রাখ রাখ রাঙা পায় হে শ্যামরায়

বাণী

রাখ রাখ রাঙা পায়, হে শ্যামরায়!
ভুলে গৃহ স্বজন সবই সঁপেছি তোমায়॥
সংসার মরু ঘোর, নাহি তরু-ছায়া,
নব নীরদ শ্যাম, আনো মেঘ-মায়া;
আনন্দ-নীপবনে নন্দ-দুলাল এসো,
বাহও উজান, হরি, অশ্রুর যমুনায়॥
একা জীবন মোর গহন ঘন ঘোর,
এসো এ বনে বনমালী, গোপ কিশোর,
কুঞ্জ রচেছি দুখ-শোক তমাল-ছায় -  
প্রেম-প্রীতির গোপী চন্দন শুকায়ে যায়॥
দারা সুত প্রিয়জন, হরি হে, নাহি চাই,
পদ্মা-পলাশ-আঁখি যদি দেখিতে পাই;
রাখাল-রাজা এসো, এসো হে ঋষিকেশ,
গোকুলে লহ ডাকি’, অকূলে ভাসি হায়॥

তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত

বাণী

তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হজরত।
যত চাহি তত কাঁদি, আমার মেটে না হসরত।।
কোথায় আরব কোথায় এ হিন্দ্
নয়নে মোর নাই তবু নিন্দ
প্রাণে শুধু জাগে (তোমার) মদিনার ঐ পথ।।
কে বলে তুমি গেছ চলে হাজার বছর আগে
আছ লুকিয়ে তুমি প্রিয়তম আমার অনুরাগে।
মোর অন্তরের হেরা গুহায়
আজো তোমার ডাক শোনা যায়
জাগে আমার মনের কাবা ঘরে তোমারি সুরত —
	হজরত তোমারি সুরত।।
যারা দোজখ হতে ত্রাণের তরে তোমায় ভালোবাসে
আমার এ প্রেম দেখে তারা কেউ কাঁদে কেউ হাসে।
তুমি জান হে মোর স্বামী, শাফায়াৎ চাহি না আমি
আমি শুধু তোমায় চাহি তোমার মুহব্বত
	হজরত তোমার মুহব্বত।।

আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা

বাণী

	আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা
	তব কঠিন হিয়ার তলে জাগে কি গভীর ভালোবাসা।।
	ওগো উদাসীন! আমি জানি তব ব্যথা
	আহত পাখির বুকে বাণ বিধেঁ কোথা
	কোন অভিমান ভুলিয়াছ তুমি ভালোবাসিবার আশা।।
তুমি	কেন হানো অবহেলা অকারন আপনাকে,
প্রিয়	যে হৃদয়ে বিষ থাকে সে হৃদয়ে অমৃত থাকে।
	তব যে বুকে জাগে প্রলয় ঝড়ের জ্বালা
	আমি দেখেছি যে সেথা সজল মেঘের মালা
ওগো	ক্ষুধাতুর আমারে আহুতি দিলে
	মিটিবে কি তব পরানের পিপাসা।।

আমার কালো মেয়ে রাগ করেছে

বাণী

আমার কালো মেয়ে রাগ করেছে (মাকে) কে দিয়েছে গালি –
রাগ ক’রে সে সারা গায়ে মেখেছে তাই কালি।।
যখনরাগ করে মোর অভিমানী মেয়ে
আরো মধুর লাগে তাহার হাসি–মুখের চেয়ে –
কেকালো দেউল ক’রলে আলো অনুরাগের প্রদীপ জ্বালি’।।
পরেনি সে বসন–ভূষণ, বাঁধেনি সে কেশ, -
তারি কাছে হার মানে যে ভুবন–মোহন বেশ।
রাগিয়ে তারে কাঁদি যখন দুখে, (দয়াময়ী মা –)
দয়াময়ী মেয়ে আমার ঝাঁপিয়ে পড়ে বুকে;
আমাররাগী মেয়ে, তাই তারে দিই জবা ফুলের ডালি।।

আমি নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

আমি নিজেরে আড়াল রাখি, বঁধু সারাদিন গৃহ-কাজে।
হাসে গুরুজন আশেপাশে তাই চাহিতে পারি না লাজে।।
	ওগো প্রিয় তুমি অহরহ
	কেন বাহির ভবনে রহ?
তব মৌন এ অভিমান বুকে কাঁটার মতন বাজে।।
আমি তোমারি ঘরের বধূ, বঁধু এ-লাজ তোমারি লাগি’,
আমি দিনের কুমুদ কলি, ওগো চাঁদ আমি রাতে জাগি।
	মোর দেহ গৃহ-কাজ করে
	তব পায়ে থাকে মন প’ড়ে,
মোর লাজ-গুণ্ঠন টানি’ লাজ দিও না সভার মাঝে।।

আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী

বাণী

	আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী। 
যেন	এক বৃন্তে কৃষ্ণ-কলি অপরাজিতার মঞ্জরি।।
মা	আধেক পুরুষ অর্ধ অঙ্গে নারী
	আধেক কালি আধেক বংশীধারী,
	অর্ধ অঙ্গে পীতাম্বর আর অর্ধ অঙ্গে দিগম্বরী।।
মা	সেই পায়ে প্রেম-কুসুম ফোটায় নূপুর-পরা যে চরণ,
মা'র	সেই পায়ে রয় সর্প-বলয় যে পায়ে প্রলয়- মরণ। 
	মার আধ-ললাটে অগ্নি-তিলক জ্বলে
	চন্দ্রলেখা আধেক ললাট তলে,
	শক্তিতে আর ভক্তিতে মা আছেন যুগল রূপ ধরি'।।