কেন গো যোগিনী বিধুর অভিমানে

বাণী

কেন গো যোগিনী! বিধুর অভিমানে।
যৌবনে মগন গভীর ধ্যানে।।
হের গো কুসুম ঝরিয়া পায়ে,
চাহিয়া রহে ধরণীর পানে।।

ওগো চৈতী রাতের চাঁদ যেয়ো না

বাণী

ওগো	চৈতী রাতের চাঁদ, যেয়ো না
	সাধ না মিটিতে যেতে চেয়ো না।।
হের	তরুলতায় কত আশার মুকুল,
ওগো	মাধবী-চাঁদ আজো ফোটেনি ফুল,
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না —
ঝরা	মুকুলে বনবীথি ছেয়ো না
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না, ওগো যেয়ো না।।
আজো	ফুলের নেশায় পাগল দখিন হাওয়া
আজো	বোলেনি পাপিয়া 'পিয়া পিয়া' গাওয়া
তুমি	এখনি বিদায়-গীতি গেয়ো না
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না।।

মায়ের আমার রূপ দেখে যা

বাণী

মায়ের আমার রূপ দেখে যা মা যে আমার কেবল জ্যোতি।
(মার) কৌশিকি রূপ দেখ্ রে চেয়ে, মা, শুদ্ধা মহা স্বরস্বতী।।
	পরম শুভ্র জ্যোতির্ধারায়
	নিখিল বিশ্ব যায় ডুবে যায়।
কোটি শ্বেতশতদলে বিরাজে মা বেদবতী।।
সপ্তসর্গ সপ্ত পাতাল শুদ্ধ হয়ে উঠল নেয়ে
সাত্ত্বিকি মোর জগন্মাতার জ্যোতির্সুধার প্রসাদ পেয়ে।
	নৃত্যময়ী শব্দময়ী কালী
	এলো শান্ত কল্যাণ-দীপ জ্বালি’
দেখ রে পরমাত্মায় সব জননী সে জ্যোতিষ্মতী।।

গুল–বাগিচার বুলবুলি আমি

বাণী

গুল–বাগিচার বুলবুলি আমি রঙিন প্রেমের গাই গজল।
অনুরাগের লাল শারাব মোর আঁখি ঝলে ঝলমল (হায়)।।
	আমার গানের মদির ছোঁয়ায়
	গোলাপ কুঁড়ির ঘুম টুটে যায়,
সে গান শুনে প্রেমে–দীওয়ানা কবির আঁখি ছলছল (হায়)।।
লাল শিরাজীর গেলাস হাতে তন্বী সাকি পড়ে ঢুলে,
আমার গানের মিঠা পানির লহর বহে নহর–কূলে।
ফুটে ওঠে আনারকলি নাচে ভ্রমর রং–পাগল (হায়)।।
	সে সুর শুনে দিশেহারা
	ঝিমায় গগন ঝিমায় তারা,
চন্দ্র জাগে তন্দ্রাহারা বনের চোখে শিশির জল (হায়)।।

১. বনের পাতায়

জয় হোক জয় হোক

বাণী

জয় হোক জয় হোক —
শান্তির জয় হোক, সাম্যের জয় হোক্,
সত্যের জয় হোক জয় হোক॥
সর্ব অকল্যাণ পীড়ন অশান্তি
সর্ব অপৌরুষ মিথ্যা ও ভ্রান্তি,
হোক ক্ষয়, ক্ষয় হোক জয় হোক জয় হোক॥
দূর হোক অভাব ব্যাধি শোক
দুখ দৈন্য গ্লানি বিদ্বেষ অহেতুক,
মৃত্যুবিজয়ী হোক্ অমৃত লভুক —  
ভয়-ভীত দুর্বল নির্ভয় হোক।
রবে না এ শৃঙ্খল উচ্ছৃঙ্খলতার
বন্ধন কারাগার হবে হবে চুরমার,
পার হবে বাধার গিরি মরু পারাবার —  
নির্যাতিত ধরা মধুর, সুন্দর প্রেমময় হোক,
জয় হোক জয় হোক॥

চাঁদের মতো নীরবে এসো প্রিয়

বাণী

চাঁদের মত নীরবে এসো প্রিয় নিশীথ রাতে।
ঘুম হয়ে পরশ দিও হে প্রিয়, নয়ন-পাতে।।
	তব তবে বাহির-দুয়ার মম
	খুলিবে না এ-জনমে প্রিয়তম,
মনের দুয়ার খুলি’ গোপনে এসো বিজড়িত রহিও স্মৃতির সাথে।।
কুসুম-সুরভি হ’য়ে এসো নিশি-পবনে,
রাতের পাপিয়া হয়ে পিয়া পিয়া ডাকিও বব-ভবনে।
	আঁখি-জল হয়ে আঁখিতে আসিও
	বেণুকার সুর হয়ে শ্রবণে ভাসিও,
বিরহ হ’য়ে এসো হে চির-বিরহী আমার অন্তর-বেদনাতে।।

গীতিচিত্রঃ ‘অতনুর দেশ’