হেলে দুলে নীর ভরণে ও-কে যায়

বাণী

হেলে দুলে নীর ভরণে ও-কে যায়।
(কিশোরী) ছল ক’রে কলসী নাচায়।।
দুলে দোদুল তনু-লতা, বাহু দোলে, দুলে অঞ্চল চঞ্চল বায়।
দুলে বেণী, দুলে চাবি আঁচলায়।।
নাচে জল-তরঙ্গে তটিনী রঙ্গে জলদ্ দাদ্‌রা বাজায়,
(তার পায়) মম পরান নূপুর হতে চায়।।

আবার কি এলো রে বাদল

বাণী

আবার কি এলো রে বাদল।
ল’য়ে পিঠভরা এলোচুল, চোখ ভরা জল।।
তৃষিত গগনের তৃষ্ণা কি মিটিল
কৃষ্ণা-প্রিয়ায় পেয়ে হিয়া কি তিতিল,
কাহার বিরহ-দাহন জুড়াল,
মোর মত কা’র নিশি হইল বিফল।।
ফুটিল কি কদম কেয়া,
দোলে, কা’র বুকে ফুল, কা’র নয়নে দেয়া।
কে গেল অভিসারে, কে কাঁদে ভবনে
কা’র দীপ নিভে গেল দুরন্ত পবনে,
কণ্ঠ-লগ্না কা’র কান্তা ঘুমায়
মোর মত কা’র বুকে জ্বলিছে অনল।।

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই

বাণী

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই
খিড়কি দুয়ার খুলে পথ-পানে চেয়ে' রই।।
	কালো জামের ডালের ফাঁকে
	আমায় দেখে কোকিল ডাকে,
আজও কেন যায় না দেখা তোমার নায়ের ছই।।
চুল বেঁধে আজ সেজেগুজে পিদিম জ্বালাই সাঁঝে,
ঠাকুরঝিরা মুচকি হাসে, আমি মরি লাজে।
	বাদলা রাতে বৃষ্টি ঝরে
	মন যে আমার কেমন করে,
আমার চোখের জলে বন্ধু মাঠ করে থই-থই।।

গুল–বাগিচার বুলবুলি আমি

বাণী

গুল–বাগিচার বুলবুলি আমি রঙিন প্রেমের গাই গজল।
অনুরাগের লাল শারাব মোর আঁখি ঝলে ঝলমল (হায়)।।
	আমার গানের মদির ছোঁয়ায়
	গোলাপ কুঁড়ির ঘুম টুটে যায়,
সে গান শুনে প্রেমে–দীওয়ানা কবির আঁখি ছলছল (হায়)।।
লাল শিরাজীর গেলাস হাতে তন্বী সাকি পড়ে ঢুলে,
আমার গানের মিঠা পানির লহর বহে নহর–কূলে।
ফুটে ওঠে আনারকলি নাচে ভ্রমর রং–পাগল (হায়)।।
	সে সুর শুনে দিশেহারা
	ঝিমায় গগন ঝিমায় তারা,
চন্দ্র জাগে তন্দ্রাহারা বনের চোখে শিশির জল (হায়)।।

১. বনের পাতায়

আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

বাণী

আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।

রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

ধীরে বহ ভোরের হাওয়া ধীরে বহ ধীরে

বাণী

ধীরে বহ ভোরের হাওয়া ধীরে বহ ধীরে
ঘুমায়ে রয়েছে প্রিয়া এই পিয়াল নদীর তীরে।।
	যে ফুল ঝরিল ভোর রাতে
	সে ঘুমায় তাহার সাথে
	ঝরাপাতার মন্দিরে।।
শান্ত উদাস আকাশ নীরবে আছে চেয়ে'
ধীরে বহ নদী সকরুণ গান গেয়ে।
	ছলছল চোখে শুকতারা
	হেরিছে পলক-হারা
	তার বিদায় বেলার সঙ্গীরে।।