তোমায় আমায় মিল খেয়েছে

বাণী

		তোমায় আমায় মিল খেয়েছে ও প্রেয়সী রাজ-যোটক।
		আমি যেন গোদা চরণ তুমি তাহে বিষ্ফোটক।।
		আমি কুম্‌ড়ো তুমি দা, আমি কাঁচকলা তুমি আদা,
		তুমি তেজী, (আর) আমি ম্যাদা,
আমি		সাপ, তুমি বেজি যেন, বাপ! তুমি হস্তিনী আমি ঘোটক।।
		তুমি বঁটী আমি চিচিঙ্গে, আমি চিল, পিছে তুমি ফিঙে
		আমি টিঙ্ টিঙে, (আর) তুমি ডিঙ্ ডিঙে
প্রিয়ে		আমি ভেতো বাঙালিটি, তুমি যেন বর্গী-ঠগ্‌।।
		আমি দাড়ি তুমি ক্ষুর, তুমি সাপ আমি ল্যাজুড়,
		তুমি মাফ, আমি কসুর
		আমি ভাঙা ভোঙা কলার ভেলা তুমি খিদিরপুরের ডক্।।
		তুমি বঁড়্ শি আমি মাছ; আমি মোম্ তুমি আগুন-আঁচ,
		তুমি আমার হাতের পাঁচ
		তুমি আ জনমে স্বামী হয়ো আমায় দিও পদোদক।।

মৃদুল মন্দে মঞ্জুল ছন্দে

বাণী

মৃদুল মন্দে			মঞ্জুল ছন্দে
মরাল মদালস			নাচে আনন্দে।।
তরঙ্গ হিন্দোলে		শতদল দোলে
শিশু অরুণে জাগায়		অমা-যামিনীর কোলে
শুষ্ক কানন ভরে		বকুল গন্ধে।।
নন্দন-উপহার			ধরণীর ক’রে
শুভ্র পাখায় শুভ		আশিস ঝরে।
মিলন, বসন্তের		দূত আগমনী
কণ্ঠে সুমঙ্গল			শঙ্খের ধ্বনি
কুহু কেকা গাহে		মধুর ছন্দে।।

নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে

বাণী

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর।
ডাকছে পাখি, ‘বৌ গো জাগো’ আর ঘুমায়ো না, রাত্রি ভোর।।
যুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায় চুম্‌কুড়ি দেয় মৌমাছি
শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর।।
ঘোম্‌টা ঠেলি’ কয় চামেলি গোল ক’রো না গুল্‌-ডাকাত,
ঢুলছে নয়ন, দুলছে গলায় বেল-টগরের ছিন্ন ডোর।।
গুন্‌গুনিয়ে মোর আঙিনায় কোন্‌ সতীনের গাইছ গুন্‌
কার মালঞ্চে ফুল ফোটায়ে হুল ফোটালে বক্ষে মোর।।

আয় সবে ভাই বোন

বাণী

আয় সবে ভাই বোন
আয় সবে আয় শোন্ 
	পদধূলি শিরে লয়ে মা’র।
মা’র বড় কেহ নাই
কেহ নাই, কেহ নাই,
	নত করি’ বল সবে — ‘মা আমার! মা আমার!’

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘মাতৃস্তোত্র’

চুরি ক’রে এনো গিরি

বাণী

চুরি ক’রে এনো গিরি, আমার উমার দুই কুমারে।
দেখ্‌ব তখন ভোলা মেয়ে কেমন ভু’লে থাকতে পারে॥
তার ছেলেরে আনলে হেথা, বুঝবে মেয়ে মায়ের ব্যথা;
(বিনা) সাধনাতে গৌরী তখন, আসবে ছুটে আমার দ্বারে॥
জামাই আমার শিব ভোলানাথ, ডাকিলেই সে আসিবে জানি
চাইবে নাকো আসতে শুধু, তোমার মেয়ে ঐ পাষাণী।
কুমার গণেশ তুমি আমি, শিব পূজিব দিবস যামী;
শৈব হ’লে শিবাণী মোর, রইতে নারে ছেড়ে তারে॥

রেশমি চুড়ির তালে কৃষ্ণচূড়ার ডালে

বাণী

রেশমি চুড়ির তালে কৃষ্ণচূড়ার ডালে
‘পিউ কাহাঁ পিউ কাহাঁ’ ডেকে ওঠে পাপিয়া।।
	আঙিনায় ফুল-গাছে
	প্রজাপতি নাচে,
ফেরে মুখের কাছে আদর যাচিয়া।।
	দুলে দুলে বনলতা
	কহিতে চাহে কথা,
বাজে তারি আকুলতা — কানন ছাপিয়া।।
	শ্যামলী-কিশোরী মেয়ে
	থাকে দূর নভে চেয়ে,
কালো মেঘ আসে ধেয়ে — গগন ব্যাপিয়া।।