তুমি আমার সকাল বেলার সুর

বাণী

তুমি আমার সকাল বেলার সুর
হৃদয় অলস–উদাস–করা অশ্রু ভারাতুর।।
ভোরের তারার মত তোমার সজল চাওয়ায়,
ভালোবাসার চেয়ে সে যে কান্না পাওয়ায়
রাত্রি–শেষের চাঁদ তুমি গো বিদায়–বিধুর।।
তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
শিশির–নাওয়া শুভ্র–শুচি পূজারিণীর তুল।
অরুণ তুমি, তরুণ তুমি, করুণ তারো চেয়ে
হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ–লোকের মেয়ে
তুমিইন্দ্র–সভার মৌন–বীণা নীরব নূপুর।।

গুনগুনিয়ে ভ্রমর এলো ফুলের পরাগ মেখে

বাণী

গুনগুনিয়ে ভ্রমর এলো ফুলের পরাগ মেখে
তোমার বনে ফুল ফুটেছে যায় ক'য়ে তাই ডেকে।।
	তোমার ভ্রমর দূতের কাছে
	যে বারতা লুকিয়ে আছে —
দখিন হাওয়ায় তারি আভাস শুনি থেকে থেকে।।
দল মেলেছে তোমার মনের মুকুল এতদিনে —
সেই কথাটি পাখিরা গায় বিজন বিপিনে।
	তোমার ঘাটের ঢেউগুলি হায়
	আমার ঘাটে দোল দিয়ে যায় —
লতায় পাতায় জোছনা দিয়ে সেই কথা চাঁদ লেখে।।

গাগরী ভরণে চলে চপলা

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।

ধীরে চল চরণ টলমল

বাণী

ধীরে চল চরণ টলমল
সখি নতুন মদের নেশা
পিয়েছে বিষ-মেশা,
	চল্‌তে পথে উঠি চ’ম্‌কে।
এক খাওয়ালো মুখপোড়া কালো ছোঁড়া
	ওঠে অঙ্গ ক্ষণে ক্ষণে ছ’ম্‌কে।।
গুরুজনের কাছে ঢ’লে ঢ’লে পড়ি,
গেল কুলমান আমি লাজে মরি।
ও সে কদম-তলায়, বাঁশি বাজায়, আড় চোখে চায়,
পেলে একলা পথে আগ্‌লে দাঁড়ায় সে থ’ম্‌কে।।

চলচ্চিত্র : ‘পাতালপুরী’

যাও মেঘদূত দিও প্রিয়ার হাতে

বাণী

যাও মেঘদূত, দিও প্রিয়ার হাতে
আমার বিরহ–লিপি লেখা কেয়া পাতে।।
আমার প্রিয়ার দিরঘ নিশাসে
থির হয়ে আছে মেঘ যে–দেশেরই আকাশে
আমার প্রিয়ার ম্লান মুখ হেরি’
ওঠে না চাঁদ আর যে–দেশে রাতে।।
পাইবে যে–দেশে কুন্তল–সুরভি বকুল ফুলে
আমার প্রিয়া কাঁদে এলায়ে কেশ সেই মেঘনা–কূলে।
স্বর্ণলতার সম যার ক্ষীণ করে
বারে বারে কঙ্কণ চুড়ি খুলে পড়ে
মুকুল’ বয়সে যথা বরষার ফুল–দল
বেদনায় মুরছিয়া আছে আঙিনাতে।।

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ

বাণী

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।
মোরা	ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥
	বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
	তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
	এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
	তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু	তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
	আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
	ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু	আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
	তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
	তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
	মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
	সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
	বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥