বসিয়া বিজনে কেন একা মনে

বাণী

বসিয়া বিজনে		কেন একা মনে
পানিয়া ভরণে		চলো লো গোরী
চলো জলে চলো		কাঁদে বনতল
ডাকে ছলছল		জল-লহরি।।
দিবা চ’লে যায়		বলাকা-পাখায়
বিহগের বুকে		বিহগী লুকায়।
কেঁদে চখা-চাখি		মাগিছে বিদায়
বারোয়াঁর সুরে		ঝুরে বাঁশরি।।
ওগো বে-দরদি		ও রাঙা পায়ে
মালা হয়ে কে গো		গেল জড়ায়ে।
তব সাথে কবি		পড়িল দায়ে
পায়ে রাখি তারে		না গলে পরি।।

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে

বাণী

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
জানালা পাশে চাঁপার শাখে
‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে

বাণী

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে।
সেই পুরাতন চাঁদ আমার চোখে আজ নূতন লাগে।।
	যে ফুল দলিয়াছি নিঠুর পায়ে
	সাধ যায় ধরি তারে বক্ষে জড়ায়ে,
উদাসীন হিয়া হায় রেঙে ওঠে অবেলায় সোনার গোধূলি-রাগে।।
আবার ফাগুন-সমীর কেন বহে,
আমার ভুবন ভরি’ কেঁদে ওঠে বাঁশরি অসীম বিরহে।
	তপোবনের বুকে ঝর্নার সম
	কে এলে সহসা হে প্রিয়তম,
মাথুরের গোকুল সহসা রাঙাইলে রাসের কুঙ্কুম-ফাগে।।

চির-কিশোর মুরলীধর

বাণী

চির-কিশোর মুরলীধর কুঞ্জবন-চারী।
গোপনারী-মনোহারী বামে রাধা প্যারী।।
শোভে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম করে,
গোষ্ঠ-বিহারী কভু, কভু দানবারি।।
তমাল-তলে কভু কভু নীপ-বনে,
লুকোচুরী খেল হরি ব্রজ-বধূ সনে।
মধুকৈটভারি কংস-বিনাশন,
কভু কণ্ঠে গীতা, শিখী-পাখা-ধারী।।

দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত

বাণী

দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত
শ্রান্তি মাঝে হরি শান্তি দাও দাও॥
কান্ডারি হে আমার, পার কর কর পার,
উত্তাল তরঙ্গ অশান্তি পারাবার,
অভাব দৈন্য শত হৃদি-ব্যথা-ক্ষত,
যাতনা সহিব কত প্রভু কোলে তুলে নাও।।
হে দীনবন্ধু করুণাসিন্ধু,
অম্বর ব্যাপি’ ঝরে তব কৃপা-বিন্দু,
মরুর্‌ মতন চেয়ে আছি নব ঘনশ্যাম —
আকুল তৃষ্ণা ল’য়ে প্রভু পিপাসা মিটাও॥

ব্যথার উপরে বঁধু ব্যথা দিও না

বাণী

ব্যথার উপরে বঁধু ব্যথা দিও না
দলিত এ হৃদি মম দ’লে যেয়ো না ॥
		ল’য়ে কত সাধ আশা
		তোমার দুয়ারে আসা
(বঁধু) দিলে যদি আলোবাসা ফিরে নিয়ো না॥
স্রোতের কুসুম প্রায় ভাসিতাম অসহায়
তুলে নিয়ে বুকে তারে ফেলে দিলে পুনরায়।
		নিরদয় এ কি খেলা
		প্রাণ নিয়ে হেলাফেলা
খেলার লাগিয়া ভালবাসিও না॥