গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে

বাণী

গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
দূর গগনে প্রিয় তিমির-‘পারে।।

জেগে যবে দেখি হায় তুমি নাই কাছে
আঙিনাতে ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
বাণ-বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।

মৌন নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।

কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।

মহুয়া বনে আধো নিশিীথ রাতে

বাণী

মহুয়া বনে আধো নিশিীথ রাতে বেণুকা বাজায়ে
	ডাকে গো মোরে কোন বিরহী
সে মানা মানে না, সখি সে কি জানে না
	আমি ভবনের বধূ, বন-বালিকা নহি।।
বন-কেতকী ব’লে তারে চাতকী জানে
তাই কাঁদিয়া মরে চেয়ে মেঘের পানে,
বলে যমুনার জল, ওর ডাক সে যে ছল,
	তাই রোদনের স্রোত হয়ে অকূলে বহি।।

নাটক : ‘মদিনা’

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া

বাণী

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুঁ গো আঁখি খোলো।
প্রিয়তম! এতদিনে বিরহের নিশি বুঝি ভোর হলো।।
মজনুঁ! তোমার কাঁদন শুনিয়া মরু–নদী পর্বতে
বন্দিনী আজ ভেঙেছে পিঞ্জর বাহির হয়েছে পথে।
আজিদখিনা বাতাস বহে অনুকূল,
		ফুটেছে গোলাপ নার্গিস ফুল,
ওগো বুলবুল, ফুটন্ত সেই গুলবাগিচায় দোলো।।
বনের হরিণ–হরিণী কাঁদিয়া পথ দেখায়েছে মোরে,
হুরী ও পরীরা ঝুরিয়া ঝুরিয়া চাঁদের প্রদীপ ধ’রে।
		আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া
		কি বলিতে চাও, হে পরান–পিয়া!
নাম ধ’রে ডাকো ডাকো মোরে স্বামী
		ভোলো অভিমান ভোলো।।

আঁখি তোল আঁখি তোল না

বাণী

	আঁখি তোল আঁখি তোল না,
	দানো করুণা, ওগো অরুণা,
	মেলি’ নয়ন জীর্ণ কানন কর তরুণা।।
	আঁখি যে তোমার বনের পাখি —
	ঘুম যে ভাঙায় আঁধারে ডাকি’,
	আলোর-সাগর জাগাও বরুণা।।
তব 	আনত আঁখির পাতার কোলে
	তরুণ আলোর মুকুল দোলে।
	রঙের কুমার দুয়ারে জাগে,
	তোমার আঁখির প্রসাদ মাগে,
	পাণ্ডুর ভোর হোক তরুণারুণা।।

গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল

বাণী

গিরিধারী লাল কৃষ্ণ গোপাল যুগে যুগে হ’য়ো প্রিয়
জনমে জনমে বঁধু তব প্রেমে আমারে ঝুরিতে দিও॥
	তুমি চির চঞ্চল চির পলাতকা
	প্রেমে বাঁধা প’ড়ে হ’য়ো মোর সখা
মোর জাতি কুল মান তনু মন প্রাণ হে কিশোর হ’রে নিও॥
রাধিকার সম কুব্জার সম রুক্সিণী সম মোরে
গোকুল মথুরা দ্বারকায় নাথ রেখো তব সাথী করে।
	গোপনে চেয়ো সব শত গোপীকায়
	চন্দ্রাবলী ও সত্যভামায়
তেমনি হে নাথ চাহিও আমায় লুকায়ে ভালেবাসিও॥

কাঁদবো না আর শচীদুলাল তোমায় ডেকে ডেকে

বাণী

কাঁদবো না আর শচীদুলাল তোমায় ডেকে ডেকে
		মোরা কাঁদবো না —
(প্রিয়) তুমি গেছ চলে তোমার প্রেম গিয়েছ রেখে 
		তাই কাঁদব না॥
	ত্যাগ যেখানে প্রেম যেখানে
	তোমার মধু-রূপ সেখানে
ওগো জগন্নাথের দেউল তোমায় রাখবে কোথায় ঢেকে॥
হল বৈরাগিনী ধরা তোমার চরণ ধূলি মেখে
তোমার মন্ত্র নিল অসীম আকাশ চাঁদের তিলক এঁকে।
	সুন্দর যা কিছু হেরি
	ওগো রূপ সে শচী-নন্দনেরি
তোমার ডাক শুনি যে আজো হৃদয়পুরীর সাগর থেকে।
তোমার ডাক শুনি যে ওহে প্রিয়
ডাক শুনি যে আজো হৃদয়পুরীর সাগর থেকে॥