মেঘলা নিশি ভোরে

বাণী

মেঘলা নিশি ভোরে মন যে কেমন করে
তারি তরে গো মেঘ-বরণ যার কেশ।
বুঝি তাহারি লাগি’ হয়েছে বৈরাগী
গেরুয়া রাঙা গিরিমাটির দেশ।।

মৌরি ফুলের ক্ষেতে, মৌমাছি ওঠে মেতে
এলিয়েছিল কেশ কি গো তার এই পথে সে যেতে।
তার ডাগর চোখের ঝিলিক লেগে রাত হয়েছে শেষ (গো)।।

শিরিষ পাতায় ঝিরিঝিরি, বাজে নূপুর তারি
সোনাল ডালে দোলে তাহার কামরাঙা রঙ শাড়ি।
হয়েছি মন-ভিখারি কোন্‌ শিকারি আমি
উঠি পাহাড় চূড়ায়, ঝর্না জলে নামি
কালো পাথর দেখে জাগে কার চোখের আবেশ গো।।

এত কথা কি গো কহিতে জানে

বাণী

এত কথা কি গো কহিতে জানে
		চঞ্চল ঐ আঁখি
নীরব ভাষায় কি যে ক'য়ে যায়
	ও সে মনের বনের পাখি।।
বুঝিতে পারি না ঐ আঁখির ভাষা
জলে ডুবে তবু মেটে না পিপাসা,
আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা
	অভিমান মাখামাখি।।
মুদিত কমলে ভ্রমরেরি প্রায়
বন্দী হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়
	সুনীল আকাশে ডাকি'।।

দেশপ্রিয় নাই শুনি ক্রন্দন সহসা

বাণী

‘দেশপ্রিয় নাই’ শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে জাগি’।
আকাশে ললাট হানিয়া কাঁদিছে ভারত চির-অভাগী।।
বহুদিন পরে আপনার ঘরে মা’র কোলে মাথা রাখি’,
ঘুমাতে এসেছে শ্রান্ত সেননী, জাগায়ো না তারে ডাকি’।
দেশের লাগিয়া দিয়াছে সকলি, দেয়নি নিজেরে ফাঁকি —
তাহারি শুভ্র শান্ত হাসিটি অধরে রয়েছে লাগি’।।
স্বার্থ অর্থ বিলাস বিভব গৌরব সম্মান
মায়ের চরণে দিয়াছে সে-বীর অকাতরে বলিদান,
রাজ-ভিখারির ছিল সম্বল শুধু দেহ আর প্রাণ
তাই দিয়ে দিল শেষ অঞ্জলি দানবীর বৈরাগী।।

প্রথম খন্ড

ওলো বিন্দে গোবিন্দে আর দিস্‌নে

বাণী

শ্রীরাধা : ওলো বিন্দে! গোবিন্দে আর দিস্‌নে ব্যথা, দিস্‌নে।
ওর দু নয়নে লো অঝোর ধারে বারি ঝরে, চোখে কি দেখিস্ নে?
চোখের মাথা খেলি নাকি?
[ঐ সজল কাজল চোখ দেখে তুই ঐ ডাগর চোখের চাওয়া দেখে তুই]
ওর অশ্রুত নিবেদন অশ্রুতে ঝরে, ওরে কাঁদিতে দেখিলে মন কেমন করে।
আমি রেইতে নারি — [হ’য়ে নারী সইতে নারি ওর নয়ন-বারি]।
মোর পায়ে ধরার সাধে পদে-পদে অপরাধে আপনারে বাঁধে,
কলঙ্ক হতে, সখি অধিক জোছনা দেয় কলঙ্কী-চাঁদে।
ওরে তাই ভালোবাসি গো — [ত্রিভুবন ভালোবাসে ওরে]।
এ-কুলে ও-কুলে যত নারী আছে, বৃন্দে, গোবিন্দে সকলে চায় —
ও সকলের প্রিয় তবু কারো সে নয় কভু,
প্রেমময় প্রেম দিয়ে কেবলি কাঁদায়, ওরে কে ধ’রে রাখবে?
[ঐ দুরন্তরে বল্ ঐ উড়ন্ত পাখির]
আমারি প্রিয়তমে সকলে বাসে ভালো গরবিনী আমি সেই গরব-ভরে।
নিন্দা করি’, ‘বৃন্দা, বৃন্দাবনে লো — মনে মনে ক্ষমা চাই চরণ ধ’রে।
ওর মন যে জানি লো, [ও চন্দ্রা’র বুকে কাঁদে ‘রাধা, রাধা’ ব’লে]
ওর মনে যদি থাকত কিছু আবেশে, এ বেশে কি আসত?
[চোর কি নিজে দেয় ধরা সই? অ-ধরা, ধরায়, ধরা পড়ত না সই]
ও অত মুখ্যু নয় লো’
[কোটি কোটি মুমুক্ষেরে মোক্ষ দেয় যে, সে অত মুখ্যু নয় লো]
প্রাণ গোবিন্দে, আন্ লো বৃন্দে — জুড়াক এ বুকের জ্বালা।
বনমালী-কণ্ঠে নাহি জড়ালে সখি, প্রাণ-হীন আমি বনমালা!
মোর কৃষ্ণ প্রাণ লো
কৃষ্ণ ধ্যান, কৃষ্ণ জ্ঞান, কৃষ্ণ অভিমান — কৃষ্ণ প্রাণ লো!
মোর কৃষ্ণ বিরহ, কৃষ্ণ কলহ, কৃষ্ণ প্রাণ লো!

‌‘কলহ-কলহান্তরিতা’

দুলে আলো-শতদল টলমল টলমল

বাণী

দুলে আলো-শতদল		টলমল টলমল।
চল লো মেলি’ পাখা		রঙিন লঘু চপল।।
যদি অনল-শিখায়		এ পাখা পুড়িয়া যায়
ক্ষতি কি — ভালোবাসায়	জ্বলিতে আসা কেবল
কাঁটার কাননে ফুল		তুলিতে বিঁধে আঙুল,
মধুর এ পথভুল			ফুলঝরা বনতল।।
চলিতে ফুল দলি,			চাহে যে তারে ছলি,
সেই সে পথে চলি		যে পথে আলেয়া-ছল।।

জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে

বাণী

জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে।
আবার উঠিবে চাঁদ নিরাশার তিমিরে।।
	নিঝুম কাননে থাকি
	ডাকিবে গানের পাথি,
দখিন-সমীরণ আবার বহিবে ধীরে।।
আবার গাঙের জলে আসিবে জোয়ার
জ্বলিবে আশায় দীপ, রবে না আঁধার।
	তোমার পরশ লেগে
	ঘুম মোর যাবে ভেঙে,
একদা প্রভাতে প্রিয় আকুল নয়ন-নীরে।।