বাণী
নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা নিশি-শেষে। বাদল-অবসানে আকাশ উঠেছে হেসে।। চখার পাশে আসে বিরহ-রাতের চখি আঁধার লুকাল ঐ দূর বনে এলোকেশে।। শরম-রাঙা গালে জাগিল কুমারী ঊষা, তরুণ অরুণ ঐ এসো রাঙা বর-বেশে।।
রাগ ও তাল
রাগঃ ভৈরবী
তালঃ দাদ্রা
নিশীথ-স্বপন তোর ভু’লে যা নিশি-শেষে। বাদল-অবসানে আকাশ উঠেছে হেসে।। চখার পাশে আসে বিরহ-রাতের চখি আঁধার লুকাল ঐ দূর বনে এলোকেশে।। শরম-রাঙা গালে জাগিল কুমারী ঊষা, তরুণ অরুণ ঐ এসো রাঙা বর-বেশে।।
রাগঃ ভৈরবী
তালঃ দাদ্রা
(যবে) আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা দু’টি বনের পাখি। শুধু শিরাজি ঢালি, আমি চোখের বালি আমি পাষাণ সাকি।। রিক্ত ওদের হৃদয় পেয়ালায় আমি অমৃত ঢালি আমারই অন্তর শুধু পাইল না প্রেম-মধু রহিল খালি, আমি রহি আভরণ-হীনা বাঁধি’ ওদের হাতে প্রেমের রাখি।। আমি হাসিয়া রচি যার কুঞ্জ-বাসর দুয়ারে দাঁড়ায়ে তারি’ জাগি রাতি, আমি শিয়রে রহি’ হায় নিজেরে দহি যেন মোমের বাতি। আমি গাঁথিয়া মালা, দিই সখির হাতে দেখি কে দেয় কার মালা কার গলাতে, শিরাজি ঢালিতে হায় পিয়ালা ভাঙিয়া যায় — নিরালায় বন্ধুর মিলন-ছবি আমি হৃদয়ে আঁকি।।
রাগঃ
তালঃ
একেলা গোরী জল্কে চলে গঙ্গাতীর অঙ্গে ঢুলিয়া পড়ে লালসে অলস সমীর।। কাঁকনে কলসে বাজে কত কথা পথ মাঝে আঁচল চুমিছে শিশির।। তটিনীতে চলে কি গো সোনার বরণ মায়া-মৃগ নয়নে আবেশ মদির।।
রাগঃ জৌনপুরী
তালঃ দাদ্রা

নদী এই মিনতি তোমার কাছে। ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমারে যে দেশে মোর বন্ধু আছে।। নদী, তোমার জলের পথ ধ’রে সে চ’লে গেল একা, আমি সেই হ’তে তার পথ চেয়ে রই, পেলাম না আর দেখা, ধূলার এ পথ নয় সে বন্ধু থাকবে চরণ-রেখা। আমি মীন হয়ে রহিব জলে, ছুট্ব ঢেউ-এর পাছে।। আমি ডুবে যদি মরি, তোমার নয় সে অপরাধ, কুলে থেকে পাইনে খুঁজে, তাই জেগেছে সাধ। আমি দেখ্ব ডু’বে তোমার জলে আছে কি মোর চাঁদ, বড় জ্বালা বুকে রে নদী টেনে লহ কাছে নদী, অভাগা এই যাচে।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে। বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।। জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়, দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়। ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।। এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে। কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।। সন্তান তব বিপথগামী, ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী। পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।
রাগঃ বেহাগ
তালঃ একতাল

নন্দকুমার বিনে সই আজি বৃন্দাবন অন্ধকার নাহি ব্রজে আনন্দ আর। যমুনার জল দ্বিগুণ বেড়েছে ঝরি’ গোকূলে অশ্রুধার।। শীতল জানিয়া মেঘ-বরণ শ্যামের শরণ লইয়া সই তৃষিতা চাতকী জ্বলে মরি হায় বিরহ-দাহনে ভস্ম হই। শীতল মেঘে অশনি থাকে কে জানিত সখি সজল কাজল শীতল মেঘে অশনি থাকে। ব্রজে বাজে না বেণু আর চরে না ধেনু (আর) পড়ে না গোকুলে শ্যাম চরণ রেণু তার ফেলে যাওয়া বাঁশি নিয়ে শ্রীদাম সুদাম ধায় মথুরার পথে আর কাঁদে অবিরাম। কৃষ্ণে না হেরি দূর বন পার উড়ে গেছে শুক সারি কৃষ্ণ যেথায় সেই মথুরায় চলো যাই ব্রজনারী।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (দাদ্রা, তেওড়া, কাহার্বা ও ঝাঁপতাল)
