রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে

বাণী

রহি' রহি' কেন সে-মুখ পড়ে মনে
ফিরায়ে দিয়াছি যারে অনাদরে অকারণে।
উদাসী অলস দুপুরে
মন উড়ে' যেতে চায় সুদূরে
যে বন-পথে সে ভিখারির বেশে
করুণা জাগায়ে ছিল সকরুণ নয়নে।।
তার বুকে ছিল তৃষ্ণা মোর ঘটে ছিল বারি
পিয়াসি ফটিকজল জল পাইল না গো
ঢলিয়া পড়িল হায় জলদ নেহারি।
তার অহ্জলির ফুল পথ-ধূলিতে
ছড়ায়েছি-সেই ব্যথা নারি ভুলিতে
অন্তরালে যারে রাখিনু চিরদিন
অন্তর জুড়িয়া কেন কাঁদে সে গোপনে।।

ভিখারিনী করে পাঠাইলি মোরে

বাণী

	ভিখারিনী করে পাঠাইলি মোরে, (মাগো) কি দিয়ে পূজিব বল।
	হাতে আছে শুধু শূন্য প্রণাম, চোখে আছে শুধু জল।।
	পূজা ধূপ নাই, চন্দন নাই, মাগো, লাজে মরি দিতে ভয় পাই
	চুরি করে আনা দুটি জবা ফুল, একটি বিল্বদল।।
তোর	ধনী ছেলে মেয়ে ঘটা করে তোর পূজা করে কত রূপে,
মাগো	ভিখারি মেয়ের বেশে তুই কেন দাঁড়াইলি এসে, মোর কাছে চুপে চুপে
	কিছু নাই মাগো হাতে দিতে তোর, শুধু নামখানি সম্বল মোর,
যদি	চাস তুই ঐ রাঙা পায়ে দিব নামের সে শতদল।।

সখি আর অভিমান জানাব না

বাণী

সখি আর অভিমান জানাব না বাস্‌ব ভালো নীরবে।
যে চোখের জলে গল্‌ল না, (তার) মুখের কথায় কি হবে॥
অন্তর্যামী হয়ে অন্তরে মোর
	দিবা-নিশি রহে যে চিত-চোর,
অন্তরে মোর কোন্ সে-ব্যথা বোঝে না সে, কে ক’বে॥
সখি এবার আমার প্রেম নিবেদন গোপনে,
সূর্যমুখী চাহে যেমন তপনে।
	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
	তাই চিরদিন অশ্রুর সায়রে ভাসে,
চির জীবন জানি কাঁদিতে হবে তাহারে চেয়েছি যবে॥

১. শেষ পাঁচ পঙক্তির পাঠ্যন্তর :
সখি	এবার আমার প্রেম বিবেদন আপন মনে গোপনে,
	সূর্যমুখী চাহে যেমন চাওয়ার নেশা তপনে।
	কুমুদিনী চাঁদে ভালোবাসে
	তাই সে অশ্রু সায়রে ভাসে,
	হাজার জনম কাঁদিতে হইবে তাহারে চেয়েছি যবে॥

শ্যামা নামের লাগলো আগুন

বাণী

শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধূপ–কাঠিতে।
যত জ্বলি সুবাস তত ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে।।
		ভক্তি আমার ধূমের মত
		উর্দ্ধে ওঠে অবিরত,
শিব–লোকের দেব–দেউলে মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।।
ওগো অন্তর–লোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ–সুবাসে,
মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে।
		যা কিছু মোর পুড়ে কবে
		চিরতরে ভস্ম হবে
মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই ভস্ম–বিভূতিতে।।

বুল্‌বুলি নীরব নার্গিস বনে

বাণী

বুল্‌বুলি নীরব নার্গিস–বনে।
ঝরা বন–গোলাপের বিলাপ শোনে।।
শিরাজের নওরোজে ফাল্গুন মাসে
যেন তার প্রিয়ার সমাধির পাশে,
তরুণ ইরান–কবি কাঁদে নিরজনে।।
উদাসীন আকাশ থির হ’য়ে আছে,
জল–ভরা মেঘ ল’য়ে বুকের কাছে।
সাকির শরাবের পিয়ালার ‘পরে
সকরুণ অশ্রুর বেল ফুল ঝরে,
চেয়ে আছে ভাঙা চাঁদ মলিন–আননে।।

মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে

বাণী

মধুর নূপুর রুমুঝুমু বাজে।
কে এলে মনোহর নটবর-সাজে।।
নিশীথের ফুল ঝরে রাঙা পায়ে
মাধবী রাতের চাঁদ এলে কি লুকায়ে,
'পিয়া পিয়া' ব'লে পাখি ডাকে বন-মাঝে।।