা
এক হয়ে গেছে খ্রিস্টান, শিখ, হিন্দু, পারসি, মুসলমান।
	এই তাপসীর চরণের তলে
	লভিয়াছে জ্ঞান শিক্ষা সকলে 
আবার আসিবে তারা দলে দলে করিতে পুণ্য-তীর্থ-স্নান॥

আমি মা ব’লে যত ডেকেছি

বাণী

আমি মা ব’লে যত ডেকেছি, সে-ডাক নূপুর হয়েছে ও-রাঙা পায়।
মোর শত জনমের কত নিবেদন, চরণ জড়ায়ে কহিয়া যায়।।
মাগো তোরে নাহি পেয়ে লোকে লোকে
	যত অশ্রু ঝরেছে মোর চোখে,
সেই আঁখিজল জবা ফুল হয়ে, শোভা পেতে ঐ চরণ চায়।।
মাগো কত অপরাধ করেছিনু বুঝি, সংহার ক’রে সে-অপরাধ,
বল লীলাময়ী, মিটেছে কি তোর মুণ্ডমালিকা পরার সাধ।
		যে ভক্তি পায়নি চরণতল
		আজ হয়েছে তা বিল্বদল,
মোর মুক্তির তৃষা মুক্তকেশী গো, এলোকেশ হয়ে পায়ে লুটায়।।

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা

বাণী

সাহারাতে ফুটল রে রঙিন গুলে লালা
সেই ফুলেরি খোশবুতে আজ দুনিয়া মাতোয়ালা।।
সে ফুল নিয়ে কাড়াকাড়ি চাঁদ -সুরুজ গ্রহ-তারায়
ঝুঁকে প'ড়ে চুমে সে ফুল নীল গগন নিরালা।।
সেই ফুলেরি রঙ লেগে আজ ত্রিভুবন উজালা।।
চাহে সে ফুল জ্বীন ও ইনসান হুরপরী ফেরেশতায়
ফকির দরবেশবাদশা চাহে করিতে গরার মালা (তারে)
চেনে রসিক ভ্রমর,বুলবুল সেই ফুলের ঠিকানা
কেউ বলে হযরত মোহাম্মদ (বলে) কেউ বা কমলিওয়ালা।।

আমার শ্যামা মায়ের কোলে চড়ে

বাণী

আমার	শ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি শ্যামের নাম
		মা হলেন মোর মন্ত্র-গুরু ঠাকুর হলেন রাধা-শ্যাম।।
			ডুবে শ্যামা-যমুনাতে
		মা 	খেলবো খেলা শ্যামের সাথে
		শ্যাম যবে মোরে হানবে হেলা মা পুরাবেন মনস্কাম।।
		আমার মনের দোতারাতে শ্যাম ও শ্যামা দুটি তার,
		সেই দোতারায় ঝঙ্কার দেয় ওঙ্কার রব অনিবার।
			মহামায়া মায়ার ডোরে
			আনবে বেঁধে শ্যাম-কিশোরে
আমি		কৈলাসে তাই মাকে ডাকি দেখবো সেথা ব্রজধাম।।

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী

বাণী

তব মাধবী-লীলায় কর মোরে সঙ্গী (হে বন-লক্ষ্মী)।
তব অপাঙ্গে হইব ভ্রুভঙ্গি।।
মোরে জ্বালায়ে জ্বালো
তব বাসরে আলো,
মোরে নূপুর করি’ বাঁধ চরণে তারি —
	নাচে তোমার সভায় যে কুরঙ্গী।।
তব রূপের দেশে
এনু বাউল বেশে,
যেন ফিরে নাহি যাই
আঁখি-প্রসাদ পাই —
	হব কেশে তব বেণীর ভুজঙ্গী।।