কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে

বাণী

পুরুষ	:	কুনুর নদীর ধারে ঝুনুর ঝুনুর বাজে
		বাজে বাজে লো ঘুঙুর কাহার পায়ে।
স্ত্রী	:	হাতে তল্‌তা বাঁশের বাঁশি মুখে জংলা হাসি
		কে ঐ বুনো গো বড়ায় আদুল গায়ে।।
পুরুষ	:	তার ফিঙের মত এলোখোঁপায় ঝিঙেরি ফুল
স্ত্রী	:	যেন কালো ভোম্‌রার গা কালার ঝামর চুল।
দ্বৈত	:	ও যদি না হতো পর
		দু’জনের হতো ঘর
		একই গাঁয়ে গো।।
পুরুষ	:	ওর বাঁকা ভঙ্গিমা দেখে
		তৃতীয়ার চাঁদ ডেকে,
		হতে চাহে ওর হাঁসুলি-হার।
স্ত্রী	:	ঝিলের শঙ্খ ঝিনুক বলে
		কিনুক বিনামূলে
		আমরা হব কালার কণ্ঠেরই হার।
পুরুষ	:	ও মেয়ে না পাহাড়ি-ঝর্নার সুর
স্ত্রী	:	ও পুরুষ না কষ্টি পাথরের ঠাকুর
দ্বৈত	:	যদি বাসত ভালো, যদি আসত কাছে
		রাখতাম হিয়ায় লুকায়ে গো।।

আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ

বাণী

আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ আজও মুক্ত নহি।
আজও অন্যে আঘাত দিলে কঠোর ভাষা কহি।।
	মোর আচরণ, আমার কথা
	আজও অন্যে দেয় মা ব্যথা
আজও আমার দাহন দিয়ে শত জনে দহি।।
শত্রুমিত্র মন্দভালোর যায়নি আজও ভেদ
কেহ ব্যথা দিলে, প্রাণে আজও জাগে খেদ।
	আজও মাগো দুঃখে শোকে
	অশ্রু ঝরে আমার চোখে,
আমার আমার ভাব ওগো মা আজও জাগে রহি’ রহি’।।

১. আজও অন্যে কষ্ট দিলে / কষ্ট ভাষা কহি।।

মৃত্যু নাই নাই দুঃখ আছে শুধু প্রাণ

বাণী

মৃত্যু নাই, নাই দুঃখ, আছে শুধু প্রাণ।
আনন্ত আনন্দ হাসি অফুরান।।
	নিরাশার বিবর হ’তে
	আয় রে বাহির পথে,
দেখ্ নিত্য সেথায় — আলোকের অভিযান।।
ভিতর হ’তে দ্বার বন্ধ ক’রে
জীবন থাকিতে কে আছিস্‌ ম’রে।
	ঘুমে যারা অচেতন
	দেখে রাতে কু-স্বপন,
প্রভাতে ভয়ের নিশি হয় অবসান।।

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা

বাণী

গ্রহণী-রোগ-সমা গৃহিণী প্রিয়তমা, প্রসীদ! কর ক্ষমা! দেবী নমস্তে।
শতমুখীধারিণী ভীমহুঙ্কারিণী যেন গন্ডারিনী দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে।দেবী নমস্তে।।
চীৎকারে মাঝ রাতে পড়শীরা জেগে যায়
তক্তাপোষের নীচে ছেলে পিলে ভেগে যায়
পদভরে দুদ্দাড় ভেঙ্গে পড়ে ঘর দ্বার
চেড়ীদের সর্দার হাতা-বেড়ী-হস্তে।দেবী নমস্তে।।
শান্ত শিষ্ট এই গোবেচারা স্বামী
তোমার পুলিশ কোর্টে চিরকাল আসামী
তেড়ে আসে বীরজায়া তুমি কুঁদো মোটকা।
বেগতিক দেখে ছুটি আমি রোগা পট্‌কা।
কাঁছাকোঁচা বেসামাল ব্যস্তে সমস্তে।দেবী নমস্তে।।
তুমি পূর্বজন্মে ছিলে ভোজপুরি দারোয়ান
আমি বলীবর্দ তুমি ছিলে গাড়োয়ান;
ময়দা ছিলাম আমি তুমি নিয়ে ঠাসতে।
আহা হা টুটি কেন টিপে ধর? আস্তে, শ্বস্তে।দেবী নমস্তে।।

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই

বাণী

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই
খিড়কি দুয়ার খুলে পথ-পানে চেয়ে' রই।।
	কালো জামের ডালের ফাঁকে
	আমায় দেখে কোকিল ডাকে,
আজও কেন যায় না দেখা তোমার নায়ের ছই।।
চুল বেঁধে আজ সেজেগুজে পিদিম জ্বালাই সাঁঝে,
ঠাকুরঝিরা মুচকি হাসে, আমি মরি লাজে।
	বাদলা রাতে বৃষ্টি ঝরে
	মন যে আমার কেমন করে,
আমার চোখের জলে বন্ধু মাঠ করে থই-থই।।

ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত

বাণী

ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত কাঁদে নয়ান।
অভিমান পরিহর হরি-হৃদি বিহারিণী প্রেম দিয়া জুড়াও এ প্রাণ।
তুয়া বিনা নয়নে অন্যে না হেরি
একই রাধা আছে ত্রিভুবন ঘেরি’
(আমি রাধা ছাড়া জানি’ না
অনন্ত বিশ্বে রাধারই রূপধারা,
রাধা ছাড়া দেখি না)
ভৃঙ্গার ভরি’ তুমি শৃঙ্গার রস
করাও পান, তাই হই যে অবশ।।
তুমি রাধা হয়ে মধু দিলে মাধব হই,
তুমি ধারা হয়ে নামিলে সৃষ্টিতে রই
রাধা, সকলি তোমার খেলা
তবে কেন কর অভিমান, কেন কর হেলা।
প্রতি দেহ-বিম্বে তোরি
পদতলে হর হয়ে রহি তাই ছবি।
হরিরত হর-জ্ঞান মহামায়া হরিলী
(এ যে) তোমারই ইচ্ছা, আমি নিজে নিজে রূপ ধরিণী।
ভোল মানের খেলা
দূরে থেকোনা, দাও চরণ ভেলা
আমি তরে’ যাই, তরে’ যাই
রাধা-প্রেম যমুনায় ডুবিয়া মরে’ যাই।।

পাঠান্তর : রেকর্ডের জন্য কবি এই গানটির বহু অংশ বর্জন করেন।বর্জিত অংশগুলো এই:
গলে দিয়া পীতধড়া গো, পদতলে দিয়া শিখী-চূড়া গো
পদযুগ ধরিয়া চাহি ক্ষমা, ক্ষম অপরাধ প্রিয়তমা!
হরি-মনোরমা ক্ষমা কর গো।।
তব প্রেমে অবগাহন করি সব দাহন চিরতরে জুড়াব
কল্প-কদম-তরু-তলে চিরদিন তোমার প্রেম-কণা কেশর কুড়াব।।