কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী

বাণী

কিশোর রাখাল বেশে মেষ চারণে যায় নবী
নীল রেশমি রুমাল বেঁধে তার চারু-চাঁচর কেশে।
তাঁর রাঙা পদতলে পুলকে ধরা টলে
তাঁর রূপ -লাবনির ঢলে মরুভূমি গেল ভেসে।।
তাঁর মুখে রহে চাহি মেষ-শিশু তৃণ ভুলি‌'
বিশ্বের শাহানশাহ আজ মাখে গোঠের ধূলি,
তাঁর চরণ-নখরে কোটি চাঁদ কেঁদে মরে
তাঁর ছায়া ক'রে চলে আকাশে মেঘ এসে।।
কিশোর নবী গোঠে চলে
তাঁর চরণ-ছোঁয়ায় পথের পাথর মোম হয়ে যায় গ'লে
তসলিম জানায় পাহাড় চরণে ঝুকে তাঁহার।
নারাঙ্গি,আঙুর,খরজুর,পায়ে নজরানা দেয় হেসে।।

হে মদিনার বুলবুলি গো

বাণী

হে মদিনার বুলবুলি গো গাইলে তুমি কোন গজল।
মরুর বুকে উঠল ফুটে প্রেমের রঙিন গোলাপ দল।।
দুনিয়ার দেশ-বিদেশ থেকে, গানের পাখি উঠল ডেকে
মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনি উঠল ভেদি গগনতল।।
সাহারার দগ্ধ বুকে রচ তুমি গুলিস্তান
সেথা আস্‌হাব সব ভ্রমর হয়ে শাহাদতের গাইল গান।
দোয়েল কোকিল দলে দলে আল্লা রসূল উঠল ব'লে
আল্‌ কোরানের পাতার কোলে খোদার নামের বইল ঢল।।

খেলা শেষ হল শেষ হয় নাই বেলা

বাণী

খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা।
কাঁদিও না, কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।।
খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে
খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে,
প্রেম-যমুনার তীরে ব’সে রব লইয়া শূন্য ভেলা।।
যাহারা আমার বিচার করেছে — ভুল করিয়াছে জানি,
তাহাদের তরে রেখে গেনু মোর বিদায়ের গানখানি।
	হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল
	বালুকার বুকে ফুটায়েছি ফুল,
তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা — হানো যত অবহেলা।।

পাঠান্তর

খেলা শেষ হল, শেষ হয় নাই বেলা।
কাঁদিও না, কাঁদিও না — তব তরে রেখে গেনু প্রেম-আনন্দ মেলা।।
খেলো খেলো তুমি আজো বেলা আছে
খেলা শেষ হলে এসো মোর কাছে,
প্রেম-যমুনার তীরে ব’সে রব লইয়া শূন্য ভেলা।।
যাহারা আমার বিচার করেছে আর তাহাদের কেহ,
দেখিতে পাবে না কলঙ্ক কালিমাখা মোর এই দেহ।
	হই কলঙ্কী, হোক মোর ভুল
	পৃথিবীতে আমি এনেছি গোকুল,
তুমিও ভুলিতে নারিবে সে-কথা — হানো যত অবহেলা।।

[গানটি ১৯৬৫ সালে জগন্ময় মিত্রের কণ্ঠে রেকর্ডের সময় প্রশিক্ষক কমল দাশগুপ্ত বাণীর কিছু পরিবর্তন করেছিলেন।
যথা: ১. খেলা শেষ হলে যেয়ো, যেয়ো মোর কাছে, ২. হোক অপরাধ হোক মোর ভুল]

ইয়া ইলাহী ইয়া ইলাহী

বাণী

ইয়া ইলাহী! ইয়া ইলাহী!
তব রাহে মোরে কর রাহী।
ফরজ-ওয়াজেব জানি না হে স্বামী
তব নামে মশগুল দিবা-যামী,
চাহিনা শাফায়াৎ বেহেশ্‌ত দৌলত-
	হে প্রভু শুধু তোমারে চাহি।।
পতঙ্গ ধায় যেমন দীপ-পানে
তোমার জ্যোতি মোরে তেমনি টানে,
তোমার বিরহে নিশি-দিন কাঁদি-
	পরানে আমার শান্তি নাহি ৷৷
আমারে রাখো তব প্রেমে ছেয়ে’
বিশ্ব ভুলি যেন তোমারে পেয়ে,
নদী যেমন যায় সাগরে ধেয়ে-
	তেমনি ছুটি যেন তব নাম গাহি ৷৷

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো

বাণী

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়েকেতকী পাতার তরণী
এসো বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে বাহি’ ছায়াপথ-সরণি।
শ্যাম শস্যে কুসুমে হাসিয়া এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরনীরে ভালোবাসিয়া দুর নন্দন-তীর হতে।।

আল্লা রসুল তরু আর ফুল

বাণী

আল্লা রসুল তরু আর ফুল প্রেমিক-হৃদয় জানে।
কেহবা তরুরে ভালোবাসে ভাই, কেহ ফুল ধ’রে টানে।।
কেহবা ফুলের মধু চায়, কেহ চায় সে-গাছের ছায়া
গাছের ছায়ায় জুড়াইয়া পায় গুল্ সুবাসের মায়া,
তুরু ছুঁয়ে বোঝে আল্লা রসুলে রসলীলা কোন্‌খানে।।
কোন জন চাহে গুলের খশ্‌বু, কোন জন চাহে গুল্
খশ্‌বুর সাথে ফুলেরেও চাহে প্রেমিক যে বুল্‌বুল।
জালালের সাথে জামালেও চাহে, প্রেমিক যে বুল্‌বুল।।
আল্লারে ভালোবেসে যার গেছে সকল দ্বিধা ও ভয়
রসুল তাহারে প্রেম দিয়ে কন্, আল্লা যে প্রেমময়,
তিনি যে কেবল বিচারক নন, আল্লা যে প্রেমময়,
মজনুর মত দিওয়ানা সে যে লাইলার মধুপানে।।