ওহে রসিক রসাল কদলী

বাণী

ওহে রসিক রসাল কদলী।
ভাবুকের তুমি ভাবের আধার পেটুকের প্রাণ-পুতলী।।
আহা, তুমি যুগে যুগে বর্তমান
বৃন্দাবনে মোহন বাঁশি বাঙলায় মর্তমান।
বহুরূপী তুমি বহুনামধারী চম্প বীচে কাঁঠালি।।
তোমার কাঁচকলা রূপের উপাসক পেট-রোগা যত ভক্ত,
ঝোলে কি ভাজায় তোমারে সাজায় (তুমি) মজাও পলতা শুক্ত।
নৈবেদ্যে ও আদ্য শ্রাদ্ধে দয়াময়, জগতের যত নর-বানর
তোমার কৃপার কাঙালি।।

কৌতুক নাটিকা : ‘পণ্ডিত মশায়ের ব্যাঘ্র শিকার’

শ্রীকৃষ্ণ নামের তরীতে কে হবি পার

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ নামের তরীতে কে হবি পার কৃষ্ণ নামের তরীতে!
তরাইতে পাপী পতিত মানবে এলো তরী ভব-নদীতে।।
ডাকিছে আর্তজনে বাঁশির সুরে নাইয়া কানাইয়া ‘আয় আয়’ ব’লে
মধুর নামের তরী টলমল দোলে আশ্রিতে পারে নিতে।।
ঘন দুর্দিন-ঘেরা আঁধার সংসার নাম প্রদীপ আশার;
জপ প্রেম-ভরে তাঁহারই প্রিয় নাম (তরঙ্গে) তরী ডুবিবে না আর।
তাঁর নাম পারের তরী, কান্ডারি শ্রীচরণ শরণ নে রে তোরা তাঁরই
নামের আলোকে যাবি রে গোলকে নাম গাহিতে গাহিতে।।

গুঞ্জা-মঞ্জরি-মালা অঞ্চলে শুকায়

বাণী

গুঞ্জা-মঞ্জরি-মালা।
অঞ্চলে শুকায় অভিমানে কালা।।
সহিতে পারি না আর তোমার বিরহ
ধর গিরিধারী মোর বেদনা অসহ,
ভোলাও নীরদ-ঘন-শ্যাম-কৃষ্ণ! তৃষ্ণার জ্বালা।।

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু হে মোহসীন

বাণী

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু, হে মোহসীন।
এ যুগে তুমিই শোধ করিয়াছ এক আল্লার ঋণ।।
ভোগ করনি ক’ বিপুল বিত্ত পেয়ে
ভিখারি হইলে শুধু আল্লারে চেয়ে,
মহাধনী হ’লে আল্লার কৃপা পেয়ে —
দুনিয়ায় তাই রহিলে কাঙাল দীন।।
মানুষের ভালোবাসায় দেখিলে আল্লার ভালোবাসা,
সৃষ্টির তরে কাঁদিয়া পুরালে তব স্রষ্টার আশা।
তব দান তাই ফুরায়ে নাহি ফুরায়
বিত্ত হইলে নিত্য এ দুনিয়ায়,
শিখাইয়া গেলে, মুসলিম তারে কয় —
অর্থ যাহারে কিনিতে পারে না যে নহে লোভ-মলিন।।

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই

বাণী

গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই
খিড়কি দুয়ার খুলে পথ-পানে চেয়ে' রই।।
	কালো জামের ডালের ফাঁকে
	আমায় দেখে কোকিল ডাকে,
আজও কেন যায় না দেখা তোমার নায়ের ছই।।
চুল বেঁধে আজ সেজেগুজে পিদিম জ্বালাই সাঁঝে,
ঠাকুরঝিরা মুচকি হাসে, আমি মরি লাজে।
	বাদলা রাতে বৃষ্টি ঝরে
	মন যে আমার কেমন করে,
আমার চোখের জলে বন্ধু মাঠ করে থই-থই।।

ও সে বাঁশরি বাজায়

বাণী

ও সে		বাঁশরি বাজায় হেলে দুলে যায়
		গোঠে শ্যামরায় নওল কিশোর।
		জোছনা পিয়াসে চাঁদ মুখ পাশে।
		ঘোরে গোপিনীর নয়ন-চকোর।।
		নীল উৎপল ভ্রমে মধুকর
		উড়ে চলে সাথে, ছাড়ি’ সরোবর,
		অঙ্গে গোপী-চন্দন বাস
		লুটিয়া পলায় সমীর-চোর।।
		চরণ-কমলে ভ্রমরের প্রায় —
		সোনার নূপুর গুঞ্জরিয়া যায়।
		শ্যামেরে নবীন নীরদ ভাবিয়া
		নাচিছে ময়ূর কলাপ মেলিয়া,
		ঢেউ তুলে যেন চলে রূপের সায়র।।